কীভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরা রোজা রাখবেন

0
116

আল্লামা হাফেজ আহমাদুল্লাহ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

প্রধান মুফতি, আল জামিয়া আল ইসলামিয়া, পটিয়া, চট্টগ্রাম।

রোগের কারণে ডাক্তার যদি বলে, রোজা রাখলে রোগের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে বা সুস্থতা বিলম্বিত হতে পারে, তাহলে রোজা ভাঙা যায়। কিন্তু সামান্য অসুখ, যেমন—মাথা ব্যথা, সর্দি, কাশি, অনুরূপ কোনো সাধারণ রোগ-বালাইয়ের কারণে রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ নয়। তবে রোগের কারণে যেসব রোজা ভঙ্গ হয়, সেগুলো পরে একটির বদলে একটি কাজা করে নিতে হবে।

রোজা পালনে রোগ বৃদ্ধি পেলে পরহেজগারি মনে করে রোজা পালন করা অনুচিত। এ অবস্থায় রোজা ভঙ্গ করা জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের নিজেদের হত্যা কোরো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তোমাদের প্রতি অতিশয় দয়ালু।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯)

অতিশয় বৃদ্ধের জন্য রোজা পালন জরুরি নয়। তবে ওই ব্যক্তি অন্য কাউকে দিয়ে কাজা আদায় করাবে বা ফিদিয়া দেবে। প্রতিটি রোজার জন্য একজন মিসকিনকে এক বেলা খাবার খাওয়াবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শক্তিহীনদের কর্তব্য হচ্ছে ফিদিয়া দেওয়া, এটা একজন মিসকিনকে অন্নদান করা।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৪) মৃত্যুমুখী বৃদ্ধলোক অথবা এমন রোগে আক্রান্ত হলে, যা থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, এমন অক্ষম ব্যক্তি প্রতিটি রোজার পরিবর্তে পৌনে দুই সের গম (ফিতরার পরিমাণ) অথবা সমপরিমাণ মূল্য আদায় করবে। ইসলামের পরিভাষায় এটাকে ফিদিয়া বলা হয়। (জাওয়াহিরুল ফিকাহ : খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২৯)

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন : হাকীম মিজানুর রহমান, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), হার্টের ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

রোজা অবস্থায় মস্তিষ্ক অপারেশন

রোজা অবস্থায় মস্তিষ্ক অপারেশন করালে রোজা ভাঙবে না, যদিও মস্তিষ্কে কোনো তরল কিংবা শক্ত ওষুধ ব্যবহার করা হয়। কেননা মস্তিষ্ক থেকে গলা পর্যন্ত সরাসরি কোনো নালিপথ নেই। তাই মস্তিষ্কে কোনো কিছু দিলে তা গলায় পৌঁছে না। [সূত্র : (ক) ইবনে আবিদিন, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ৩৯৫; (খ) মোল্লা নিজাম উদ্দীন, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড-১, পৃ. ২০৩]

 রোজা অবস্থায় চোখে ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার

চোখে ড্রপ, ওষুধ, সুরমা, মলম ইত্যাদি ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় উপলব্ধি হয়। কারণ চোখে ওষুধ ইত্যাদি দিলে রোজা না ভাঙার বিষয়টি হাদিস ও ফিকাহশাস্ত্রের মূলনীতি দ্বারা প্রমাণিত। [সূত্র : (ক) জাদিদ ফিকহি মাসায়িল, খণ্ড-১, পৃ. ১৮৩; (খ) আলিম ইবনুল আলা, আল-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, খণ্ড-২, পৃ. ৩৬৬)

মুখে ওষুধ ব্যবহার করা

মুখের অভ্যন্তরে কোনো ওষুধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে, সেই ওষুধ যত স্বল্প পরিমাণই হোক না কেন। অতএব কেউ যদি রমজানে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু গিলে ফেলে, তাহলে তার ওপর ওই রোজার কাজা-কাফফারা উভয়টা ওয়াজিব হবে। (ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, পৃষ্ঠা ২২৩)

রোজা অবস্থায় অক্সিজেন ব্যবহার

নাকে অক্সিজেন নিলে রোজা ভেঙে যাবে। কেননা শরীরের ভেতর ও বাইরে থেকে কোনো কিছু প্রবেশ করার যে চার নালি রয়েছে, নাক তার অন্যতম। তাই নাকে অক্সিজেন নিলে রোজা ভেঙে যাবে। [সূত্র : (ক) ইবনে আবিদিন, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ২০০; (খ) খুলাসাতুল ফাতাওয়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২৫৩]

