চান্দিনায় গৃহবধূ ধর্ষণ চেষ্টায় বাঁধা দেয়ায় স্বামী খুন

0
23

মোঃ তাহমিদুর রহমান দিদার, চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার চান্দিনায় সেহেরীর রান্নার সময় এক গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টায় বাঁধা দেয়ায় ছুড়িকাঘাতে স্বামীকে খুন করেছে প্রতিবেশি মামা। ওই ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে চান্দিনা থানা পুলিশ। ৩০ মে বৃহস্পতিবার রাতে চান্দিনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ছায়কোট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধূর স্বামী নিহত ফারুক হোসেন (২৬) ছায়কোট এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
ওই ঘটনায় নিহতের প্রতিবেশি দুই মামা হত্যাকারী জানে আলম (৩৫) ও তার ভাই মোর্সেদকে (৩৭) আটক করেছে চান্দিনা থানা পুলিশ। তারা একই এলাকার রহমান ড্রাইভারের ছেলে।
স্থানীয় ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূকে ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনাটি গত ২৭ মে দিনগত রাত ২টায়। আর ওই ঘটনার রেশ ধরে বৃহস্পতিবার ইফতারের পর গৃহবধূর স্বামীকে ছুড়িকাঘাত করে ধর্ষনের চেষ্টাকারী জানে আলম। পরে রাত ১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে তার।
নিহতের মা নাছিমা বেগম জানান, গত ২৭ মে সোমবার দিনগত রাত ২টায় আমার পুত্রবধু বিপুলী বেগম রান্না ঘরে সেহেরীর খাবার তৈরি করছিল। ওই সময় প্রতিবেশি জানে আলম আমার পুত্রবধূকে রান্নাঘর থেকে মুখ চেপে ধরে পাশের একটি জমিতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় গৃহবধূ বিপুলী বেগম এর চিৎকার শুনে আমার দুই ছেলে ফারুক ও জালাল সহ বাড়ির লোকজন বের হয়। ওই সময় জানে আলম তাকে ছেড়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপর আমার দুই ছেলে সহ অন্যান্যরা জানে আলম এর বাড়িতে গেলে সে (জানে আলম) উল্টো আমার ছেলেদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে আমরা এলাকার কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানাই এবং তারা জানে আলম এর বাড়িতে গিয়ে তাকে পায়নি। মঙ্গলবার ভোর থেকেই জানে আলম আত্মগোপন করে। বৃহস্পতিবার ইফতারের পর প্রচন্ড গরমে আমার ছেলে ফারুক হোসেন আমাদের বসত ঘর সংলগ্ন একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। ওই সময় জানে আলম ও তার ভাই মোর্সেদ এসে বিষয়টি কেন এলাকায় জানাজানি হলো বলেই আমার ছেলের পেটে ছুড়িকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল সালাম জানান, দুইটি পরিবারই হতদরিদ্র। তবে জানে আলম মাদকাসক্ত এবং চরিত্রহীন। ভোর রাতের সেহেরী তৈরি করার উদ্দেশ্যেই গৃহবধূ বিপুলী বেগম বাহিরের রান্না ঘরে রান্না করছিল। ওই সময় গৃহবধূকে জোর পূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে জানে আলম। ঘটনার পর সে আত্মগোপন করে এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফারুককে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই ছুড়ি নিয়ে বাড়িতে আসে।
এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল ফয়সল জানান, ছুড়িকাঘাত করার পর নিহতের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা রাত ৯টায় ধর্ষণের ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মামলা গ্রহণ করি। রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে ঘটনার মূলহোতা জানে আলম সহ তার বড় ভাই মোর্সেদকে আটক করি। রাত অনুমান ১টার দিকে ঢামেকে মৃত্যু ঘটে ছুড়িকাঘাতে আহত ফারুক হোসেন এর। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রকাশিত : ০১ জুন ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমকেজেড

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
89 জন পড়েছেন