হাইমচরের সিএনজি স্ট্যান্ড কোথায়? চাঁদার লাখ লাখ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা

সিএনজির যত্রতত্র পার্কিং ক্রেতাশূন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

0
110

সাহেদ হোসেন দিপু, হাইমচর প্রতিনিধি :
হাইমচরে সিএনজির নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় যেখানে সেখানেই পার্কিং করা হচ্ছে সিএনজি সহ ইজিবাইক। ফলে উপজেলা সদর আলগী বাজারের প্রতিটি সড়কেই ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ পথচারিদের ব্যপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্ট্যান্ড না থকেলেও উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কতিপয় প্রভাবশালী চক্র জিপি নামক লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলে ভাগভাটোয়ারা করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার সদর আলগীবাজারের বিসমিল্লাহ মোড়, অগ্রনী ব্যাংক মোড়, বড় মসজিদ মোড়, হাসপাতাল মোড়, থানা রোডসহ প্রতিটি মোড়েই (সড়ক) ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে সিএনজির অস্থায়ী স্ট্যান্ড করায় ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে ব্যবসায়ী ও পথচারিগন। মোড়গুলোতে যানজট লেগেই থাকে প্রতিনিয়ত। এ থেকে পরিত্রান পেতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ব্যবসায়ী, পথচারিসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।

সরজমিনে দেখা যায় হাইমচর উপজেলার প্রান কেন্দ্র সদর আলগী বাজার ঘুরে দেখা যায়, এবাজারে প্রায় ৫ শতাধিক এর উপরে ব্যবসা পতিষ্ঠান রয়েছে। বাজারের প্রতিটি মোড় গুলোর রাস্তার দুপাশের দোকান গুলোই সিএনজির ধারা বেশিরভাগ ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। উপজেলায় প্রায় ৩/৪শত এবং বহিরাগত প্রায় ১শত সিএনজি, ইজিবাইক ও প্রাইভেট কার প্রতিনিয়িত চাঁদপুর হাইমচরে যাতায়াত করে থাকে। এ গাড়ি গুলোর জন্য নির্দিষ্ট কোন স্ট্যান্ড না থাকায় গাড়ি গুলো যত্রতত্র স্ট্যান্ড করে যাত্রী উঠা নামার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্মুখে। কিন্তু সিএজি ও অন্যান্য গাড়ির নির্দিষ্ট কোন স্ট্যান্ড না থাকলেও জিপি নামক চাঁদা তোলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রতি মাসে প্রায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।

এনিয়ে কথা হয় বিসমিল্লাহ মোড়ের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে তারা জানান, প্রবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে লোকজন তাদের পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে আসছে বাজারে। আমাদের দোকানের সামনে সিএনজি রাখার ফলে কোন ক্রেতা দোকানে ঢুকতে পারছেনা। এতে করে আমরা প্রচুর ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো জরুরী ভাবে এর একটি বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য।

এব্যাপারে কথা হয় কয়েকজন সিএনজি চালকের সাথে তারা নাম প্রকাশ না করা সর্তে বলেন, আমরা চাঁদপুর- হাইমচরে যাত্রী নেয়া আসা যাওয়া করে থাকি। স্ট্যান্ড কর্তৃপক্ষ আমাদের কোন নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড করে দিতে পারে নি। আমরা হাইমচরে প্রবেশ করলেই তারা প্রতিটি মোড়ে দাড়িয়ে থেকে আমাদের কাছ থেকে জিপি নাম করে দৈনিক ৩০ টাকা নিচ্ছে। আমরা টাকা দিতে না চাইলে তারা পেশী শক্তি ব্যবহার করে আমাদের গায়ে হাত তুলে এবং থানায় ফোন করে সিএনজি ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। আমরা নিরুপায় হয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সিএনজি রেখে যাত্রী পরিবহন করে থাকি। আমরা আশা করি প্রশাসন এর একটি সুস্থ্য সমাধান দিবেন।

আলগীবাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম কোতয়াল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আলগী বাজারে গাড়ির কোন স্ট্যান্ড না থাকলেও প্রতি মাসে উত্তলিত জিপির প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা যাচ্ছে কোথায় তা আমরা বলতে পারতেছি না। আমরা জানি এটার সাথে বড় বড় রাগব বোয়াল জড়িত। আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছি। আমাদের দাবী ব্যবসায়ী ও পথচারিদের স্বার্থে বাজারের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এর বিরুদ্ধে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।

এ ব্যাপারে হাইমচর থানা পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত (ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ) মো. আলমগীর হোসেন জানান, আমরা সকল অনিয়মের বিরুদ্ধেই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আমরা ঐসব গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেব। জিপির চাঁদার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনাই। অভিযোগ আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

 

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার : ০২:০৫ পিএম

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
166 জন পড়েছেন