স্থানীয়ভাবে বিচার পেতে হলে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে আসতে হবে

শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক মেলায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার

0
20

বিশেষ প্রতিনিধি: আজ ৪ জুলাই ২০১৯ বিকালে মতলব-উত্তর উপজেলার ঠেটালিয়া নোয়াবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক মেলায় অংশগ্রহণরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোঃ নুরুল হকের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মতলব-উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। অনুষ্ঠানটি এছাড়াও, অনুষ্ঠানে ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন লাইন-ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ সগীর আহম্মেদ সরকার ও ফতেপুর-পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, দুই দিনব্যাপী শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক মেলা ও আজকের এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান জেলা তথ্য অফিস আয়োজন করলেও আমি সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেবার কথা বলবো; আর তাহল ‘গ্রাম আদালত’। বাংলাদেশ সরকার মানুষের দ্বার-প্রান্তে বিচারিক সেবা পৌছে দেওয়ার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে আইন করে গ্রাম আদালত চালু করেছে। এজন্য স্থানীয়ভাবে বিচার পেতে হলে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে আসতে হবে। এখানে দেওয়ানী ও ফৌজদারী উভয় মামলার বিচার সহজে ও স্বল্প সময়ে পাওয়া যায়। দেওয়ানী মামলার ফি মাত্র ২০ টাকা এবং ফৌজদারী মামলার ফি মাত্র ১০ টাকা। এই নামমাত্র মূল্যে গ্রাম আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রাম আদালত কার্যকর ও গতিশীল করার জন্য বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি -এর সহায়তায় ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ “বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প” বাস্তবায়ন করছে। আমাদের মতলব-উত্তর উপজেলাতেও এই প্রকল্প কাজ করছে।

আমি এখানে উপস্থিত সকলকে আহবান জানাতে চাই যে, আপনারা যখনই কোন বিরোধে জড়িত হবেন তখন এখানে-সেখানে ছুটাছুটি না করে সোজা আপনার ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে চলে আসবেন এবং বিচার নিবেন। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ (পঁচাত্তর হাজার) টাকার ক্ষতিপূরণের রায় দিতে পারে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে জরিমানাও করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতে নিয়মিতভাবে মামলার শুনানী করে এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করার জন্য তিনি ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

প্রসঙ্গতঃ মতলব-উত্তর উপজেলার ঠেটালিয়া নোয়াবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ৩-৪ জুলাই ২০১৯ শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ মেলায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের মতলব-উত্তর উপজেলা কার্যালয় অংশগ্রহণ করে এবং পুরস্কার জিতে নেয়। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার ও জেলা তথ্য কর্মকর্তা সহ বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং পুরস্কার বিজয়ীদের নির্বাচিত করেন।

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
92 জন পড়েছেন