ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে হাফ ডজন প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০১৯

0
915

আনিছুর রহমান সুজন ফরিদগঞ্জ:
ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য ৭ প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৬ ও বিএনপির ১ প্রার্থী রয়েছে। দীর্ঘ সময় পর ইউপি নির্বাচনী হাওয়ায় ওই ইউনিয়নের রাজনীতি এখন বেশ চাঙ্গা। হাটেবাজারে সবখানেই নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনা তুঙ্গে।

স্থানীয়রা জানায়, ইউনিয়নের রাস্তাগুলো ভাঙ্গাচুরা জরাজীর্ণ। সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ রোধ ও মাদক মুক্ত সমাজ। বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানির সমস্যাও প্রকট। জনগন ওই সকল সমস্যার সমাধান চায়। প্রার্থীরাও জনগনের সমস্যার সমাধান সামনে রেখে নিজেদের প্রার্থীরা বিষয়টি প্রচার করছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এই ইউনিয়নে আ’লীগ ও বিএনপির সিনিয়র সম্ভাব্য প্রার্থীদের পাশাপাশি তরুণ প্রার্থীরাও মনোনয়ন দৌড়ে বেশ শক্ত অবস্থানে আছে। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে প্রার্থীতার সংখ্যা অতীতের সকল পরিসংখ্যান ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে।

প্রার্থী ও ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর সাবেক সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন বাবুল পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সদস্য, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোঃ আজিজুর রহমান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহŸায়ক ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হাজী নূর মোহাম্মদের মেঝ ছেলে মোঃ আলমগীর হোসেন রিপন, ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল আলম খাঁন সোহেল, সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও ইউনিয়ন আ’লীগের সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাবেক ত্যাগী ছাত্রনেতা মাসুদ আলম মিঝি, সাবেক যুবলীগ নেতা আজাদ খান মাসুদ।

নির্বাচন সর্ম্পকে মোঃ আলমগীর হোসেন রিপন এ প্রতিনিধিকে বলেন, দীর্ঘ একযুগ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছি। ইউনিয়নের জনগণের স্বার্থে কাজ করেছি। আমি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বাবা এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনগনকে সেবা দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। আমার বাবার ঐতিহ্যকে ধারণ করে আমিও ইউনিয়নের জনগণের সেবা করতে চাই। সুখে দুঃখে গরীব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকতে চাই।

মোঃ সাইফুল আলম খাঁন সোহেল বলেন, আমি আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাই। যুবকদের নিয়ে কাজ করতে চাই। এলাকা থেকে মাদক মুক্ত করার লক্ষে কাজ করবো। প্রধানমন্ত্রীর গ্রাম হবে শহর তা বাস্তাবায়নে কাজ করে যাবো। বিগত দিনে বিএনপির মামলা হামলা ও নির্যাতনে শিকার হয়েছি। আমি আশাকরি দল আমাকে সেই মূল্যায়ন করবে। আমি এই ইউনিয়ন কে একটি আধুনিক ইউনিয়ন হিসাবে রুপান্তর করবো। সকল ধরনে অপশক্তির হাত থেকে মুক্ত রাখবো। জনগনের প্রত্যশা অনুযায়ি কাজ করে যাব।

মোঃ আজিজুর রহমান এ প্রতিনিধিকে বলেন, ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে আমার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। আমার রক্তে মাংসে মিশে আছে বিএনপি। বিএনপির রাজনীতিতে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছি। অন্যায়ের সাথে আপোষ করি নাই। দল ও জনগনের স্বার্থে কাজ করেছি।

অপরএক প্রশ্নের জবাবে বলেন সারাদেশের ন্যায়ে বিএনপির উপরে যে হারে মামলা হামলা হয়েছে তাতে করে নির্বাচনে সুষ্ট হবে কি না সংখ্যায় রয়েছি। যদি সুষ্ঠ নির্বাচন হয় তা হলে আমি আবারও চেয়াম্যান হব। ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনগনের স্বার্থে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাই।

আবুল হোসেন বাবুল পাটওয়ারী এ প্রতিনিধিকে বলেন, আজ ৩৫ বছর আওয়ামী লীগের রাজনৈতি করে আসছি। বিগত সময়ে যত নির্বাচন হয়েছে প্রতিটি নির্বাচনে আমাদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। আজ যারা নির্বাচনে করতে আসছে সবাই আমাদের হাতে গড়া আওয়ামী লীগ। বর্তামানে যারা আওয়ামী লীগের নাম বিক্রয় করে লুটপাট করে আসছে তারা আজ নির্বাচনের প্রার্থী হচ্ছে। অপরএক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আসা করি দল আমাকে সেই ভাবে মূল্যয়ন করবে। কারণ আমাদের পরিবার শিক্ষা বান্দব পরিবার। আমাদের পরিবারে মাধ্যেমে এ ইউনিয়নে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মাসুদ আলম মিঝি এ প্রতিনিধিকে বলেন, নির্বাচনে সৎ, সাহসী ও সামাজিক মানুষের বড়ই প্রয়োজন আমাদের এই অবহেলিত অঞ্চলে। যেখানে রাস্তা ঘাট এখনো কাঁচা, বা আধা পাকা। যার কারনে বর্ষাকালে বা সামান্য বৃষ্টিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে থাকে। এ ইউনিয়নে বিগতদিনে অনেকেই নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী আমরা জনগণ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে আছি। এ এলাকার মধ্যে শিক্ষার আলো বিস্তার ও তেমন হচ্ছে না। তা ছাড়া ১৪নং ইউনিয়ন কে মাদকের প্রতিরোধ কাজ করে যাব। আগামী তে মাদক, দূর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয় দুর করে একটি মডেল ইউনিয়ন উপহার দেব।

রফিকুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমি আওয়ামী লীগের দুর্দিনে ছিলাম। দলের হয়ে কাজ করেছি। আমি আশাকরি দল আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে মূল্যায়ন করবে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে সন্তান। আমি বর্তমান এমপির কর্মী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমি নৌকার মনোনয়ন প্রাত্যশী। নৌকা পেলে আমি নির্বাচন করবো।

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
371 জন পড়েছেন