হাজীগঞ্জে যুবলীগ কর্মীদের হাতে আ. রহমান মোল্লা লাঞ্ছিত

0
483

চাঁদপুর রিপোর্ট প্রতিবেদক :

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শুরুর পূর্বে বুধবার (১৫ মে) বিকেলে স্থানীয় ৪নং কালোচোঁ যুবলীগ নেতা কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত ও প্রহৃত হলেন হাজীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহমান মোল্লা ও ৪নং কালোচোঁ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি শাহজালাল মজুমদার।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

জানা যায় ওইদিন হাজীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার আয়োজন থাকলেও এ দুনেতাকে যুবলীগ নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত ও মারধর করার কারণে সভাটি স্থগিত হয়ে যায়।

জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোঃ মাঈনুদ্দিন বলেন, ‘অনিবার্য কারণে সভাটি স্থগিত করা হয়েছে। পরে নোটিশের মাধ্যমে পুনরায় তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।’

তবে এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বর্ধিত সভা ডেকে সাধারণ সম্পাদক নিজেই অনুপস্থিত ছিলেন। বর্ধিত সভায় সাধারণ সম্পাদকের না আসায় নেতাকর্মীরা ফুঁসে উঠেছে।’

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ জাকির হোসেন সোহেল বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একতরফা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সকলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তবে একতরফা সিদ্ধান্ত উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ মানে না।’

তিনি দাবি করে বলেন, ‘যারা জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তারা যেন আওয়ামী লীগের কোনো দায়িত্ব না পান সে বিষয়ে সবাই ঐক্য ঘোষণা করেছেন।’

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাজীগঞ্জ বাজারের ডাকবাংলোয় আয়োজিত বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের একটি অংশ প্রবেশ করতে গেলে ওই সময় আবদুর রহমান মোল্লা ও শাহজালাল মজুমদার যুবলীগের তোপের মুখে পড়ে। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সভাটি স্থগিত হয়ে যায়। সভায় স্থানীয় সাংসদ মেজর অবসরপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এদিকে, সভা পণ্ড হয়ে যাওয়ায় ইফতারের খাবারগুলো এতিমখানায় দিয়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আবদুর রহমান মোল্লা স্বেচ্ছাচারীভাবে নানা কর্মীকান্ড করে ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনীতিকে কলুষিত করছেন। সাধারণ বিষয়েও তিনি স্থানীয় এমপির কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে থাকেন। এমপির কানভারী করে যুবলীগকে বিতর্কিত করে তুলছেন। এছাড়াও ঢাকায় বসে তিনি এলাকার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করেন, যার খেসারত এলাকার নেতাকর্মীদেরকে দিতে হয়। তিনি দুর্নীতি করে অঢেল টাকার মালিক হয়েছেন, যা এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে। এছাড়াও তিনি এলাকার রাজনীতিকে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। চাঁদাবাজি সহ নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে তিনি নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়েন।

তারা আরো জানায়, আবদুর রহমান মোল্লা নানা অসামাজিক কাজ করে এমপির নাম বলে মানুষকে হুমকি ধমকি প্রদান করেন। এবং এমপির নামে নানা নানা আদেশ নিষেধ প্রচার করেন। এছাড়াও তিনি স্থানীয় ৪নং কালচোঁ ইউনিয়নে চলমান নানাপ্রকার সালিশকেও প্রভাবিত করে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন।

প্রকাশিত ১৬ মে ২০১৯ খ্রি. বৃহস্পতিবার

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
213 জন পড়েছেন