যুদ্ধকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশ বিদেশে ওয়্যারলেস ম্যাসেজে তথ্য প্রকাশ করেও এ মুক্তিযুদ্ধা তালিকায় নাম আসেনি জামাল উদ্দিনের

0
14

গোলাম নবী খোকন, মতলব উত্তরঃ
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার হাতিঘাটা টরকীর মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে মো: জামাল উদ্দিন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে বাংলার বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের গোপনীয় সংবাদ ওয়্যারলেস এর মাধ্যমে জীবনকে বাজি রেখে দেশ বিদেশে সংবাদ প্রচার করেছি। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ যখন বাংলাদেশের সাথে বর্হিবিশে^র সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল, তখন পাক বাহিনীর কড়া পাহারায় থেকে জীবনকে বাজি রেখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়্যারলেস ম্যাসেজ টি বর্হিবিশে^ প্রচার করি। যুদ্ধকালীন পুরো ৯ মাস সময়ে মুক্তিযুদ্ধাদের বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য দিয়ে স্বাধীনতার জন্য সহায়তা করি। তার স্বীকৃত স্বরূপ মুক্তিযোদ্ধা হতে চাই। আমি প্রথম ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ সালে ওয়্যারলেস ম্যাসেজ এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ করি। আমি মুক্তিযোদ্ধের পূর্বে টিএন্ডটি ওয়্যারলেস টেকনিশিয়ান পদে চাঁদপুর এ সরকারী চাকুরীতে কর্মরত ছিলাম। আমি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বেতার বার্তার মাধ্যমে গোপনীয় ও জরুরী তথ্য আদান প্রদান করতাম। তাই আমার পক্ষে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অ¯্র প্রশিক্ষণে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি শুধু মাত চাঁদপুর টিএন্ডটি ওয়্যারলেস থেকে সক্রিয় ভাবে দেশ বিদেশে সংবাদ আদান প্রদান করার মাধ্যমে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি।
প্রশ্নঃ যুদ্ধকালীন সময়ে আপনার অধীনে কে ছিল? উত্তরে তিনি বলেন, জরুরী গোপনীয় তথ্য যারা আদান প্রদান করেছেন তারাই ছিল মূলত আমার অধিনায়ক। এ রকম অনেক কমান্ডার ও সেক্টর কমান্ডার আমার কাছ থেকে পাক বাহিনীর স্থল সীমানা ও জল সীমানা অবস্থান এবং তাদের প্রস্তুতি সংক্রান্ত যাবতীয় গোপনীয় জরুরী আদান প্রদান করত।
প্রশ্নঃ যুদ্ধকালীন সময়ে আপনার সেকশন কোম্পানী/প্লাটুন কমান্ডার কে ছিলেন? জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন সময়ে আমি চাঁদপুরে টিএন্ডটিতে ওয়্যারলেছ এ টেকনেশিয়ান পদে কর্মরত ছিলাম বিধায় আমার নির্ধারিত কোন সেকশন কোম্পানী/প্লাটুন কমান্ডার ছিল না।
প্রশ্নঃ আপনি কোন সেক্টরে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেনএবং আপনার সেক্টর কমান্ডার কে ছিল?
জবাবে তিনি বলেন, আমি টিএন্ডটিতে ওয়্যারলেছ মেসেজ আদান প্রদানের দায়িত্বে ছিলাম। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমার কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
প্রশ্নঃ আপনি কি ধরনের অস্ত্র সর্ম্পন করেন? উত্তরে তিনি বলেন, যেহেতু আমি টিএন্ডটিতে ওয়্যারলেছ এ গোপনীয় তথ্য আদান প্রদান করাই ছিল আমার প্রদান কাজ। তাই অস্ত্র সর্ম্পন প্রযোজ্য নয়।
প্রশ্নঃ আপনার ট্রপসেট তিনজন প্রকৃত যুদ্ধার নাম বলুন। যাদের নাম লাল মুক্তিবার্তায় বা ভারতীয় তালিকায় আছে। উত্তরে বলেন আমার সাথে অনেক মুক্তিযোদ্ধা, কমান্ডার ও সেক্টর কমান্ডার জরুরী ও গোপনীয় বার্তা আদান প্রদান করতেন। এদের মধ্যে তিনজন হলেন এম এ ওয়াদুদ সেক্টর কমান্ডার ও জেলা কামান্ডার, মোবারক হোসেন ডেপুটি কমান্ডার, আলমগীর সরকার ইউনিয়ন কমান্ডার।
প্রশ্নঃ যোগ্য ঘটনা থাকলে বিস্তারিত বলেন। উত্তরে বলেন আমি চাঁদপুর টিএন্ডটিতে টেকনেশিয়ান পদে কর্মরত ছিলাম থাকাবস্থায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১২টায় অস্থিরতা মধ্যে জীবনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেসেজ প্রচার করি। তখন বাংলাদেশের সাথে বর্হিবিশে^র যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বিধায় বাংলাদেশে কী ঘটেছে বর্হিবিশ^ তা জানত না। ৩০ শে মার্চ ২০১৪ ইং সালে টিভিতে সুধীজনদের টকশোতে আলোচিত হইতে ছিল কে যুদ্ধকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর ওয়্যারলেছ ম্যাসেজ দেশে, বর্হিবিশে^ পাঠিয়েছেন। এ গোপন সংবাদ প্রকাশের জন্য আমি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি কিন্তু কোন ভাবে বর্তমান সরকারের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আমার অন্তরের আক্ষেপটি পৌছাতে পারি নি। আজ ইহা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছি। আমার এ আক্ষেপটি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছানোর ব্যবস্থা করে দিবেন। আমার নামটি উপজেলার যাচাই বাছাই কমিটিতে আছে। আমার নামটি যাতে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হয় সেজন্য দেশরতœ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর নিকট সুদৃষ্টি কামনা করেন মো: জামাল উদ্দিন।

প্রকাশিত : ২৭ আগষ্ট ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমকেজেড

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
56 জন পড়েছেন