রক্তদান থেকে প্রেম, ফাঁদে পড়ে আত্মহত্যা সেমন্তির

0
538

 

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

বগুড়ার ওয়াইএমসি স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী মায়িশা ফাহমিদা সেমন্তির (১৪) আত্মহত্যার ঘটনায় দুই যুবকের বিরুদ্ধে ঢাকা সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

বুধবার (২১ আগস্ট) সেমন্তির বাবা হাসানুল মাশরেক রুমন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫(১)ক/২৯(১)/৩১ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

আসামি দু’জন হলেন বগুড়া জেলার সদর থানার জেল বাগান লেনের জলম্বরী তলার তৌহিদুল ইসলামের ছেলে আবির আহমেদ (২০) ও একই এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে শাহারিয়ার অন্তু ।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত, মেহ-প্রমেহ) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন :
হাকীম মিজানুর রহমান
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেমন্তির নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে ওই ছাত্রী আত্মহত্যায় বাধ্য হয়েছে।

সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বগুড়া অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী তার অভিযোগে জানান, গত ১৮ জুন রাতে আসামি আবির আহমেদ মোবাইল ফোনে হাসানুল মাশরেক রুমনকে জানায়, সেমন্তি আত্মহত্যা করতে পারেন। রুমন তাৎক্ষণিক মেয়েকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে সেমন্তি জানায়, আবিরের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার জোরাজুরিতে সেমন্তি মোবাইলে কিছু নগ্ন ছবি তোলে। যা সেমন্তির মোবাইল থেকে আবির তার মোবাইলে নিয়ে নেয়। এর মধ্যে একটি ছবি শাহরিয়ার অন্তুর মোবাইল ফোনেও পাঠায় আবির। পরে দু’জন মিলে ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে সেমন্তিকে এবং পাশবিক লালসা চরিতার্থ করে। রুমন ঘটনাটি শুনে মেয়েকে সান্ত্বনা দিলেও ওইদিন রাতে সেমন্তি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

সে রাতে আবির ও অন্তু ৯১ বার মোবাইল ফোনে কথা বলে সেমন্তির সঙ্গে। যা প্রমাণ করে আসামিরা সেমন্তিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে আত্মহত্যায় বাধ্য করে। এছাড়া সেমন্তি মারা যাওয়ার পর আসামি আবির ২১ জুন রাতে মামলার দুই নম্বর সাক্ষী জান্নাতুল ফেরদৌসের কাছে মেসেঞ্জারে সেমন্তির নগ্ন ছবি পাঠিয়ে তার পরিবারকে মামলা না করার হুমকি দেয়।

মামলার বাদী রুমন জানান, প্রায় ১৫ মাস আগে তার ছোট মেয়ে অসুস্থ হয়। তখন প্রতিবেশী তৌহিদুল ইসলামের ছেলে আবির রক্ত দেয়। সেই থেকে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এরপর সেমন্তি ও আবিরের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে আবিরের ফাঁদে পড়ে সেমন্তি।

সেমন্তী আত্মহত্যায় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা

বগুড়া ওয়াইএমসিএ স্কুল ও কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী মাঈশা ফাহমিদা সেমন্তীর (১৪) ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবার হুমকি দিয়ে আত্মহত্যায় বাধ্য করায় দুই তরুণের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সেমন্তীর বাবা বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলা করেন।

বিচারক আসশামস জগলুল হোসেন শুনানি শেষে মামলা আমলে নিয়ে তদন্ত করতে সিআইডি বগুড়া ক্যাম্পকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১০ অক্টোবর এ ব্যাপারে তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আসামীরা হলেন বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা জেলবাগান লেনের বাসিন্দা নীলফামারী এনএসআই অফিসের কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামের ছেলে ও চট্টগ্রামে মেট্রোপলিটন পুলিশের এসপি মিলনের ভাতিজা আবির আহমেদ (২০) এবং জলেশ্বরীতলা নেটপ্রো স্কুল সংলগ্ন জিল্লুর রহমানের ছেলে শাহরিয়ার অন্তু (১৯)।

সেমন্তীর বাবা বগুড়া শহরের লতিফপুর পানির ট্যাংকি এলাকার হাসানুল মাশরেক রুমন এজাহার উল্লেখ করেছেন, আবির আহমেদ গত ১৮ জুন রাত ১২টা ৫৯ মিনিট ও ১টা ১৩ মিনিটে তাকে জানায়, তার মেয়ে আজ আত্মহত্যা করতে পারে। তখন তিনি তার মেয়েকে (সেমন্তী) ডেকে জানতে চাইলে সে জানায়, আবির আহমেদের সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক হয়েছে।

আবিরের পরামর্শে সে ফোনে তার কিছু নগ্ন ছবি তোলে। এসব ছবি আবির তার ফোনে পার করে নেয়। পরবর্তীতে আবির ছবিগুলো শাহরিয়ার অন্তুকে দেয়। এরপর আবির ও অন্তু ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবার হুমকি দেয়।

তিনি (রুমন) মেয়েকে শান্তনা ও সাহস দেন। ওই রাতেই সেমন্তী তার ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

এ ব্যাপারে সদর থানায় মামলা করতে গেলে কর্মকর্তারা ডিজি হিসেবে গ্রহণ ও সেমন্তীর মোবাইল ফোন, সিম ও মেমোরি কার্ড জব্দ করেন।

হাসানুল মাশরেক রুমন আরও জানান, পরবর্তীতে তিনি মেয়ের ফোনে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ও ইন্সট্রাগ্রাম আইডি খুলে দেখেন, আবির আহমেদ তার বিভিন্ন আইডি থেকে সেমন্তীর সঙ্গে কথা বলতো। সেমন্তী গত ১৭ মে তার আইডি থেকে নগ্ন ছবিগুলো আবিরের আইডিতে পাঠায়।

আবির ও অন্তু ছবিগুলো পুঁজি করে নেটে ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে সেমন্তীকে বিপর্যস্ত করে। তারা দুজন গত ১৫ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত সেমন্তীর সঙ্গে ৯১ বার কথা বলেছে। এছাড়া সেমন্তীর নগ্ন ছবিগুলো তার মা ও মামলার ২ নম্বর সাক্ষী জান্নাতুল ফেসদৌসের কাছেও পাঠায়।

আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে তার (বাদী) মেয়ের ছবি পরস্পরের মধ্যে আদানপ্রদান করেছে। এভাবে তারা সেমন্তীর সুনাম ক্ষুন্ন ও তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। এজাহারে তিনি আসামিদের শাস্তির দাবি করেছেন।

হাসানুল মাশরেক রুমন দাবি করেন, আসামি আবিরের বাবা এনএসআই কর্মকর্তা ও চাচা পুলিশের এসপি হওয়ায় তিনি বগুড়া পুলিশের কাছে কোনো সহযোগিতা পাননি। তাই তিনি বিচার পেতে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করলেন।

অ্যাডভোকেট আমিনুল গণি টিটো জানান, সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শুনানি শেষে মামলাটি গ্রহণ করেন। এরপর তদন্ত করে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে রিপোর্ট দিতে সিআইডি বগুড়া ক্যাম্পকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রকাশিত : ২২ আগস্ট ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর/

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
223 জন পড়েছেন