রোজা রেখে রক্ত দেওয়া ও নেওয়া

শরীরে রক্ত নিলে বা নিজ শরীর থেকে কাউকে রক্ত দান করলে কোনো অবস্থায়ই রোজা নষ্ট হবে না। কারণ রক্ত দেওয়ার কারণে কোনো বস্তু দেহের অভ্যন্তরে ঢোকেনি, তাই তাতে রোজা নষ্ট হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর রক্ত নিলে যেহেতু উক্ত রক্ত শরীরের উল্লেখযোগ্য চার নালি থেকে কোনো নালি দিয়ে প্রবেশ করানো হয় না, বরং শরীরের অন্যান্য ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়ে থাকে। সুতরাং রোজা অবস্থায় কারো শরীরে রক্ত দান করলে বা নিজে রক্ত গ্রহণ করলে রোজা নষ্ট হবে না। [সূত্র : (ক) আল-কাসানি, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ৯২; (খ) ইবনে আবিদিন,   খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৪০০; (গ) ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২০০]

রোজা অবস্থায় এন্ডোস্কোপি করা

এন্ডোস্কোপি বলা হয়, চিকন একটি পাইপ মুখ দিয়ে ঢুকিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানো। পাইপটির মাথায় বাল্বজাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটির অপর প্রান্তে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। একে এন্ডোস্কোপি বলা হয়। সাধারণত এন্ডোস্কোপিতে নল বা বাল্বের সঙ্গে কোনো মেডিসিন লাগানো থাকে না। তাই এন্ডোস্কোপি করালে রোজা ভাঙবে না। তবে যদি নল বা বাল্বে মেডিসিন লাগানো হয়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। তেমনিভাবে টেস্টের প্রয়োজনে কখনো পাইপের সাহায্যে ভেতরে যদি পানি ছিটানো হয়, তখনো রোজা ভেঙে যাবে। (সূত্র : জাদিদ ফিকহি মাসায়িল, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ১৮৬)

রোজা অবস্থায় ইনজেকশন নেওয়া

ইনজেকশন নিলে রোজা নষ্ট হবে না। চাই তা গোস্তে নেওয়া হোক বা রগে। কারণ ইনজেকশনের সাহায্যে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশকৃত ওষুধ গোশত বা রগের মাধ্যমেই প্রবেশ করানো হয়ে থাকে, যা অস্বাভাবিক প্রবেশপথ, তাই এটি রোজা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য কারণ নয়। [সূত্র : (ক) ইবনে আবিদিন, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ৩৯৫; (খ) ইবনু নুজাইম, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ২৭৮; (গ) আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ২১৪)

রোজা রেখে এনজিওগ্রাম করা

এনজিওগ্রাম করালে রোজা নষ্ট হবে না। এনজিওগ্রাম বলা হয় হার্টের রক্তনালি ব্লক হয়ে গেলে ঊরুর গোড়ার দিকে কেটে একটি বিশেষ রগের ভেতর দিয়ে (যা হার্ট পর্যন্ত পৌঁছে) ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করাকে। ওই ক্যাথেটারে কোনো মেডিসিন লাগানো থাকলেও যেহেতু তা রোজা ভঙ্গের কোনো গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে গ্রহণযোগ্য স্থানে পৌঁছায় না, তাই তার দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না। (সূত্র : আল-মালাকাতুল ফিকহিয়া,  খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ১২৪)

নাকে ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার

নাকে ড্রপ, ওষুধ, পানি ইত্যাদি দিয়ে ভেতরে টেনে নিলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ নাক রোজা ভেঙে যাওয়ার অন্যতম রাস্তা। কেননা নাকে ড্রপ ইত্যাদি নিলে তা গলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। [সূত্র : (ক) ইবনে আবিদিন, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ২০০; (খ) খুলাসাতুল ফাতাওয়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২৫৩]

রোজা অবস্থায় নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার

নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। এটি অ্যারোসলজাতীয় একটি ওষুধ, যা হার্টের রোগীদের এভাবে ব্যবহার করানো হয় যে দু-তিন ফোঁটা ওষুধ জিহ্বার নিচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। এতে সেই ওষুধ যদিও শিরার মাধ্যমে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়, তার পরও ওষুধের কিছু অংশ গলায় পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তাতে রোজা ভেঙে যাবে। আর এর মধ্যেই রয়েছে সতর্কতা। তবে যদি ওষুধটি ব্যবহারের পর না গিলে থুতু দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে রোজা ভাঙবে না। কেননা শুধু শিরার মাধ্যমে কিছু ঢুকলে রোজা ভাঙে না। (সূত্র : ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, পৃষ্ঠা ৩২৫)

রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার

সালবিউটামল ও ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। শ্বাসকষ্ট দূর করার জন্য ওষুধটি মুখের ভেতরভাগে স্প্রে করা হয়। এতে যে জায়গায় শ্বাসরুদ্ধ হয় সেই জায়গাটি প্রশস্ত হয়ে যায়। ফলে শ্বাস চলাচলে আর কষ্ট থাকে না। উল্লেখ্য, ওষুধটি যদিও স্প্রে করার সময় গ্যাসের মতো দেখা যায়, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে তা দেহবিশিষ্ট তরল ওষুধ। অতএব মুখের অভ্যন্তরে স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ, মুখে স্প্রে করার পর না গিলে যদি থুতু দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না। এভাবে কাজ চললে বিষয়টি অতি সহজ হয়ে যাবে। এতে শ্বাসকষ্ট থেকে রেহাই পাওয়ার পাশাপাশি রোজা ভঙ্গ হবে না। অনেককে বলতে শোনা যায় যে ইনহেলার অতি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়, তাই এতে রোজা ভঙ্গ হবে না। তাঁদের এ উক্তিটি একেবারে হাস্যকর। কেননা কেউ যদি ক্ষুধার তাড়নায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে অতি প্রয়োজনে কিছু খেয়ে ফেলে, তাহলে অতি প্রয়োজনে খাওয়ার কারণে তার রোজা কি ভঙ্গ হবে না? অবশ্যই ভেঙে যাবে। সুতরাং ইনহেলার অতি প্রয়োজনে ব্যবহার করলেও তার দ্বারা রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে তার কাজা দিতে হবে। [সূত্র : (ক) ইবনে আবিদিন, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ৩৯৫; (খ) ফাতাওয়ায়ে ফক্বীহুল মিল্লাত ৫/৪৫৯, (গ) হেদায়া ১/১২০]

কোনো কোনো চিকিৎসক বলেন, সাহিরতে এক ডোজ ইনহেলার নেওয়ার পর সাধারণত ইফতার পর্যন্ত আর ইনহেলার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। তাই এভাবে ইনহেলার ব্যবহার করে রোজা রাখা চাই। হ্যাঁ, কারো যদি বক্ষব্যাধি এমন মারাত্মক আকার ধারণ করে যে ইনহেলার নেওয়া ছাড়া ইফতার পর্যন্ত অপেক্ষা করা দায় হয়ে পড়ে, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ রয়েছে যে তারা প্রয়োজনভেদে ইনহেলার ব্যবহার করবে ও পরবর্তী সময় রোজা কাজা করে নেবে। আর কাজা করা সম্ভব না হলে ফিদিয়া আদায় করবে। আর যদি ইনহেলারের বিকল্প কোনো ইনজেকশন থাকে, তাহলে তখন ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করবে। কেননা রোজা অবস্থায় ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙবে না। (সূত্র : ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, পৃষ্ঠা ৩২৪)

রোজা অবস্থায় স্যালাইন ব্যবহার

স্যালাইন নিলে রোজা ভাঙবে না। কেননা স্যালাইন নেওয়া হয় রগে। আর রগ রোজা ভাঙার গ্রহণযোগ্য কোনো ছিদ্র বা রাস্তা নয়। তবে রোজার দুর্বলতা দূর করার উদ্দেশ্যে স্যালাইন নেওয়া মাকরুহ। [সূত্র : (ক) আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ২৮৮)

রোজা অবস্থায় প্রস্রাবের রাস্তায় ওষুধ ব্যবহার

পুরুষের প্রস্রাবের রাস্তা ও নারীদের লজ্জাস্থানে ওষুধ ইত্যাদি ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হবে না। তেমনিভাবে প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে বা নারীদের লজ্জাস্থানে কোনো ওষুধ ভেতরে প্রবেশ করালেও রোজা ভঙ্গ হবে না। কেননা সেখান থেকে এমন কোনো স্থানে তা পৌঁছে না, যেখানে পৌঁছলে রোজা ভেঙে যায়। বরং মূত্রনালি বা জরায়ু তথা গর্ভাশয়ে পৌঁছে মাত্র। আর মূত্রনালি বা গর্ভাশয় রোজা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য খালি জায়গা নয়। তাই রোজা নষ্ট হবে না। (আল-মালাকাতুল ফিকহিয়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ১১৪-১১৫)

রোজা অবস্থায় ঢুস ব্যবহার

ঢুস নিলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ ঢুস মলদ্বারের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করে। আর মলদ্বার রোজা ভাঙার রাস্তা ও পথ। [সূত্র : (ক) ইবনে আবিদিন, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৩৭৬; (খ) আল-মারগিনানি, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২২০]

