এবার মুখ খুললেন পপ তারকা মিলার প্রাক্তন স্বামী সানজারী

0
66

ফিচার ডেস্ক

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ব্যক্তিগত জীবন সংকটে কাটছে পপ গায়িকা মিলা ইসলামের। গত ২৪ এপ্রিল ঢাকার বেইলি রোডের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদকর্মীদের কাছে সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন মিলা।

এর আগে সংসারের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনেক পোস্ট দেন মিলা। তবে সেসব পোস্টের বিপরীতে কোনো মন্তব্য করেননি মিলার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারী।

অবশেষে মুখ খুলেছেন পারভেজ সানজারী। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৯ মিনিটে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে মিলার সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের কারণসহ অনেক বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01742057854, +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

পারভেজ সানজারী বলেন, ‘নীরব থাকব বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। দেড় বছর ধরে নীরবই ছিলাম। এই নীরবতা একজন প্রাক্তন স্ত্রী ও তার পরিবারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা প্রদর্শন। কিন্তু এই নীরবতা যখন দুর্বলতা হিসেবে গণ্য হতে থাকে তখন চুপ থাকাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আমি কখনই চাইনি পারিবারিক বিষয়গুলো এভাবে প্রকাশ হোক। আমার পরিবার, আমার শিক্ষা, পেশা, জ্ঞান ও মূল্যবোধ কখনই আমাকে সেটা শেখায়নি। কিন্তু মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ বক্তব্য ফেসবুক ও ইউটিউব-এর মতো সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার এবং গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে আমার ও আমার পরিবারকে নিয়ে যখন বানোয়াট বক্তব্য তুলে ধরা হয় তখন মুখ বুজে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অপ্রিয় সত্যগুলো অনিচ্ছা সত্ত্বেও এভাবে প্রকাশের জন্য আমি শুরুতেই ক্ষমা প্রার্থী।

আমাদের বিয়ে হয় ২০১৭ সালের ১২ মে। সঙ্গীত তারকা মিলার সাথে আমার পরিচয় তারও আগে। কিন্তু বিয়ের পরই তিনি পারিবারিক জীবন সম্পর্কে তার নিজস্ব অস্বাভাবিক ধারাণাগুলো আমার ও আমার পরিবারের ওপর চাপিয়ে দিতে থাকেন। একটি যৌথ পরিবারে কখনই ঘরের বউ-এর তার কাজের বুয়া-দাড়োয়ানকে দিয়ে সিগারেট আনানো, অশালীন কাপড়ে মুরব্বি-মেহমানদের সামনে যাওয়া, তুচ্ছ কথায় বাড়িতে ভাঙচুর করা ও প্রতিবেশীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলা মেনে নেওয়া যায় না। তার প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল আমার চিরায়ত মূল্যবোধের বিরুদ্ধে।

পরিস্থিতি একপর্যায়ে সীমা অতিক্রম করে ফেলে। আমার তাকে বুঝানোর সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আমি ধারণা করেছিলাম সে নিজেকে শুধরে নেবে। কিন্তু সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাও তার আক্রমণের নিশানায় পরিণত হন। বাসাবাড়িতে অশান্তি দেখা দেয়। সব কিছু মিলিয়ে পরিবেশ যখন সহ্যের বাইরে চলে যায় তখন উভয় পরিবারের কাছে আমি বিচ্ছেদের কথা জানাই। কিন্তু বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের পরই পরিস্থিতি আর সংকটময় হয়ে পড়ে। তার দায়েরকৃত সম্পূর্ণ সাজানো ও বানোয়াট নারী নির্যাতন ও দশ লাখ টাকা যৌতুক দাবির মামলায় আমাকে আসামি হতে হয়। তিনি আমাকে আমার কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার করান। যিনি (মিলা) আমাকে কারাগারে পাঠালেন, তিনিই আবার সাক্ষাতে গিয়ে শর্ত দিলেন যে জন্মদাতা পিতা-মাতাকে ত্যাগ করলেই জেল থেকে আমাকে মুক্তি দেবেন। আমার পক্ষে এমন প্রস্তাব মানা সম্ভব ছিল না।’

