গাছ লাগাতে লাগাতে আমি একজন বৃক্ষ প্রেমিক

0
49

সফিকুল ইসলাম রানা :
মতলব উত্তর উপজেলা ছেংগারচর পৌরসভার বালোরচঁর গ্রামের মৃত আলহাজ্ব হারুন রসিদ সরকার,ছেলে কাউছার আহাম্মদ (মেহে) একজন বৃক্ষ প্রেমিক হিসাবে তিনি পরিচিত। দুই যুগ ধরে নিজ অর্থায়নে বৃক্ষ রোপণ করছেন।

তিনি বলেন, পাখি পাবে আশ্রয়স্থল আর মানুষ পাবে হিমশীতল পরিবেশ এই আশা নিয়ে আমি মাত্র ২৩ বছর বয়স থেকেই গাছ লাগানো শুরু করি। আজ ৪৯ বছর বয়সে এসেও গাছ লাগিয়ে যাচ্ছি এবং যতদিন বাঁচব গাছ লাগিয়েই যাব। এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক গাছ লাগানো হয়েছে এবং ভবিষ্যৎপ্রজন্মও যেন গাছ লাগিয়ে যেতে পারে এ জন্য গড়ে তুলেছি নিজস্ব নার্সারি। যারা গাছ লাগাতে চায় সেখান থেকে বিনামূল্যে দিয়ে থাকি গাছের চারা।এটাই আমার শান্তি যে এখন সবুজ পরিবেশ গড়ে উঠছে। বট-পাকুড়, আম, জাম, কাঁঠাল, মেহগনি, শিশু, হরীতকী-বহেড়া গাছ লাগাতে লাগাতে কখন যে বৃক্ষপ্রেমিক হয়ে গেছি ফলজ বৃক্ষ। তার লাগানো গাছে ধরছে ফল।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

কাউছার আহাম্মদ মেহেদী, ১৯৯৭ সাল থেকে বৃক্ষ রোপণ শুরু করেন। এর পর গাছ লাগানের নেশা তার পিছু ছাড়েনি। ২৪ বছর যাবত তিনি , রাস্তাঘাট ও পুকুরপাড়ে জমির পাসের উচ্চ জাই গাই গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন। তার লাগানো আম গাছে ফল ধরছে। মতলব উত্তর উপজেলার তার কারণে বদলে গেছে গোটা উপজেলার প্রকৃতির চিত্র। তার দেখাদেখি আশেপাশে মানুষ গুলো হয়ে উঠেছে বৃক্ষ প্রেমিক।

সড়ক ও পতিত জমি টার্গেট করে তিনি গাছ লাগান । বিভিন্ন জমিতে বেড়ে ওঠেছে তার রোপনকৃত গাছ। এছাড়া মতলব উত্তর উপজেলা সড়ক মহা সড়কে, তিনি আম, কাঁঠাল, লিচু, কামরাঙ্গাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চারা রোপন করেছেন। এ বছর তিনি পৌরসভার ৮টি সড়কের দু পাশেই লাগাবেন বিভিন্ন কাঠের চাড়া পাচ্ছে তার রোপনকৃত বৃক্ষ।

বৃক্ষের প্রতি অনুরাগের কারনে কাউছার আহাম্মদ (মেহেদী) পেয়েছেন বৃক্ষ প্রেমিকের উপাধি। তার বৃক্ষ প্রীতির কথা ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মুখে মুখে। তিনি একজন ছেংগারচর বাজারের ছুট একটি ঔষোধের দোকান,

দোকান ধারিত পাশাপাশি নিজ অর্থায়নে গাছ লাগিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। দারিদ্রতাকে পিছনে ফেলে প্রতি বছর হাজার হাজার টাকার বৃক্ষ রোপন করে চলছেন। বৃক্ষরোপন করেই যেন অজানা কোন তৃপ্তি পান তিনি। বৃক্ষরোপন করতে তাকে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এসেছে হাজারো বাঁধা। তারপরও তিনি হাল ছাড়েননি। শুধু বৃক্ষরোপন করেই ক্ষান্ত হননি। সে গুলোর দেখভাল ও পরিচর্যা করছেন। তার মতে, বৃক্ষ হচ্ছে একটা বোবা প্রানী। কথা বলতে পারে না তাই মানুষ বৃক্ষের সাথে নিষ্টুর আচরন করে। কাউছার আহাম্মদ(মেহেদী)বলেন, ‘‘বৃক্ষ রোপন করতে যেয়ে প্রতিনিয়ত তাকে সমস্যায় পড়তে হয়।

মানুষ শত্রুতা করে গাছের চারা উপড়ে ফেলে। কেউ বুঝতে চাইনা এই বোবা প্রানীর ভাষাটা।” গাছের প্রতি তার গভীর সখ্যতার কথা স্বীকার করে বালুরচর গ্রামের শাহাদাত সরকার বলেন, ‘‘কাউছার আহাম্মেদ(মেহেদী) বৃক্ষরোপনের কথা এলাকার সবারই জানা। গাছকে তিনি সন্তানের মত করেই স্নেহ করেন। সারাক্ষণ গাছের পরিচর্যা করে সময় কাটান।

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

প্রকাশিত : ০৮ জুলাই ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
101 জন পড়েছেন