রহস্যময়ী অভিনেত্রী রাবিনা : কোথায় আছেন কেউ বলতে পারে না!

0
115

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সালমান শাহ’র চলে যাওয়ার পর নির্মাতারা খুঁজছেন একজন সুদর্শন নায়ক, সালমানের বিকল্প। যার উপর বাজি ধরা যায়। সেসময় নতুন নায়ক রিয়াজের ব্যস্ততা বাড়ছিলো একটু একটু করে। ঠিক তখনই ১৯৯৭ সালের ১২ ডিসেম্বর মুক্তি পায় মহম্মদ হাননানের ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’।

ছবির হৃদয়গ্রাহী গল্প ছুঁয়ে গেল দর্শকের মন। বিশেষ করে রোমান্টিক গল্প আর সংলাপ দিয়ে সিনেমাটি প্রেমযুগলদের মনে দাগ কেটে গেল। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর-সংগীতে শ্রুতিমধুর কিছু গানও ছড়িয়ে পড়েছিলো দেশের সব অঞ্চলে।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন :
হাকীম মিজানুর রহমান
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

সদ্য আগত স্যাটেলাইটের সুবাদে এই ছবির ‘পড়ে না চোখের পলক’ গানটি হয়ে উঠলো বাংলাদেশের ড্রয়িং রুমের প্রিয় গান। আর সেই সুবাদে ছবিটি তো সুপারহিট হলোই, রিয়াজ হয়ে গেলেন তারুণ্যের হার্টথ্রব। তারসঙ্গে তারকা বনে গেলেন এক অপরিচিত নায়িকাও, যাকে দেখা গেছে রিয়াজের বিপরীতে।

সেই নায়িকা কে ছিলেন? নিশ্চয়ই চোখ বন্ধ করে ভাবছেন সেই নায়িকার মুখ? কেউ কেউ হয়তো কৈশোরের স্মৃতিতে ভেসে যাবেন তাকে স্মরণ করতে গিয়ে। একটা নতুন শতাব্দীর শুরুর লগ্নে নতুন একটা প্রজন্ম এই নায়িকাকে দেখেছেন রোমান্টিকতার রাজমুকুট পড়া। অনেকে তাকে শাবনূর, মৌসুমীদের পাশাপাশি স্বপ্নের মানবী হিসেবেও কল্পনায় এঁকেছেন। তাকে নিয়ে নিশ্চয়ই হৃদয়ের কোণায় জমে আছে প্রেম ও প্রেমিকাদের নানা রঙের হা হুতাশ।

তিনি রাবিনা। পর্দায় যাকে মুম্বাইয়ের নায়িকা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। নামের বানানটিও এভাবেই। সুন্দর চেহারা, ভুবন মাতানো হাসি, ডাগর ডাগর দুটি চোখ, মিষ্টি কণ্ঠের সংলাপ দিয়ে বাংলাদেশের দর্শক মাতিয়ে দিয়েছিলেন রাবিনা।

শুধু তাই নয়, প্রাণের চেয়ে প্রিয় ছবির বিখ্যাত গান ‘পড়ে না চোখের পলক’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই নামের একটি সিনেমাও বানিয়েছিলেন মহম্মদ হাননান। সে ছবির জুটি ছিলেন শাকিব খান ও রত্না। ছবিটি ব্যবসা সফল ছিলো।

এমনি সাফল্যমন্ডিত চলচ্চিত্রের পর তিন বছরের বিরতি দিয়ে প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা মহম্মদ হাননান আবারও রাভিনাকে হাজির করলেন বাংলাদেশের সিনেমায়। এবারও তার নায়ক তৎকালীন সুপারস্টার রিয়াজ। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া এ ছবির নাম ‘সাবধান’।

রোমান্টিক হিরোর ইমেজ ভেঙে এই ছবিতে রিয়াজ হাজির হলেন অ্যাকশন হিরোর ভূমিকায়। ভয়ংকর এক চরিত্রে দেখা গেল তাকে। আর রাবিনা প্রেমের বৃষ্টি হয়ে নেমেছিলেন নিষ্প্রাণ হৃদয়ের রিয়াজের বুকে। অ্যাকশন ভিত্তিক গল্পের ছবিতে রাবিনার রোমান্স দর্শকের মন কেড়েছিলো।

আবারও পরিচালক ও নায়ক-নায়িকার এই জুটিকে দেখা গেল ‘দলপতি’ সিনেমায়। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতেও মুগ্ধ করেছিলেন রাবিনা।

