রাশিয়ার অ্যাটমএক্সপোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল

0
18

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্কঃ
রাশিয়ার অবকাশ শহর সোচিতে সোমবার (১৫ এপ্রিল) শুরু হয়েছে পরমাণু শক্তি বিষয়ক ১১তম আন্তর্জাতিক ফোরাম অ্যাটমএক্সপো।
ফোরামটির আয়োজন করছে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম। অ্যাটমএক্সপোর এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘নিউক্লিয়ার ফর বেটার লাইফ’।
দু’দিনব্যাপী ফোরামটিতে বাংলাদেশসহ ৭৪টি দেশের ৩৬শ’র বেশি প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তা, পরমাণু শক্তি বিশেষজ্ঞ ও সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধি। অ্যাটমএক্সপোতে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে কাতার, বাহারাইন ও নিকারাগুয়া।
ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রসাটম) জনসংযোগ শাখার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অংশগ্রহণকারী সবাইকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে গঠনমূলক পরিবেশে অ্যাটমএক্সপো ২০১৯ অনুষ্ঠিত হবে এবং পারমাণবিক শিল্প যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আসবে এ ফোরাম থেকে।
তিনি আরও বলেন, ঐতিহ্যগতভাবেই পরমাণু শিল্পে রাশিয়ার রয়েছে দক্ষ জনবল, বৈজ্ঞানিক ও উৎপাদন সক্ষমতা। রাশিয়া সক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে পার্টনারদের উচ্চ মানসম্পন্ন, নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন সমাধান দিয়ে আসছে।
অ্যাটমএক্সপো ২০১৯ এ অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রণীত কর্মসূচিতে রয়েছে প্ল্যানারি সেশনসহ বিভিন্ন গোলটেবিল বৈঠক। এবারের ফোরামে বেশকিছু দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরেরও কথা রয়েছে। ফোরামে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মোট ১৮টি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা পারমাণুবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময় করার সুযোগ পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ বলেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির সব উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে পরমাণুর শক্তিপূর্ণ ব্যবহার ওতপ্রতোভাবে জড়িত। বর্তমান ফোরাম সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে, যার মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যৎ পৃথিবীর ভিত্তি স্থাপিত হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের এনার্জি বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক গেরাসিমভ থমাস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু সংক্রান্ত ২০৫০ লক্ষ্যমাত্রা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদানের মধ্যে যে ফারাক রয়েছে তা পূরণ করতে পারমাণবিক শক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ গ্রিন হাউজ গ্যাসের নির্গমন ২০৩০ সাল নাগাদ ৪৫ শতাংশ, ২০৫০ নাগাদ ৬০ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
গতবারের মতো ফোরামের সাইডলাইনে এবারেও পরমাণু শক্তি বিষয়ক অনেকগুলো দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। গতবার স্বাক্ষরিত চুক্তির সংখ্যা ছিল ৩৯টি, যার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অংশীদারিত্ব ও বাণিজ্যিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমকেজেড

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
114 জন পড়েছেন