254

মতলব উত্তরে প্রবাসী নারীকে ইউপি সদস্যের ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

মতলব উত্তর প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এক প্রবাসী নারীকে প্রেম নিবেদনের পর সাড়া না দেয়ায় বিভিন্নভাবে উত্তোক্ত ও পরে জোরপূর্বক ধর্ষণর চেষ্টা করে এক যুবক। এ ঘটনায় চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে ওই নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০০ইং সনের (সংশোধিত ২০০৩ইং) ৯ (৪) (খ) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামী করা হয় একই উপজেলার আমিনপুর গ্রামের আঃ কাদির প্রধানের ছেলে ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য খোকন প্রধানকে (৩৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড় হলদিয়া গ্রামের ওই গৃহবধু প্রবাস থেকে ছুটিতে আসেন। এরপর থেকে আসামী খোকন প্রধান তাকে বিভিন্নভাবে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসতো। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে উত্তোক্ত করতো। এ অবস্থায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারী বাদী তার এক আত্মীয়ের বাড়ি বড় হলদিয়া গ্রামের প্রধানিয়া বাড়িতে বেড়াতে আসলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে ও খারাপ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আচরণ করে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য খোকনকে মৌখিকভাবে বাঁধা নিষেধ করলে সেখানেই তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টা করে সে। অনেক ধস্তাধস্তি করে ধর্ষণের হাত থেকে বেঁচে যায় সে। তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোক আসতে থাকলে খোকন পালিয়ে যায়। তার এ কর্মকান্ডে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হন ওই নারী। পরে এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সুষ্ঠু বিচার না পেয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন ওই নারী।
এদিকে মামলা হওয়ার পর উক্ত মামলা চাঁদপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মামুনুর রশিদ সরকার এর কাছে তদন্ত ভার ন্যস্ত হয়। তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা আগামী ৪ মে সকালে বাদী, বিবাদী ও সকল সাক্ষীদেরকে চাঁদপুর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য একটি নোটিশ জারি করেছেন।
নির্যাতিত ওই নারী সাংবাদিকদের জানান, খোকন মেম্বার অনেকদিন যাবৎ আমাকে উত্তোক্ত করে আসছে। তাকে কিছু বললেই সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আমার মানসম্মান নিয়ে সে খেলেছে। আমি আদালতের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার সেলামতী গ্রামের মো. এমারত হোসেনের মেয়ে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য খোকন জানান, আমি একজন শিক্ষিত ব্যক্তি। একটি নামী দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত আছি। আমাকে সমাজে হেয় পতিপন্ন করার জন্য একটি কুচক্রি মহল মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেস্টা করছে। গত ফেব্রুয়ারী মাসে সরকারি রাস্তার কাজ করতে গিয়ে ভেকু মেশিন যাওয়ার পথে ওই মহিলার একটি টয়লেট ভেঙ্গে যায়। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, পরে এসে জানতে পারি। এ বিষয়টা নিয়ে ওই মহিলাকে দিয়ে কিছু মানুষ আমাকে ফাঁসাতে চক্রান্ত করছে।

প্রকাশিত : ০১ মে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমকেজেড

362 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন