রায়পুরে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন

ছয়বার প্রতিশ্রুতি : অগ্রগতি শূন্য

0
51

ইমরান হোসেন সজীব, ল²ীপুর প্রতিনিধি :

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ল²ীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়ী নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনে টানা বৃষ্টিতে ভাঙ্গন আরো ভয়াবহ রূপ দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধ করতে না পারলে বিলিন হয়ে যাবে আরো পাঁচ শতাধিক ঘর-বাড়ী, মসজিদ ও বিদ্যালয়। ভাঙ্গরোধে কয়েকদফা মানব বন্ধন করা হয়েছে। মানব বন্ধনে অংশগ্রহণ করা লোকজন অবিলম্বে মেঘনা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করার জন্য দ্রæত প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের আহŸান জানান। মানববন্ধনে স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

প্রায় এক যুগ ধরে ভাঙ্গছে ল²ীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়ার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদী। সরেজমিনে এসে পানিসম্পদ মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু প্রায় তিন বছরেও ওই প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন হয়নি। এর আগেও স্থানীয় সাংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী পাঁচবার প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই প্রতিশ্রæতি পূরন করেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৯ মে প্রতিমন্ত্রী লে. কর্ণেল (অব.) নজরুল ইসলাম ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে আসেন। পরে তাঁরা দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে পথসভায় মেঘনা নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। বর্ষা মৌসুমের আগেই চরকাচিয়ার ভাঙ্গন রোধে কাজ শুরু হবে বলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দুজনেই ওই সময় প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। এর আগেও চারবার ল²ীপুর-২ আসনের সাবেক সাংসদ ও সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মেঘনা নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রতিশ্রæতি দেন।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ছালেহ মিন্টু ফরাজি জানান, মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে গত চাঁর-পাঁচ বছরে প্রায় ৩০০ একর আবাদি জমি ও দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। ভূমিহীন হয়েছে প্রায় ৫০০ পরিবার। নদীভাঙ্গনে চর কাছিয়া গ্রাম বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখনই ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিলে ভূমিহীন হয়ে পড়বে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ।

কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, ১২ বছর ধরে স্থানীয় এমপি ও সরকারের অনেক কর্মকর্তা সরেজমিনে এসে নদীভাঙ্গনের চিত্র দেখেন। কিন্তু ভাঙ্গনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ পরিদর্শনে আসা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রæতিও ফাইলবন্দী হয়ে আছে। প্রতিশ্রæতিটি বাস্তবায়ন হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন তাঁরা।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নদীভাঙ্গন পরিদর্শনে এসে প্রতিশ্রæতি দেওয়ায় আশার আলো দেখেন ভাঙ্গনের হুমকিতে থাকা মানুষগুলো। কিন্তু মন্ত্রীদের প্রতিশ্রæতির আড়াই বছরেও কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশ হন তাঁরা। এর আগেও এক সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী ভাঙ্গন ঠেকানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ল²ীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ভাঙ্গনরোধের জন্য পাউবোর প্রধান কার্যালয়ে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। এখনো প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।

প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর/

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
117 জন পড়েছেন