মতলব উত্তরে লেংটার মেলায় চলছে অশ্লীলতা

কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য : নৌ পথে চাদাবাজি

0
86

বিশেষ প্রতিনিধি, মতলব উত্তর :
(সরজমিন প্রতিবেদন)
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর (বেলতলী) গ্রামে ঐতিহ্যবাহী শাহ্ সূফী সোলেমান লেংটার মাজারে ৭দিন ব্যাপী ওরশ ও মেলা চলছে।

গত রোববার থেকে মেলা শুরু হয়েছে। ৭ দিনের এ মেলা আগে-পরে এক মাস স্থায়ী থাকে। এ মেলা উপলক্ষে মাজার কমিটি ও আশেপাশের লোকদের কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। মেলা আশেপাশে পাগল ও নেশাখোররা আস্তনা গেড়ে বসেছে। চলছে অশ্লীলতা, অবাধে মাদক বিক্রি ও সেবন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সোলেমান লেংটার বোনের বাড়ী বদুরপুরে মাজারটি অবস্থিত। ১৩২৫ বাংলা সনের ১৭ চৈত্র শাহ্ সূফী সোলেমান লেংটা তার বোনের বাড়ি বদরপুর গ্রামে মৃত্যুবরণ করলে সেখানে কবর দিয়ে মাজার স্থাপন করা হয়।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

প্রতি বছর চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে তার মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ৭দিন ব্যাপী ওরশ্ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং মেলা বসে। ওরশ শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে ও পর পর্যন্ত মেলা স্থায়ী হয়। এছাড়া প্রতি বছর ভাদ্র মাসে ও সপ্তাহের বৃহস্পতিবার মাজারে ভক্তদের আগমন ঘটে।

চৈত্র মাসের ১৭ তারিখের মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থানসহ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক ভক্ত, আশেকান ও সাধারণ জনগণ আসা যাওয়া করেন। ওরশকে কেন্দ্র করে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে মেলায় বসেছে রকমারি দোকান ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভক্তদের আস্তানা। মেলায় বিভিন্ন প্রকার পণ্য বিক্রয় ও ক্রয় হয়। কেউ কেউ মাদক ও অশ্লীলতার মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে রাখে।

৭ দিনের এই মেলায় আগত দোকান থেকে অনুপাতে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। মাজারে মানত মানতে দেয়া হচ্ছে গরু, ছাগল, নগদ অর্থ, আগরবাতি ও মোমবাতি। মাজারে প্রতিদিন উঠছে লাখ লাখ টাকা। সব মিলে এখানে বাণিজ্য হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। এ টাকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এ টাকায় অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনছেন।

সারা বছর এ মাজারটি অর্থ পাওয়ার সেক্টরে পরিণত হয়েছে। এ টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ ও মামলা হয়েছে। কমিটির কয়েকজন দেখে মনে হয় মাজারের আয়ের টাকায় তারা ভালোই আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি বছর ন্যায়ে এখানে চলছে মাদক বিক্রি, সেবন ও অশ্লীলতা। মেলার শুরুর আগেই নেশাখোর মাজারের চারপাশে আস্তানা গেড়ে বসেছে।

জানা যায়, সকল প্রকার মাদকদ্রব্যই পাওয়া যায় এ মেলায়। নেশাখোরদের দেখলেই মনে হয় মেলা প্রাঙ্গন যেন নেশার স্বর্গরাজ্য ও নিরাপদ স্থান। দলে দলে আস্তনা বেধে সেবন করছে মাদক দ্রব্য। মেলা প্রাঙ্গনের বাতাসে বইছে গাঁজার গন্ধ। লেংটার মেলাকে গাঞ্জাসেবিদের মেলা হিসেবে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

এ ছাড়াও নদী পথে চলে ব্যাপক চাঁদাবাজ স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার মাধ্যমে মেলাঢ আগত প্রত্যকটি নৌকা, ট্রলার ও লঞ্চ থেকে ৫ শ থেকে ১ হাজার টাকা চাদা আদায় হচ্ছে।

নরসিংদী থেকে আসা লেংটার ভক্ত অভিযোগ করেন লঞ্চ ঘাট দিয়ে মেলায় আসতে ও যেতে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। জানা গেছে,ওই ঘাটের ইজারাদার জনৈক খোকন চৌধুরী।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, মেলায় সকল প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মাদক বিক্রি ও সেনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আকতার বলেন, মেলার অভ্যন্তরে এতো কিছু হয় তা আমার জানা নেই। আমি সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শুভাশিস ঘোষকে দায়িত্ব দিচ্ছি। তিনি বলেন কোনোক্রমেই মাদক ও অশ্লীলতা বরদাশত করা হবেনা।

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার : ০৭:০৫ পিএম

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
221 জন পড়েছেন