পরীর ফাঁদে পড়ে হাহাকার করছে উঠতি বয়সের যুবকরা

0
628

 

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

শুধু নামেই নয়, সুন্দর চেহারার মধ্য বয়স্ক নারী পরি বেগম। আকর্ষণীয় চেহারায় যেকোনো পুরুষ কাবু হতে বাধ্য। এছাড়া পুরুষ বলয় চক্রের সহযোগিতায় দরিদ্র পুরুষ, নারী ও কিশোরীদের ফাঁদে ফেলে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করা তার পেশা।

এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে সুন্দরী পরীর বিভিন্ন প্রতারণার ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, উঠতি বয়সের যুবক, চাকুরীজীবী, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদসহ সবার সঙ্গে ফেসবুকে চ্যাটিং বা মোবাইল ফোনে কথা বলে পরী। আলাপের সময় অশ্লীল বা আপত্তিকর কথার মূর্ছনায় অনেকে বিভোর হন।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত, মেহ-প্রমেহ) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন :
হাকীম মিজানুর রহমান
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

পরে এসব কল রেকর্ড বা স্ক্রিনশর্ট দিয়ে ইচ্ছামতো টাকা হাতিয়ে নেয় সে। তার মন ভোলানে কথায় বহু মানুষ ফাঁদে পড়ে অনেক টাকা খুইয়েছেন। তবে বিষয়গুলো স্পর্শকাতর হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে চাইতেন না।

পরীর এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে সহায়তা করে রামগঞ্জের একটি চক্র। চক্রটির বলয়ে সে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠে। তার এসব প্রতারণার খবর এখন টক অব দ্যা রামগঞ্জে পরিণত হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায, পরি বেগম রামগঞ্জ পৌরসভার নন্দনপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। স্বামী রাজ মিস্ত্রি আলমগীর বেশ কয়েকবার স্ত্রীর বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেও দফায় দফায় হেনস্তা হন।

অভিযোগ রয়েছে, পরী বেগম রামগঞ্জ পৌরসভার সাতারপাড়া গ্রামের জেসমিন আক্তার কাছ থেকে তিন হাজার, সুফিয়া বেগমের কাছ থেকে আট হাজার, একই গ্রামের সোহাগী বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার, নাসরিন আক্তারের কাছ থেকে ৩০ হাজার, সুমা আক্তার সাত হাজার, আকলিমা আক্তারের কাছ থেকে সাত হাজার, বাচ্চু মিয়ার কাছ থেকে ছয় হাজারসহ পাশের এলাকার আবদুল করিম বেপারী বাড়ি, জয়নাল আবেদিন বেপারীর বাড়িসহ অসংখ্য নারী-পুরুষের কাছ থেকে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, মাতৃত্বভাতা ও নতুন ঘর করে দিতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

পরী বেগম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি চক্র আমার পরিবারকে হেয় করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

গরীর নারীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এ বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রিফাত আরা সুমি জানান, পরি বেগম নামের নারীকে চিনি না। যদি অফিসের নাম বিক্রি করে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে, তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রামগঞ্জ থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এখানে নতুন এসেছি। তবে পরীর প্রতারণার বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। কেউ অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

প্রকাশিত : ০৫ জুলাই ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
168 জন পড়েছেন