দুই হাতে অস্ত্র চালাতো অমিত, জেলখানায় ইটেই খতম!

0
636

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

http://picasion.com/

স্ত্রীর গায়ে হাত দিয়েছে বন্ধু ইমরানুল করিম ইমন। এমন অজুহাতে ইমনকে বাসায় ডেকে এনে হত্যার পর মরদেহ একটি ড্রামে ভরে ইট বালু সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করেছিলেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী অমিত মুহুরী। তারপর ড্রামটি ফেলা হয় পুকুরে। পরে সেই ড্রাম থেকে লাশ উদ্ধার হয়। রহস্য উম্মোচনের পর কারাগারে যায় অমিত মুহুরী।

অপরাধীদের জন্য বাংলাদেশ কারাগারের স্লোগান ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ স্লোগান নিয়ে বন্দীদের জন্য নিরাপদে রাখার অঙ্গীকারাবদ্ধ কারাগারেই ছিল অমিত মুহুরী। তবে এই স্থানটিও নিরপদ থাকলো না।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত, মেহ-প্রমেহ) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন :
হাকীম মিজানুর রহমান
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

মোট তিনজন বন্দি ৬নং সেলে বন্দি থাকা অবস্থায় বুধবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে কারারক্ষী মো. শাহ পরান দেখেন- হাজতি বন্দি রিপন নাথ একটি ভাঙা ইট দিয়ে অমিত মুহুরীর মাথায় আঘাত করছে। ইটটি মাথা সুচালো ছিল। তাৎক্ষণিক কর্তব্যরত কারারক্ষী মো. শামীম উদ্দিন সেলের সামনে পৌঁছেন। পরে সেখানে ডাকেন সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. হুমায়ুন কবিরকে। এরপর কক্ষের তালা খুলে অমিত মুহুরীকে উদ্ধার করে প্রধান ফটকে নিয়ে আসা হয়। ফটক থেকে করারক্ষী মো. আবদুর রহমান, গোলাম জিলানী ও ফার্মাসিস্ট মো. রুহুল আমিন অ্যাম্ব্যুলেন্সযোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ১১টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ২৮নং ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টা ১৫ মিনিটে অমিত মুহুরী মারা যান। মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় রিপন নাথের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন জেলার নাশির আহমেদ।

অমিত মুহুরীর সুরতাহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক সঞ্জয় পাল। সুরতাল প্রতিবেদনে মৃতদেহ প্রাপ্তির সময় লেখা হয় রাত ১২টা ৩০ মিনিট। আর বাদী মৃত্যুর সময় লিখেছেন রাত ১টা ১৫ মিনিট। সুরতাহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অমিতের মৃত্যুর সময় পরনে একটি কালো ট্রাউজার ছিল।

কারাগারের ভেতরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীরকে এই কমিটির প্রধান করে এক কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তদন্তের দায়িত্ব পেয়েই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে যান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাশহুদুল কবীর। এছাড়াও কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদী হাসান এবং গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কারাগার থেকে বের হয়ে  আলাপকালে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, আসামি রিপন নাথ ও বেল্লালের ভাষ্য নেওয়া হয়েছে। আসামি রিপন নাথের দাবি, তিনি রাগের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেছেন। কেন কী কারণে রাগ? এমন প্রশ্নের জবাবে আসামি নীরব ছিলেন। ওই কক্ষে থাকা অন্য হাজতি বেল্লাল দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবার অমিত মুহুরীর আদালতে হাজিরা ছিল। হাজিরা থাকলে আগের রাতে মুহুরী দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। বুধবার রাতেও ১০টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর ঘুমিয়ে পড়েন বেল্লাল নিজেও। কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ বেল্লালের ঘুম ভেঙে যায়। তখন দেখে রিপন একটি ইটের টুকরো নিয়ে মুহুরীর মাথায় আঘাত করছে। তখন বেল্লাল দ্রুত উঠে রিপনে কোমরে ধরে ফেলে মুহুরীকে না মারতে। কিন্তু রিপন বাধা না মেনে মুহুরীর মাথায় আঘাত করতে থাকে। পরে সেখানে পৌঁছে কারারক্ষীরা।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, আসামি রিপন নাথকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেছেন। আগামী সোমবার রিমান্ড শুনানি হতে পারে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বোঝা যাবে, প্রকৃতপক্ষে কেন এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটল।

কারাগারের ভেতরে হত্যাকাণ্ড বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইজি প্রিজন ফজলুল হক বলেন, কারাগারের ভেতরে ইট কীভাবে এলো সেই বিষয়ে তদন্ত হবে। প্রাথমিকভাবে রিপন ও বেল্লালের সঙ্গে কথা বলে তাদের মধ্যে পূর্ব শত্র“তা আছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু পুরো বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে কারা কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার তদন্ত করে গেছে।

কারাগারের একটি সূত্র জানিয়েছেন, বুধবার পাঁচটায় লকআপের পর রিপন নাথের সঙ্গে অমিত মুহুরীর তর্ক হয়। সেই তর্কের পরই রাতে ইটের আঘাতে রিপন নাথ আঘাত করেন মুহুরীকে। তবে কী নিয়ে তর্ক সেটা গতকাল পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। কারাগারের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মুহুরী নিজের সেবায় সেলে থাকা বন্দীদের ব্যবহার করতো। এই নিয়েই তর্ক হয়ে থাকতে পারে।

দুর্দান্ত প্রতাপশালী অমিত মুহুরী দুই হাতে অস্ত্র নিয়ে সমানে বন্দুক চালিয়েছেন জীবদ্দশায়। সিআরবি এলাকায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে শিশুসহ জোড়াখুন মামলার আসামি মুহুরী পরবর্তীতে বন্ধুকে খুন করে ড্রাম ভর্তি করতে হাত কাঁপেনি। কিন্তু কারাগারের ভেতরে মাত্র অপর একজন বন্দীই তাকে ইটের আঘাতে ঘায়েল করে। ৩২ নম্বর সেলের ৬ নং কক্ষের ভেতরেই মূলত জীবনলীলা সাঙ্গ হয় এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর।

ময়নাতদন্ত শেষে অমিত মুহুরীর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর মরদেহ ডিসি হিল এলাকায় নেওয়া হলে সেখানে মুহুরীর অনুসারীরা জড়ো হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর মরদেহ রাউজানে গ্রামের বাড়িতে সৎকারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়

অমিত মুহুরীর মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজহারে বাদী উল্লেখ করেন, কোতোয়ালী থানার নন্দনকানন ৩৭ গোলাপ সিং লেইন মতিন বিল্ডিংয়ের ৩য় তলার বাসিন্দা অরুণ মুহুরীর ছেলে অমিত মুহুরী (৩২) ২০১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে হাজতি পরোয়ানামূলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। কোতোয়ালী থানার হত্যা মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর আরো ১৬টি অন্তর্বতীকালীন হাজতি পরোয়ানা পাওয়া যায়। কারাগারে ৩২নং সেলের ৬নং কক্ষে অন্তরীণ ছিলেন মুহুরী। ওই কক্ষে রিপন নাথ (২৮) (হাজতি নম্বর ৭১৩২/১৯) বন্দি ছিল। রিপন নাথ সীতাকুণ্ড থানার ফেদানগর হেমন্ত সরকার বাড়ির নারায়ন নাথের ছেলে। ডবলমুরিং থানার অস্ত্র আইনের একটি মামলায় রিপন হাজতিবন্দি হিসেবে আছে। এছাড়া সেই কক্ষে বেল্লাল নামের আরেক হাজতি বন্দি অন্তরীণ আছে।

জেলার নাশির আহমেদ কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করার পর সেটি তদন্তের জন্য নগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ মাহাবুবর রহমান। নির্দেশনার পর মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক বিকাশ সরকারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জোড়াখুনসহ অসংখ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত অমিত মুহুরীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল ১৭টি। ভয়ংকর এই সন্ত্রাসী অনুসরণ করতেন চট্টগ্রামের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী হেলাল আকবর বাবরকে। বন্ধু ইমরানুল করিম ইমনকে হত্যার পর ২০১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতিবন্দী (হাজতি নম্বর ১৫১৬৯/১৭) ছিলেন অমিত মুহুরী।

আজ বৃহস্পতিবার ডিসি হিল এলাকায় মুহুরীর মরদেহ পৌঁছার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন শীর্ষ সন্ত্রাসী হেলাল আকবর বাবর। বন্ধু ইমনকে খুন করে মরদেহ ড্রাম ভর্তি করে পুকুরে ফেলার পর মুহুরীকে কুমিল্লার মাদকনিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে দিয়েছিলেন এই বাবর। এর আগে রাতে হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় অমিত মুহুরীর শতাধিক অনুসারীরা। তারা হাসপাতালের কলাপসিবল গেট ও জানালা ভাঙচুর করে।

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার : ০২:১৩ পিএম

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
413 জন পড়েছেন
http://picasion.com/