রোজা অবস্থায় ইনসুলিন ব্যবহার

রোজা অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগী ইনসুলিন নিলে রোজা নষ্ট হবে না। কারণ ইনসুলিন রোজা ভাঙার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য কোনো খালি স্থানেও পৌঁছে না। [সূত্র : (ক) ইবনে আবিদিন, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৩৬৭; (খ) ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, পৃষ্ঠা ৩২৭]

রোজা অবস্থায় প্রক্টোস্কোপি করা

প্রক্টোস্কোপি করালে রোজা ভেঙে যাবে। পাইলস, ফিশার, ফিস্টুলা, অর্শ, বুটি, হারিশ ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোস্কোপি বলে। মলদ্বার দিয়ে নল ঢুকিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়। যদিও নলটি পুরোপুরি ভেতরে ঢোকে না, কিন্তু যাতে ব্যথা না পায় সে জন্য নলের মধ্যে গ্লিসারিনজাতীয় পিচ্ছিল কোনো বস্তু ব্যবহার করা হয়। ডাক্তারদের মত অনুসারে, যদিও সেই পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সঙ্গে চিমটে থাকে এবং নলের সঙ্গেই বেরিয়ে আসে, ভেতরে থাকে না, আর থাকলেও তা পরবর্তী সময় বেরিয়ে আসে, শরীর তা চোষে না, তা ছাড়া সেই বস্তুটি ভেজা হওয়ার কারণে এবং কিছু সময় ভেতরে থাকার দরুন রোজা ভেঙে যাবে। আর এর মধ্যেই রয়েছে সতর্কতা। [সূত্র : ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, পৃষ্ঠা ৩৩০]

রোজা অবস্থায় ডিঅ্যান্ডসি করা

ডিঅ্যান্ডসি করালে রোজা ভেঙে যাবে। গর্ভধারণের আট সপ্তাহ থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে ডিলেটরের মাধ্যমে জীবিত কিংবা মৃত বাচ্চা বের করে নিয়ে আসাকে সংক্ষেপে ডিঅ্যান্ডসি বলে। যেহেতু গর্ভধারণের দুই মাসের মধ্যে সাধারণত সন্তানের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভালোভাবে সৃষ্টি হয় না। কেননা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সৃষ্টি হওয়ার জন্য কমপক্ষে গর্ভধারণের পর থেকে ১২০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে হবে। এমতাবস্থায় কোনো ব্যক্তি যদি অসুস্থতার কারণে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যথার কারণে গর্ভপাত করা হয়, অতঃপর যদি রক্তস্রাব হয়, তাহলে তা নিফাস (সন্তান প্রসবের পর অব্যাহত নির্গত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে না। বরং ওই স্রাব যদি তিন দিন বা ততোধিক স্থায়ী হয়, তখন তা হায়েজ (ঋতুস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তিন দিন থেকে কম হয়, তখন তা ইস্তেহাজা (রোগ) হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং যদি হায়েজ হয়ে থাকে, তখন রোজা সহিহ হবে না। আর যদি ইস্তিহাজা হয়, তখন তার রোজা নষ্ট হবে না, বরং শুদ্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং এভাবে গর্ভপাতের পর সঙ্গে সঙ্গে রোজা নষ্ট হবে না, বরং তাকে রোজা রাখতে হবে। (ইবনে আবিদিন, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ৩০২)

রোজা অবস্থায় ল্যাপারোস্কোপি বায়োপসি

পেট ছিদ্র করে শিকজাতীয় একটি মেশিন ঢুকিয়ে পেটের ভেতরের কোনো অংশ, গোশত ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য বের করে আনাকে ল্যাপারোস্কোপি বলে। এমন করলে এতে রোজা নষ্ট হবে না। কারণ রোজা ভাঙার জন্য রোজা ভঙ্গকারী বস্তু শরীরের ভেতরে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করা ও প্রবেশের পর সঙ্গে সঙ্গে বের না হয়ে ভেতরে ততক্ষণ সময় পর্যন্ত স্থায়ী থাকা আবশ্যক, যতক্ষণ ভেতরে থাকলে এই বস্তু বা তার অংশবিশেষ হজম হয়ে যায়, এখানে এর কোনোটি পাওয়া যায়নি। তবে শিকের মধ্যে কোনো ধরনের মেডিসিন লাগানো থাকলে এবং তা মলদ্বার পর্যন্ত নাড়িভুঁড়ির যেকোনো জায়গায় পৌঁছলে রোজা ভেঙে যাবে। (আল-মালাকাতুল ফিকহিয়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ১২৪-১২৫)

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
242 জন পড়েছেন