ঘূর্ণিঝড় ফণীকে পুঁজি করে ট্রলার-স্পিডবোটের ভাড়া বাণিজ্য

0
9

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্কঃ
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে দেশের ব্যস্ততম কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল। এদিকে কর্তৃপক্ষের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও নৌরুটে বেপরোয়া আচরণ করছে স্পিডবোটগুলো। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিনে এবং রাতে নৌরুটে চলাচল করে স্পিডবোটগুলো।
আর লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকা এবং ফেরি চলাচল সীমিত হওয়ার কারণে ট্রলার এবং স্পিডবোটে করে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ২শ’ থেকে আড়াইশ টাকা করে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে স্পিডবোট চালকেরা এবং ট্রলারে নেওয়া হচ্ছে একশ থেকে দেড়শ টাকা করে ভাড়া।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ফণী’র কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএ। লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও শিমুলিয়া পার থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল করতে দেখা যায়। শুক্রবারও এ ধারা অব্যাহত ছিল। কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকলেও শিমুলিয়া ঘাট থেকে অহরহ চলছে স্পিডবোট ও ট্রলার। নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
শুক্রবার দুপুরে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে প্রশাসন অভিযান চালালে স্পিডবোট ও ট্রলার চালকদের নৈরাজ্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে রাতে চলাচলে নিষেধ থাকা সত্ত্বেও স্পিডবোট চালানোর দায়ে ৯ জন চালককে আটক করেছে পুলিশ।
নৌরুটে পারাপার হওয়া একাধিক যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, লঞ্চ বন্ধ থাকায় শিমুলিয়া ঘাট থেকে ট্রলার এবং স্পিডবোটে করে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আসা যাচ্ছে। তবে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। ট্রলারে ১শ এবং স্পিডবোটে দুইশ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র কাঁঠালবাড়ী লঞ্চ ঘাটের টার্মিনাল পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন,‘ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই আমরা লঞ্চ বন্ধ রেখেছি। স্পিডবোটও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্পিডবোটের অসাধু চালকেরা ঘাট থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে যাত্রী নিয়ে পদ্মা পার হচ্ছে।’
বিআইডব্লিউটিসি’র কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম মিয়া জানান, ‘উপকুলীয় অঞ্চলগুলোতে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাব থাকলেও কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটের পদ্মা নদী অপেক্ষাকৃত শান্ত রয়েছে। শুক্রবার দুপুর কিছু সময় ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। তবে দুপুরের পর থেকে ৫টি ফেরি চলাচল করছে। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের একটা অংশ ফেরিতে পারাপার হচ্ছে। উভয় ঘাট থেকেই পরিবহনের চাইতে যাত্রীদের প্রাধান্য দিয়ে পার করা হচ্ছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) আবির হোসেন বলেন,‘বৈরী আবহাওয়ার মাঝে নৌ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো কোনো স্পিডবোট চালক ঘাটের বাইরে গিয়েও অনেক সময় যাত্রীদের পারাপার করছে। এ বিষয়ে যাত্রীদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। তবে রাতেও পুলিশের টিম ঘাট এলাকায় রয়েছে। যাতে করে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো স্পিডবোট চলাচল না করতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষ লেগে একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোট ডুবে মুরাদ নামে এক ব্যক্তি মারা যায়। এ দুর্ঘটনায় আমির হামজা (৬) নামে এক শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ যাত্রী। এদের মধ্যে নিখোঁজ আমির হামজার বাবা, মা ও ভাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিখোঁজ আমির হামজার বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্পিডবোটটি রাতে শিমুলিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আসছিল।

প্রকাশিত : ০৩ মে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমকেজেড

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
109 জন পড়েছেন