চাঁদপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ : দুদকের তদন্ত শুরু

0
86

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

স্থানীয় সরকারের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছেমত পরিচালনা করায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১১নম্বর হাটিলা (পশ্চিম) ইউনিয়ন পরিষদের সেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম প্রায় বন্ধের পথে। ফলে হাজীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে অন্যান্য ইউপি সদস্যরা। ২০১৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর থেকে এ পরিষদের অবনতি হতে শুরু করে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগকারী, অভিযুক্তসহ অন্যান্য ইউপি সদস্য, ইউপি সচিব ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন দুদকের তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত প্রতিনিধি দল। তাদের কাছ থেকে লিখিতভাবে বক্তব্যগুলো সংগ্রহ করেন তারা।

অভিযোগ তদন্তে প্রতিনিধি দলের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা। অন্য দুই সদস্য হলেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম মিজানুর রহমান ও সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল গণি।

তদন্তে দুদকের প্রতিনিধি দল

অভিযোগকারীরা হলেন, ইউপি সদস্য রবিউল হোসেন মিয়াজী, হাবীব মোল্লা, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সবুজ, মইনুল হক দুলাল সর্দার, হাবিব, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য জাকিয়া বেগম, মমতাজ বেগম ও জোসনা বেগম। তবে এদিন অভিযোগকারী ৮জন ইউপি সদস্য’র মধ্যে থেকে ৪ জন তদন্ত টিমের কাছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অপর ৪ জন থেকে স্বেচ্ছায় তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়ার আবেদন করেন।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২১ অক্টোবর হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, সরকারি টাকা আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা, ছুটি না নিয়ে এবং প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব না দিয়ে দেশের বাহিরে অবস্থান নেয়ার অভিযোগ দেখিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে লিখিত আবেদন করেন ইউনিয়ন পরিষদের ৮ জন সদস্য। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এ অভিযোগটি দেয়া হয়। যার অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন ও জেলা প্রশাসক (চাঁদপুর) দেয়া হয়।

অভিযোগপত্রে দেখা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটু নির্বাচিত হওয়ার পর এখনো প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেনি। আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক ভাবে বার্ষিক বাজেট প্রকাশ করেনি। সরকারি এডিপি, এলজিএসপি, টিআর, ১% কাবিখা ইত্যাদি কর্মসূচি বা প্রকল্পের বরাদ্দ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যগণের সহিত যোগাযোগ, পরামর্শ, মিটিং না করেই তিনি স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও বেআইনি ভাবে প্রকল্পের কাজ করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন।

অভিযোগকারীদের মধ্যে ইউপি সদস্য রবিউল হোসেন মিয়াজী ও মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সবুজ বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান লিটু নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিকে ১ শতাংশ টাকা দিয়ে টয়লেট নির্মাণ ও পাম্প স্থাপনের কাজ করে অর্থ আত্মসাৎ করেন। সরকারী ৪০ দিনের কর্মসূচির ৪৩ শতাংশ টাকা কেটে সম্পূর্ণ টাকা নিজে আত্মসাৎ করেছেন। গৃহহীনদের মাঝে ঘর দেয়ার নামে ৫ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ইউপি সদস্যদের নিয়মিত সম্মানী ভাতা দেয়া হয়নি। এছাড়াও চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটুর বিরুদ্ধে আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটু বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আশা করি তদন্তে তা প্রমাণিত হবে।

তদন্ত প্রতিনিধি দলের সদস্য ও উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি বলেন, আমরা অভিযোগকারী, অভিযুক্তসহ অন্যান্য ইউপি সদস্য, সচিব ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়া ডকুমেন্টারি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তদন্ত প্রতিনিধির কাছে জমা দেয়ার জন্য ইউপি সচিবকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিনিধি দলের প্রধান হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, অভিযোগের আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে। কিছু গরমিল রয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত কাজ আরও গভীরে যাবো।

প্রকাশিত : ২১ আগস্ট ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর/

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
101 জন পড়েছেন