ফণী মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান রিজভীর

0
10

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্কঃ
উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকাসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আগাম প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (২ মে) নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
রিজভী বলেন, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা যেন উদ্ধারকর্মীর মতো প্রস্তুত থাকে। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আঘাত হানার আগেই উপকূলীয় অসহায় মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি। তারা নিজেদের নিরাপত্তার পাশাপাশি অন্যদের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট থাকবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীসহ উদ্ধারকর্মীদের প্রস্তুত থাকার জন্য দলের পক্ষ থেকে আহ্বান জানাচ্ছি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা নিয়ে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হচ্ছে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ফণী। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের উপকূল থেকে ‘ফণী’র দূরত্ব ধীরে ধীরে কমে আসছে। অতি প্রলয়ঙ্কারী ফণী’র আকার বাংলাদেশের আয়তনের চেয়েও বড়। উপকূলে উঠে আসার সময় ‘ফণী’র গতি হতে পারে ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটারের বেশি। বাংলাদেশের খুলনা ও তৎসংলগ্ন উপকূলের দিকে ধাবিত ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রতিনিয়ত শক্তি বাড়ছে।
তিনি বলেন, ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতরের বার্তায় বলা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে গত ৪৩ বছরে এপ্রিল মাসে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ‘ফণী’ সবচেয়ে শক্তিশালী। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের উপকূল আছড়ে পড়ার পরই ‘ফণী’ বাঁক নিয়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা ও সুন্দরবন অঞ্চলের ওপর আঘাত হানবে ‘আইলা’র চাইতে ভয়াল রুপ নিয়ে।
রিজভী বলেন, এক প্রলয়ংকরী দুর্যোগের আলামত সুস্পষ্ট হলেও সরকার তা মোকাবিলা করতে কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি। তাই এই মুহূর্তে সবাইকে পূর্ণ সতর্ক হতে হবে। বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে। সব উপকূল অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমান, তেল রিজার্ভার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র-এসব নিরাপদ করার এখনই সময়।
রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, যেকোনো বড় দুর্যোগ-দুর্বিপাক মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল’ আছে। তিনি সভা না করে বিদেশ চলে গেলেন। কোনো আন্তমন্ত্রণালয় সভা নেই। উপকূলীয় জেলা পর্যায়ে জরুরি সভা নেই। তিন বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, কোস্টগার্ড, আনসার এদের নিয়ে কোনো সভা করা হয়নি। উদ্ধারকাজে কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।

প্রকাশিত : ০২ মে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমকেজেড

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
78 জন পড়েছেন