নুসরাত হত্যাঃ ২৭ মার্চ ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা এড়ানো যেত!

0
10

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্কঃ
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতি ছিল কি-না তা খতিয়ে দেখতে দু’দিন ধরে ফেনীতে তদন্ত করছে পুলিশ সদর দফতরের পাঁচ সদস্যের একটি দল।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি (মিডিয়া) শেখ মো. রুহুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও মাদ্রাসা কমিটি যদি ২৭ মার্চের ঘটনার পর যথাযথ ব্যবস্থা নিতো, তাহলে ৬ এপ্রিলের নির্মম ঘটনাটি হয়তো এড়ানো যেত।
ডিআইজি শেখ মো. রুহুল আমীন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক, যত বড় ক্ষমতাধরই হোক না কেন সবার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা সোনাগাজীর বিভিন্ন মহল, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং নুসরাতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি।
ফেনীর এসপি এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ মো. রুহুল আমীন বলেন, আমরা সোনাগাজীতে তদন্ত করেছি, ফেনীতেও করবো। তদন্তের পরেই সব বলতে পারবো। এখনো স্পষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে আমরা ফেনীতে আরও কিছুদিন থাকবো। ওই সময় এখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মেয়েটির পরিবার ও স্বজনসহ সবার সঙ্গে কথা বলবো। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করা হবে।
ফেনী জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ড তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার তিনদিন পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার প্রাথমিক তদন্তের বিষয়গুলো উল্লেখ করে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে সোনাগাজীর ওসিসহ স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। এ ঘটনার জেরে গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায় নুসরাত।
ওই ঘটনায় পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি ও ফেনীর এসপির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল ওসি মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দফতর।

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমকেজেড

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
80 জন পড়েছেন