noyan 1

নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত : এএসপিসহ ৪ পুলিশ আহত

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

দেশব্যাপী আলোচিত বরগুনার কলেজছাত্র রিফাত শরীফের প্রধান ঘাতক ও ০০৭ গ্রুপের প্রধান সাব্বির আহম্মেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (০২ জুলাই) ভোর রাতে বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় রিফাত বাহিনীর হামলা ও গুলিতে একজন সহকারী পুলিশ সুপারসহ চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জন গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

Night King Sex Update
নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত, মেহ-প্রমেহ) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন :
হাকীম মিজানুর রহমান
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

বাকি একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও একজন কনস্টেবলকে বরগুনা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বলে জানিয়েছেন বরগুনা সদর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- বরগুনার সহকারী পুলিশ সুপার-(এএসপি, সদর সার্কেল) শাহজাহান হোসেন, সদর থানার উপ-পরিদর্শক হাবিবুর রহমান, উপ-পরিদর্শক মনির ও কনস্টেল হাবিবুর রহমান।

এদিকে, বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন নয়ন বন্ড বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচিত। এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত ছিল।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নয়ন বন্ডকে গ্রেপ্তার করতে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়নের পুরাকাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের ওপর অতর্কিতভাবে গুলি ছুড়তে শুরু করে নয়ন বন্ড ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এসময় পুলিশও সরকারি সম্পদ ও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়।

নয়ন বন্ড বাহিনীকে দমাতে পুলিশের পক্ষ থেকে ২০ লাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। এর ফলে এক পর্যায় নয়ন বন্ড বাহিনী পিঁছু হটে। কিছুক্ষণ পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে নয়ন বন্ডের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নয়ন বন্ড বরগুনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কলেজ রোড এলাকার মৃত মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে ও রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি।

এদিকে, ঘটনাস্থল হতে ১টি পিস্তর, এক রাউন্ড তাজা গুলি, শর্টগানের গুলির ২টি খোসা ও ৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তাছাড়া এই ঘটনায় পুলিশের এএসপি ও দু’জন এসআই এবং একজন কনস্টেবল আহত হলে ঘটনাস্থল হতেই তাদের হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, নয়ন বন্ডের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আটটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় নয়ন বন্ডকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া। যার মধ্যে ২টি মাদক, একটি অস্ত্র আইন এবং হত্যা চেষ্টাসহ ৫টি মারামারির মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি’র সামনে স্বামী রিফাত শরীফের ওপর বরগুনা সরকারি কলেজের মুল ফটকে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী সহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়।

এসময় স্ত্রী মিন্নি’র শত বাধার পড়েও নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এর পর প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে দুপুর ১টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে একই দিন বিকাল সোয়া ৪টায় হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে মৃত্যু হয় রিফাত শরীফের। তার উপর সন্ত্রাসী হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। যা নিয়ে গোটা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

মামলার প্রধান আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়া ছাড়াও এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত ৪ জন আসামি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরো ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বরগুনা থানা পুলিশ। এদের মধ্যে দু’জন নিজেদের দায় স্বীকার করেছে। বাকি তিন জনকে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বন্দুকযুদ্ধের নয়ন বন্ডের মৃত্যুর কথা যা বললেন মিন্নি

দেশব্যাপী আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে রিফাত শরিফকে হত্যার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হত্যাকান্ডের শিকার রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

তিনি বলেন, সকালে যখন বাবা তাড়াহুড়া করে এসে বললো- নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে, এটা শুনেই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি। বিচারের জন্য আমাকে অপেক্ষা করতে হল না।

মিন্নি বলেন, আমার চোখের সামনে যারা আমার স্বামীকে কুপিয়ে মেরেছে, তাদের অন্যতম নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। আমি এতে অনেক খুশি হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, সরাসরি যারা অংশগ্রহণ করে যারা আমার স্বামীকে কুপিয়ে মেরেছে, তাদেরও আমি এমন শাস্তি চাই। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, তিনি আমাদের জন্য ন্যায় বিচারের ব্যবস্থা করেছেন।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন জানান, শুরু থেকেই আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছিলাম। নয়ন বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে, এতে আমার সদ্য বিধবা হওয়া মেয়ে যেমন শান্তি পেয়েছে; ঠিক তেমনই আমার জামাই রিফাত, সেও কবর থেকে শান্তি পাবে।

‘এ ঘটনায় বাকি যেসব আসামি পলাতক রয়েছে তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিতে পারলেই আমরা সবাই ন্যায় বিচার পাব।’

আর আগে, মঙ্গলবার (২ জুলাই) ভোরে বরগুনায় প্রকাশ্যে স্ত্রী মিন্নির সামনে স্বামী শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘাতক নয়ন বন্ড (২৫) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, রিফাত হত্যাসহ ১১ মামলার আসামি নয়নকে গ্রেফতারে বুড়ির চরে অভিযানে গেলে পুলিশের ওপর গুলি চালান নয়ন বন্ড। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে নয়ন বন্ডের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, শর্টগানের দু’টি গুলির খোসা এবং দেশীয় তিনটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এবার ছেলের আত্মা যদি একটু শান্তি পায় : রিফাতের বাবা

পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ডের নিহত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার শিকার রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ। তিনি বলেছেন, বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ডের নিহত হওয়ার খবর শুনে আমার খুব ভালো লাগছে।

দুলাল শরীফ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এত দিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, যার নির্দেশে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরই প্রশাসন তৎপর হয়েছে। তারা রাত-দিন কাজ করে আসামিদের ধরেছে। গত রাতে নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে, এতে আমার ছেলের আত্মা যদি একটু শান্তি পায় বলেই কেঁদে ফেলেন তিনি।

দুলাল শরীফ আরও বলেন, মিডিয়া কর্মীদের আমি ধন্যবাদ জানাই। তাদের প্রচার আসামিদের ধরতে সহায়তা করেছে। এই আসামিরা কারা, তারা কাদের ছত্রছায়ায় চলে এটা গোয়েন্দা সংস্থাকে তদন্ত করে বের করে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাতে বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহত নয়ন বন্ড বরগুনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কলেজ রোড এলাকার মৃত মো. আবুবক্কর সিদ্দিকের ছেলে এবং রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডকে গ্রেফতার করতে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়নের পুরাকাটা নামক এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের ওপর গুলি চালায় নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।

গোলাগুলির একপর্যায়ে নয়ন বন্ড বাহিনী পিছু হটলে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে নয়ন বন্ডের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, দুটি শর্টগানের গুলির খোসা এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

প্রকাশিত : ০২ জুলাই ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

 53 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন