নুসরাতকে বাঁচাতে কনস্টেবল রাসেলের ভূমিকার প্রশংসা : পুরস্কৃত করার প্রস্তাব

0
143

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

পুলিশ সদর দফতর থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে নুসরাতকে বাঁচাতে কনস্টেবল রাসেলের সাহসীপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যদের চোখে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে ফেনীর এসপিসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলা ও গাফিলতি প্রমাণ যেমন মিলেছে তেমনি অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে (৬ এপ্রিল) কোলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কনস্টেবল রাসেলের ভূমিকাও ছিল সাহসীপূর্ণ। প্রতিবেদনে এই কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

পুলিশ সদর দফতরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন :
হাকীম মিজানুর রহমান
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনে পুলিশ কনস্টেবল রাসেলের প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে রাসেল কোলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এজন্য তার হাত পুড়ে গেছে। দ্রুত নুসরাতকে হাসপাতালে নেওয়া না হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যেতেন। ঘটনার সময় (৬ এপ্রিল) সকাল পৌনে দশটায় মাদ্রাসার গেটে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে রাসেলসহ তিন কনস্টেবল দায়িত্বরত ছিলেন। কিন্তু অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মাদ্রাসার দারোয়ান মো.মোস্তফার ছাড়া অন্য কেউ সহযোগীতার জন্য এগিয়ে আসেনি। যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টিকে অবহেলার চোখে দেখেছেন সেখানে কনস্টেবল রাসেল পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আইজিপির নির্দেশেই গত ১৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (মিডিয়া) রুহুল আমিনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ তদন্ত টিমের অপর সদস্যরা হচ্ছেন সিআইডি চট্টগ্রাম রেঞ্জের একজন বিশেষ পুলিশ সুপার, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সদর দফতরের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন পরিদর্শক।

তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি এসএম রুহুল আমিন গত ৩০ এপ্রিল রাতে পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট শাখায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র)মো. ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে এবং এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল আহমদকে খাগড়াছড়ি জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নিহত নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম শ্রেণির আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় অধ্যক্ষের ভাগ্নি পপি। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার জোরালো অভিযোগ ওঠে। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।

প্রকাশিত : ১৫ মে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার : ১১:০৬ এএম

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
387 জন পড়েছেন