মিলার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখা সম্ভব ছিল না বলে জানান সানজারী। তিনি বলেন, ‘আসলে আমার পক্ষে মিলার সাথে দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখার আর কোনো উপায় ছিল না। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২২ মে ২০১৮ ইং তারিখে আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। গত ১ বছর ধরে আইনগত ভাবে তার সাথে আমার কোনোরূপ সম্পর্ক নেই। তিনি আমার স্ত্রী নন।

আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আমি জামিনে মুক্ত হই। তার দায়েরকৃত বানোয়াট এই মামলায় আদালত চার্জ গঠনের পর থেকে গত দেড় বছরে উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় মামলার বিচারিক পর্যায়ে আজ অবধি পরপর ছয়টি শুনানির একটিতেও তিনি সাক্ষী দিতে আসেননি, বিজ্ঞ আদালত সমন-জারি করা সত্ত্বেও। অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি একের পর এক আদালত অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েই চলেছেন। অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো তিনি জনসমক্ষে এনে আমাকে হেয়-প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেই যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে চলেছেন। তিনি নিজেই তার বক্তব্যে স্বীকার করেছেন যে, তিনি আমাকে ছাড়বেন না এবং ভক্তদের নিয়ে আমাকে রাস্তায় নামিয়ে জুতাপেটা করবেন (সূত্র : সময় টিভি সাক্ষাৎকার ২৪/০৪/১৯)। আমার জেল-জরিমানাও দাবি করছেন। অথচ আমি এই পর্যন্ত তার প্রতি কোনোরূপ সম্মান হানিকর বক্তব্য কোথাও একবারও উচ্চারণ করিনি। এতকিছুর পরও তিনি হাস্যকরভাবে আমার সাথে সংসার করতে চাইছেন, আমাকে নিজের স্বামীও দাবি করছেন। এই স্ববিরোধিতাপূর্ণ বক্তব্যের বিচারভার আমি আপনাদের কাছে দিলাম।

তার বক্তব্যে এটা সুস্পষ্ট যে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আমার ক্যারিয়ার ধংস করে আমাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করাটাই তার এখন মূল লক্ষ্য। কিছু কল্পনাপ্রসূত বানোয়াট উপাত্ত দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনোটিই সত্যি নয়। অথচ লাগামহীনভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।’

সবশেষে সানজারী বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে আইনের বিচারেই তা সঠিক কি না প্রমাণিত হবে। আপনারা সবাই আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া রাখবেন।’

এদিকে মিলা গত ১৬ এপ্রিল সংসারের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি আগুন-সন্ত্রাসের শিকার নুসরাত জাহান রাফির সঙ্গে নিজের তুলনা করে বলেন, “কত কত জীবিত নুসরাত। আইনের কাছে দাঁড়ান দিনের পর দিন, কিন্তু না মেরে ফেলা পর্যন্ত তাদের জন্য কোনো আওয়াজ উঠবে না। দুই বছর হয়ে যাচ্ছে, কোর্টে উল্টা জঘন্যভাবে চিৎকার দিয়ে অপবাদ দেওয়া হয় আমাকে। বিচার তো দূর। দাখিল করা ‘খ’ ধারার চার্জশিট আমাকে না বুঝতে দিয়ে ‘গ’ ধারায় মামলার চার্জ গঠন করা হয়।”

