কচুয়ায় রঘুনাথপুর গনহত্যা দিবস ৮ সেপ্টেম্বর

ওমর ফারুক সাইম, কচুয়াঃ
রঘুনাথপুর গনহত্যা দিবস ৮ সেপ্টেম্বর। ১৯৭১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রঘুনাথপুরে গনহত্যা চালায়। কচুয়ায় উপজেলার কাদলা ইউনিয়নে অবস্থিত রঘুনাথপুর বাজার । বাজারটি কচুয়া, হাজীগঞ্জ ও মতলব এই তিন উপজেলার মেহনায় অবস্থিত। ডাকাতিয়া নদীর নৌযান চলাচলের মহাসংযোগ প্রবাহিত বিশাল বোয়ালজুড়ি খালের তীরে রঘুনাথপুর বাজারিটি তৎকালীন ছিল জমজমাট। তিন থানার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এলাকাটি মুক্তাঞ্চল হিসাবে পরিচিতি ছিল। যুদ্ধকালীন সময়ে হাজীগঞ্জ উপজেলার কিছু সহযোদ্ধা মুক্তাঞ্চল ভেবে কোন প্রকার ডিফেন্স ছাড়াই রঘুনাথপুর বাজারে অস্ত্র সাথে নিয়ে ঢুকে পড়ে। তারা কেউ চুল কাটাঁনোয় কেউ ছবি উঠানো নিয়ে ব্যস্ত ছিল। কিছুক্ষনের মধ্যে রাজাকার বাহিনী বিপরীত দিক হতে বাজারে ঢুকে ঘেরাও করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারা বিচ্ছিন্ন ভাবে পজিশনে গেলেও আত্মরক্ষা গুলি চালিয়ে পিছু হঠতে বাধ্য হয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মতিন পজিশনে থাকা অবস্থায় আটকা পড়ে এবং এক সময় তাঁর গুলি ফুরিয়ে যায়। শত্রু বাহিনীর ব্রাশফায়ারে মতিনের জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভিয়ে যায়। অগণিত লাশের মধ্যে যে কয়জনের নাম জানা যায় তারা হলেন, শহীদ মো: শামছুল হক,শহীদ জুনাব আলী,শহীদ নজরুল ইসলাম ভূইয়া,শহীদ মোয়াজ্জেম হোসেন, শহীদ আবু মিয়া(ধড্ডা), শহীদ আনছর আলী মিস্ত্রী(মনপুরা), শহীদ শামছুল হক-২ ও স্বগীয় গিরিস চন্ত্র সরকার প্রমুখ। শহীদদের স্মরনীয় করে রাখতে রঘুনাথপুর বাজারে একটি ছোট স্মৃতিস্থম্ভ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, রঘুনাথপুর গণহত্যা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনীয় করে রাখতে একটি সৌন্দর্য মন্ডিত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করার।

প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমকেজেড

220 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়