এরপর আর তাকে দেখা যায়নি বাংলাদেশি কোনো ছবিতে। কোথায় আছেন তিনি বর্তমানে? আর কেন কখনই বাংলাদেশি ছবিতে দেখা যায়নি তাকে? তার সম্পর্কে খোঁজ করতে গিয়ে পাওয়া গেল না কোনো তথ্যই।

যেন রহস্যময়ী এক নারীর নাম রাবিনা। যার নামের বানান থেকে শুরু করে তার পরিচিতির সবকিছু নিয়েই রয়েছে ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা। কেউ বলেন রাভিনা, সিনেমায় তার নাম উঠতো রাবিনা। আবার কেউ কেউ তাকে রভিনা নামেও পরিচিত করেছেন।

তার অবস্থানগত পরিচিতি নিয়েও রহস্য। কেউ বলেন মুম্বাইয়ের মেয়ে। কেউ তথ্য দিলেন কলকাতার। কেউ বলেছেন কলকাতারই মেয়ে তবে বেড়ে উঠেছেন মুম্বাইয়ে। ফেসবুক ও অনলাইন ঘেঁটে কিছু তথ্য আবার পাওয়া গেল, তিনি ভারতের দক্ষিণের নায়িকা।

নিজের এই নায়িকাকে নিয়ে চিত্রনায়ক রিয়াজও তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘রাবিনা চমৎকার একজন অভিনেত্রী ছিলেন। ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে যে কয়টি ছবি করেছেন তিনি সবকয়টিরই নায়ক আমি। আমাদের ছবিগুলো সুপারহিট ছিলো। তিনি মুম্বাইয়ের মেয়ে হয়েও বাংলা ভাষার সিনেমার প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল। ২০০১ সালের পর তার সঙ্গে আমারও কোনো যোগাযোগ নেই।

একবার জানলাম ফেসবুক তার বিশাখা নামে আইডি রয়েছে। সেই আইডিতে অবশ্য যোগাযোগ হয়নি আমার। তার সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো বলতে পারতেন নির্মাতা মহম্মদ হাননান। তিনিই রাবিনাকে উপহার দিয়েছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রে। তার সঙ্গেই হয়তো যোগাযোগ ছিলো। তার মৃত্যুর পর কেউ আর রাবিনার কথা মনে রাখেনি। বহুদিন পর রাবিনার কথা শুনে ভালো লাগলো। যেখানেই থাকুন, রাবিনা ভালো আছেন এটাই প্রত্যাশা করি।’

এদিকে চলচ্চিত্র সাংবাদিক ও গবেষক আব্দুল্লাহ জেয়াদ জানান, মূলত মুম্বাইয়ের নায়িকা হিসেবে পরিচিতি পেলেও রাবিনা কলকাতারই মেয়ে। সেখানেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তবে তিনি ক্যারিয়ার গড়তে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সাফল্য পাননি। এখন হয়তো কলকাতাতেই আছেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক আগে রাবিনার ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। সেখানে তার ব্যক্তিজীবনের অনেক অজানা গল্পই উঠে এসেছিলো। লেখাটি খুঁজে দেখতে হবে। হয়তো কিছু তথ্য মিলতেও পারে। তিনি অন্যদেশ থেকে এসে এখানে তিনটি ছবি করে সাফল্য পেয়েছিলেন। বিশেষ করে ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ ছবিটি ইতিহাস তৈরি করা ছবি। তিনি ভালো অভিনেত্রীও ছিলেন। তাকে আবারও ঢাকাই সিনেমায় দেখা গেলে ভালোই হবে।’

তার মৃত্যু হয়েছে বলেও গুঞ্জন-গল্প শোনা যায়। এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ জেয়াদ বলেন, ‘এমনটা আমি শুনিনি। মহাম্মদ হাননান ভাই বেঁচে থাকতে যদি উনি মারা যেতেন তবে হয়তো শোনতাম। তার মৃত্যু হলেও হাননান ভাইয়ের পরে অর্থাৎ ২০১৪ সালের পরে হয়েছে হয়তো।’

মৃত্যু হোক বা যেখানেই আড়ালে থাকুন রাবিনা, নায়ক রিয়াজের বিপরীতে ‘পড়েনা চোখের পলক’ গানে বাংলা চলচ্চিত্রে চিরসবুজ হয়ে থাকবেন তিনি। আবার একই সিনেমার খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপার গাওয়া ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’ গানেও রাবিনার নাম থেকে যাবে এদেশের রোমান্টিক গানের ইতিহাসে।

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার : ১২:৪২ পিএম

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
156 জন পড়েছেন