ফরিদগঞ্জে ছেলেধরা ভেবে গণপিটুনি দিয়ে একজনকে পুলিশে দিয়েছে জনতা

0
191

আনিছুর রহমান সুজন :
বিগত কয়েকদিন ধরে ফরিদগঞ্জের পুরো উপজেলা জুড়ে ছেলে ধরা আতঙ্ক বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকসহ বর্তমানে সর্বত্র একই আলোচনা। গ্রামের প্রতিটি পরিবার তাদের ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। কেউ বিশ^াস করছেন, কেউ আবার গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করেন এরকম ফকিরদের র কপাল পুঁড়েছে। অভিভাবকদের সাথে সাথে আতংকে আছেন বিভিন্ন এলাকার অপরিচিত লোকজন।

গতকাল ১০ জুলাই বুধবার দুপুরে উপজেলার ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামের নারিকেল তলায় সন্দেহভাজন অপরিচিত একজনকে ধরে স্থানীয়রা বেদম প্রহার করে। লোকজন তার কাছে জানতে চায় বাড়ি কোথায়? লোকটির জবাব রাঙ্গামাটি। এই একটি শব্দই বলতে পারে লোকটি। তার নাম কি তাও বলতে পারছে না সে। পরে সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ এসে লোকটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

এর আগে গত ৯ জুলাই উপজেলার একই ইউনিয়নের দক্ষিণ গাব্দেরগাঁও গ্রামে চৌকিদার বাড়ির বাচ্চু চৌকিদারের ৫ বছরের মেয়ে মিমকে সন্ধ্যার আগ থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় মসজিদ গুলোর মাইকের মাধ্যমে সংবাদটি মহুর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শতশত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং মেয়েটিকে খুঁজতে থাকে। অবশেষে মেয়েটিকে ঐ বাড়ির ইটের স্তপের ভিতর টিনে চাপা পড়া অচেতন অবস্থায় খুঁজে পায় লোকজন।

ছেলে ধরা চক্র এলাকায় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং শিশু কিশোরদের তুলে নিয়ে হত্যা করে মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলার সর্বত্র। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবক মহল। আতঙ্ক দূর করতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে সর্তকতা মূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসন বলছে, এটা নিছক গুজব।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি চক্র প্রচার করছে ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেখানে অন্তত এক লাখ শিশু-কিশোরের মাথা (মাথামুন্ড) দিতে হবে। সে মতে ৪২টি দল সারাদেশে শিশু কিশোরদের কল্লা সংগ্রহের কাজ করছে।’ এমনই গুজব ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে এবং কিন্ডারগার্টেনগুলোতে। গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির পরিমান আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। অনেক অভিভাবক ভয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না।এছাড়া যারাই স্কুলে যাচ্ছে, তাদের অভিভাবকরা নিজেরা তাদের সন্তানদের স্কুলে দিয়ে যাচ্ছেন ও নিয়ে আসছেন। অথচ ছেলে ধরা বা মাথা কাটার কোনো ঘটনাই উপজেলার কোথায়ও ঘটেছে এ রকম তথ্য পাওয়া যায়নি।

অপরিচিত লোক দেখলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বিপাকে পড়ছে ফকির ও ফেরিওয়ালারা। গৃহস্থরা অপরিচিত ভিক্ষুক দেখলে ভিক্ষা না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুর রকিব উদ্দিন বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে এটা গুজব। লক্ষীপুরে এ গুজব খুব বেশী। পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি পরিপত্র তৈরি করেছে। এ উপজেলাবাসীকে বলবো গুজবে কান না দেয়ার জন্য। আমিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিবো।’

ভারপ্রাপ্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতা আফরিন বলেন, ‘এটা নিছক একটি গুজব। যা আদৌ সত্য নয়।’

 

প্রকাশিত : ১০ জুলাই ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

 

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
110 জন পড়েছেন