ফেসবুক স্ট্যাটাসে মিলা আরো বলেন, ‘আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে, আমার জানা ছিল, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কোনো রকমের হস্তক্ষেপে নেত্রীর কঠোর নিষেধ রয়েছে। তিনবার আদালতের আদেশ টানা অমান্য করলে জামিন বাতিল হওয়ার কথা। পাঁচবার আমাকে কোর্ট নানান বুঝ দিয়ে পার্মানেন্ট জামিন দেয়। আমি এখন বলতেও পারি নাই শেষের দিন আমার শাশুড়ি, আমার স্বামীর কথায় আমাকে কীভাবে বাথরুম থেকে দরজা ভেঙে বিনা কাপড় পরিহিত অবস্থায় জঘন্যভাবে টেনে বের করে আমার দেবর তার স্ত্রী এবং তার স্ত্রীর বাবা-মায়ের সামনে এক ঘণ্টা গালিগালাজ করতে থাকে। আমার বাবা ভাইবারে ভিডিও কলের মাধ্যমে পুরা ঘটনা দেখে। একপর্যায়ে আমি হাত জোড় করে ভিক্ষা চাই এই বলে, আম্মু আমাকে মেয়ে বলে নিয়ে আসছিলেন, আমার গায়ে কাপড় নাই… দয়া করে আমাকে ঘরের দরজা বন্ধ করে যা বলার বলেন…কিন্তু এই অপমান করেন না। ভিডিওটা এখনো আমার কাছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে মিলা আরো বলেন, ‘এর চাইতে কাপড় পরা অবস্থায় আমার গায়ে আগুন দিয়ে দিত… আমি যাই বললাম তাতে পুরা মিডিয়া, শিল্পীরা, আমার ভক্তরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার কথা… কাপড় ছাড়া ওই ছেলেকে রাস্তায় নামিয়ে জুতার বাড়ি দিয়ে মারার কথা… তাই না? আমার এই পোস্টটাই তো সবার শেয়ার করার কথা তাই না? কেও করবে নাহ্‌… কেও নাহ.. কারণ আমি বেঁচে আছি…এই মিলা কেন এখনো প্রতিদিন চিৎকার করে কাঁদে উত্তর পাও তোমরা? আমি দেশের জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী?”

এদিকে, গত ২৪ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে পারভেজ সানজারী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ‘বিচার’ চান মিলা। সেই সময় মিলা আরও জানান,পারভেজ সানজারীর সঙ্গে অভিনেত্রী নওশীনের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ ছিল।

মিলা আরো জানান, নওশীনের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্বামীর সম্পর্কের কারণেই সংসারজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।

অন্যদিকে, মিলার সব অভিযোগই সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন অভিনেত্রী নওশীন।তিনি বলেছেন,‘তাঁর (মিলা) অভিযোগ ভিত্তিহীন।আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি।আমাকে ভুল বুঝেছেন মিলা। মিলার সংসার ভাঙতে হলে তো আগে আমার সংসার ভাঙতে হবে। আমি ও হিল্লোল সুখে আছি। মিলার নামে সাইবার ক্রাইমেও আমি কোনো কিছু করিনি। আমি মিলার ভালো চাই। মিলার ব্যক্তিগত বিষয়ে আমাকে না জড়ানোর অনুরোধ করছি।’

নওশীনের মন্তবের পর গত বৃহস্পতিবার ভোরে ফেসবুক লাইভে আসেন পপ গায়িকা মিলা। এ সময় গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও বাবা-মায়ের কষ্টের কথা তুলে ধরলেও খবরের শিরোনাম হয়েছে অভিনেত্রী নওশীনকে নিয়ে। মিলা বলেন, শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল আমার বিচার চাওয়া নিয়ে। আমি বিচার চাই (সাবেক স্বামীর)। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো যে কয়েকজন মেয়ের নাম উল্লেখ করেছেন, অভিনেত্রী নওশীন ‘তাঁদের একজন’ বলে মন্তব্য করেন।

১০ বছর প্রেমের পর ২০১৭ সালের মে মাসে পাইলট পারভেজ সানজারীকে বিয়ে করেন মিলা। অথচ বিয়ের মাত্র ১৩ দিন পরেই তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এরপর বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁদের।

সূত্র : এনটিভি অনলাইন

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার : ০৮:০৮ পিএম

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
185 জন পড়েছেন