ফরিদগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধীকে গণপিটুনির অভিযোগে আটক ৫

0
14

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে মাহমুদা বেগম (৬০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে গনপিটুনির অভিযোগে থানা পুলিশ ৫জনকে আটক করেছে। উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের নারকেলতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

বৃদ্ধা জুলেখা বেগম চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম সকদি গ্রামের বিল্লাল মুন্সীর স্ত্রী।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

জানা গেছে, বৃহষ্পতিবার দুপুরে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের নারকেলতলা গ্রামের নোয়া বাড়ির সামনে বৃদ্ধাকে দেখে বাড়ির লোকজনের ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। একপর্যায়ে তাকে লোকজন তাকে বেঁেধ রাস্তা দিয়ে নিয়ে যেতে যেতে গনপিটুনি দেয়। গনপিটুনির এক পর্যায়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গনি বাবুল পাটওয়ারীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে । পরে তার কাছে থাকা জিনিসপত্র খুঁেজ তার পরিচয় সর্ম্পকে নিশ্চিত হয়।

গনপিটুনির ঘটনাটি পরবর্তীতে ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরে থানা পুলিশ ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে। একই সাথে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখে পুলিশ গনপিটুনি দেয়া ৫জন যথাক্রমে সুমন (২৮), জলিল(৫০), ইউছুপ (৩০), ইব্রাহীম (২৮) ও জসিম (২০)কে আটক করে।

বৃদ্ধা জুলেখা বেগমের ছেলে মাহফুজ বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যার পর ফরিদগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে মাহমুদা বেগম তার মা নিশ্চিত করেন। তিনি জানায়, ২০০৫ সালে তার এ ছোট বোন নিখোঁজের পর থেকে তার মা মানসিক প্রতিবন্ধীত্বের শিকার হয়। গত দুই দিন পুর্বে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। গনপিটুনির ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করছেন।

এব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার এস আই নাছির উদ্দিন জানান, উদ্ধারকৃত বৃদ্ধাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ভিডিও দেখে গনপিটুনি দেয়া ৫জনকে আটক করা হয়েছে। বাকীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) অহিদুল ইসলাম জানান, ছেলেধরা সন্দেহে এভাবে গনপিটুনি দিয়ে আইন হাতে তুলে নেয়া অপরাধ। নারকেলতলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

প্রকাশিত : ১২ জুলাই ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমআরআর

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
57 জন পড়েছেন