প্রেমের ফাঁদে ফেলে মানুষকে বেকায়দায় ফেলে সর্বস্ব কেড়ে নিত ওরা

0
70

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

প্রথমে বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতো ওরা। তারপর সেই নম্বর দেওয়া হতো সিন্ডিকেটের তরুণী সদস্য শ্রাবণীকে। সে ওই নম্বরে মিসড কল দিত। তারপর খোশগল্প শুরু করতো। একপর্যায়ে ফাঁদে ফেলা হতো প্রেমের। তারপর দেখা করার নাম করে নিয়ে যেত সিন্ডিকেটের এক সদস্যের বাসায়।

টার্গেট করা ব্যক্তি বাসায় ঢোকার পরপরই সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা কেউ পুলিশ, কেউ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখাতো। বিষয়টি তার নিজের পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতো। আটকে রেখে আদায় করতো অর্থ।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন :
হাকীম মিজানুর রহমান
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ রকম এক সিন্ডিকেটকে শনিবার (১১ মে) গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পশ্চিম) একটি দল। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা এক ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নগদ টাকা ও তার ব্যক্তিগত গাড়িটিও হাতিয়ে নিয়েছিল। পুলিশ সেই গাড়িটিও উদ্ধার করেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহাদাত হোসেন সুমা বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতরা সবাই প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা আরও একাধিক ব্যক্তিকে একই কায়দায় অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ১ মে, সামছুল হক জামান নামে এক ব্যক্তি উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তার ব্যবসায়িক অংশীদার ও গাড়িচালক মোস্তফাকে বিশেষ কৌশলে আশুলিয়া যাওয়ার কথা বলে অজ্ঞান করে প্রাইভেটকারটি নিয়ে যায়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তারা প্রযুক্তির সহযোগিতায় একটি সিন্ডিকেটকে শনাক্ত করে। পরে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সিন্ডিকেটের পাঁচ সদস্য নুরজাহান বেগম (৪৪), জাকির (৩০), মানিক (২৩), মাসুম (২২) ও শ্রাবণীকে (১৮) আটক করে।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া এলাকা থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, আসলে গাড়িচালক মোস্তফা প্রেমের ফাঁদে পড়ে অর্থ ও গাড়িটি খুইয়েছেন।

যেভাবে ফেলা হয় প্রেমের ফাঁদ
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, নুরজাহান উত্তরা এলাকার ফুটপাতে কাঁচা সবজির ব্যবসা করে। সে এবং জাকির মিলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে বিভিন্ন মানুষের মোবাইল সংগ্রহ করতো। সেই নম্বরটি দেওয়া হতো শ্রাবণীকে।

শ্রাবণী বিভিন্ন কৌশলে টার্গেট করা ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতো। এক পর্যায়ে শ্রাবণী তার বাসায় টার্গেট করা ব্যক্তিকে আসতে বলতো। তাকে নিয়ে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের জাকিরের বাসায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সব কিছু কেড়ে নিত।

জিজ্ঞাসাবাদে জাকির, মানিক ও মাসুম জানায়, তারা শ্রাবণীর মাধ্যমে টার্গেট করা ব্যক্তিকে বাসায় নেওয়ার পরপরই নিজেরা বাসায় ঢোকে। বিবাহবর্হিভূত অবৈধ সম্পর্কের কারণে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিকে আটকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে তাকে মারধর করে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে। পারিবারিক ঝামেলা ও সামাজিক সম্মানের ভয়ে প্রেমের ফাঁদে পড়ার কথা ভিকটিমরা এড়িয়ে যায়। এ সুযোগে অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে আসছিল।

মোস্তফার অর্থ ও গাড়ি নিয়েছিল যেভাবে
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মানিক জানায়, তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার শতগ্রাম ইউনিয়নের রাঙ্গালীপাড়া গ্রামে। বাবার নাম নওশের আলী। নুরজাহান তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী। জাকির ও মাসুম তার প্রতিবেশী। জবানবন্দিতে মানিক জানায়, নূরজাহান ও জাকিরের নেতৃত্বে তারা শ্রাবণীর মাধ্যমে গাড়িচালক মোস্তফাকে নিয়ে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের জাকিরের বাসায় নিয়ে যেতে চায়। সেখানে যাওয়ার আগেই তারা মোস্তফাকে অজ্ঞান করে সঙ্গে থাকা অর্থ ও গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

মানিক জানায়, মোস্তফার কাছ থেকে গাড়ি ও টাকা নিয়ে তারা নরসিংহপুরের বাসাও পরিবর্তন করে ফেলে। এরপর সবাই আত্মগোপনের জন্য দিনাজপুরে চলে যায়। সেখান থেকে আবার আশুলিয়া ও ঢাকায় আসলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জাকির জানিয়েছে, তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার নগর চেংঠী এলাকায়। তার বাবার নাম দুলাল। নূরজাহানের মাধ্যমে সে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে লোকজনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতো। সে এবং নুরজাহান মিলে মোস্তফাকে টার্গেট করে। গ্রেফতার হওয়া আরেক অভিযুক্ত মাসুম তার জবানবন্দিতে জানিয়েছে, তার বাবার নাম ছোট একাব্বর। গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার শতগ্রাম ইউনিয়নের রাঙ্গালীপাড়ায়। সে জাকির ও নূরজাহানের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

জিজ্ঞাসাবাদে শ্রাবণী জানায়, ছোটবেলায় তার বাবা মারা যাওয়ার পর সে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে খালার বাড়িতে কিছুদিন থাকে। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বিএসএফ তাকে ধরে শিলিগুড়ির একটি শেফহোমে পাঠায়। সেখান থেকে সে বছর দুয়েক আগে দেশে ফেরে। এরপর থেকে আশুলিয়ায় গার্মেন্টসে কাজ করেছে। পরে জাকির ও নুরজাহানের সঙ্গে পরিচয় হলে তাদের সঙ্গে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রতারণা চক্রে যোগ দেয়। শ্রাবণীর গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলার ডোমার থানার বানোয়ারি পাড়ায়।

গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা এর আগে উত্তরা এলাকার একজন বয়স্ক লোককে ফাঁদে ফেলে কিছু অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিল। তবে ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, এই চক্রের দলনেতা নূরজাহান ও জাকির মিলে শ্রাবণীকে ব্যবহার করেছে। অন্য দুজনও অর্থের লোভে তাদের হয়ে কাজ করতো।

 

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার : ১১:০৮ এএম

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

 

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
156 জন পড়েছেন