নারী নির্যাতনকারী সেই জাতিসংঘ কর্মকর্তার মামলা পিবিআইয়ে

0
6

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্কঃ
নারী নির্যাতনকারী সেই জাতিসংঘ মানবাধিকার কর্মকর্তা এবিএম সাদিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করার জন্য এবার পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৮ এপ্রিল রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের (২) বিচারক এবিএম জহুরুল গণি চৌধুরী এ আদেশ দেন।
জানতে চাইলে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের (২) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ইসমত আরা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালতের আদেশটি এরই মধ্যে পিবিআইকে পাঠানো হয়েছে। আদেশের কপি দ্রুতই হাতে পাবে পুলিশের বিশেষ এ তদন্ত সংস্থাটি।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত আদালতের ওই আদেশের কপিটি এসে পৌঁছেছে কিনা প্রশ্নে রাজশাহী পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। অনেক মামলা আসে। তবে অফিসে যাওয়া ছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে মামলাটি নিয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।
অভিযোগ রয়েছে, বাগমারা থানা পুলিশ আসামির সঙ্গে যোগসাজশ এবং বাদী ও সাক্ষীর সঙ্গে কথা না বলেই চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেয় রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে (২)। তবে আদালতের কাছে ওই রিপোর্ট মিথ্যা ও বানোয়াট মনে হওয়ায় বাদী-সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলে সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে ১৮ এপ্রিল এ নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্তমানে অভিযুক্ত আসামির লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও সাক্ষীকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাধ্য হয়ে মামলার সাক্ষী সম্প্রতি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
আসামি এবিএম সাদিকুর রহমান জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেই বাদী মুনমুন, তার মা-বাবা ও সাক্ষী হুমায়ন কবীরকে কখনো ফোনে, কখনো সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। গত ১০ এপ্রিল বাদী রাজশাহী কোর্টে নারাজি দিতে যায়। কিন্তু আসামিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে না নিলে এবং কোর্টে এলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এছাড়া মামলার মূল সাক্ষী বাদীর বড় ভাই হুমায়ন কবীরকে ঢাকায় তার কর্মস্থলের পাশে ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ কয়েকজন সন্ত্রাসী মামলা তুলে নিতে বলে। একই সঙ্গে কোর্টে সাক্ষী দিতে গেলে তার প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে সাক্ষী হুমায়ন করীর শাহবাগ থানায় ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ সাধারণ ডায়েরি-(জিডি নম্বর- ১০৭৬) করেন।
রাজশাহীর রাগমারা থানার ভবানীগঞ্জ বাজারের মো. মজিবুর রহমান মোল্লার ছেলে আসামি এবিএম সাদিকুর রহমান সোহেলের সঙ্গে ২০০৮ সালে মোহনপুর থানার তাহেরপুর পাকুড়িয়ার মো. নূর হোসেনের মেয়ে মামলার বাদী সানজিদা মুনমুন লিপির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে সোহেল যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতে থাকে তাকে। ২০১২ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার রিফিউজি হাইকমিশনে চাকরি পাওয়ার পরে তার মধ্যে বিলাসিতা বেড়ে যায়।
সংসারে একটি ছয় বছরের ছেলে থাকার পরেও স্ত্রীকে আরও বেশি করে নির্যাতন করতে থাকে। সবশেষ গত ঈদুল ফিতরের দিন ১৬ জুন বাগমারায় শ্বশুরবাড়ি গেলে সানজিদাকে স্বামী সাদিকুর সোহেল এবং তার দুই বোন, এক ভাই ও বাবার সহযোগিতায় ব্যাপকভাবে নির্যাতন করে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর সানজিদা বাগমারা থানায় অভিযোগ করলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে অবশেষে ঘটনার ২৩ দিন পরে ৯ জুলাই থানা মামলা গ্রহণ করে। মামলার পরে আসামি ১৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এ হাজিরা দিয়ে জামিন চাইলে আদালত আসামি সাদিকুরের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকার পরে আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেই বিভিন্নভাবে বাদীসহ সাক্ষীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমকেজেড

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
66 জন পড়েছেন