নিহত রোহিঙ্গা দুর্ধর্ষ ডাকাত নুর মোহাম্মদের কাছে বাংলাদেশী ‘স্মার্টকার্ড’

0
172

 

 

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

নিজ কিশোরী কন্যার কর্ণছেদন অনুষ্ঠানে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ কোটি টাকা উপহার সামগ্রী পেয়ে আলোচনায় আসা টেকনাফের ঘটনাবহুল জনপদ জাদীমুরায় যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামী কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ ওরফে নুর আলমের রয়েছে বাংলাদেশী স্মার্টকার্ড।

শনিবার ৩১ আগস্ট দুপুরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামরী পাহাড়ী এলাকা থেকে কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদকে আমান উল্লাহ নামে অপর একজন সহযোগীসহ আটক হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

তবে তাঁকে আটকের বিষয়টি আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যাকান্ডের ঘটনায় জাদীমুরাসহ পুরো এলাকা উত্তপ্ত হওয়ায় এতদিন ধামাচাপা ছিল কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ ওরফে নুর আলমের কিশোরী কন্যার জমকালো ‘কান ছেঁদা’র চমকপ্রদ খবর।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত, মেহ-প্রমেহ) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন :
হাকীম মিজানুর রহমান
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

জানা গেছে, কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারী চট্রগ্রামের সিটি কর্পোরেশনের ঠিকানায় বাংলাদেশী স্মার্টকার্ড তৈরী করেছেন। কার্ডে নাম দিয়েছেন নুর আলম। পিতার নাম কালা মিয়া এবং মাতার নাম সরু বেগম। জন্ম তারিখ ২৫ নভেম্বর ১৯৮৩ ইংরেজী। এনআইডি নম্বর-৬০০৪৫৮৯৯৬৩। তার স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে পশ্চিম ষোলশহর পার্ট-২, হিলভিউ রোড, ৪২১১ পাচঁলাইশ, চট্রগ্রাম।

১৯৯২ সালে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদ হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জাদিমুরা এলাকায় প্রথমে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেখানেই জমি কিনে বাড়ির মালিক হন। প্রতিটি ক্যাম্পে স্ত্রী থাকায় তার আধিপাত্য বিস্তারে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদের মালিকানায় বাংলাদেশে ৪টি বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে একটি পাকা ভবন, একটি দু’তলা, একটি টিনের ঘর এবং অপরটি বাগান বাড়ি। রয়েছে একাধিক স্ত্রী।

টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা নুর মোহাম্মদ নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বঘোষিত নেতা, সন্ত্রাসী ও ইয়াবা গডফাদার নুর মোহাম্মদকে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নিহত হয়েছে । এসময় ওসি তদন্তসহ ৩জন পুলিশ আহত হলেও ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে ।

রবিবার ভোরে উপজেলার হ্নীলা জাদিমোরা ২৭নং ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, রবিবার ভোর পৌনে ৬টারদিকে টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহার নেতৃত্বে বিশেষ পুলিশের দল আটক মৃত রোহিঙ্গা কালা মিয়ার ছেলে দুধর্ষ সন্ত্রাসী নূর মোহাম্মদকে (৩৪) নিয়ে উপজেলার হ্নীলা জাদিমোরা ২৭নং ক্যাম্পের পাহাড়ি জনপদের বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ভাণ্ডার উদ্ধার অভিযানে যায়। এসময় রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠন এবং মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের সশস্ত্র সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে নূর মোহাম্মদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা (৩৬), কনস্টেবল আশেদুল (২১), অন্তর চৌধুরী (২১) আহত হয়।

এরপর পুলিশও আত্মরক্ষার্থে আধ ঘণ্টাব্যাপী ৪০/৫০ রাউন্ড পাল্টা গুলিবর্ষণ করার পর হামলাকারীরা গভীর পাহাড়ের দিকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ৪টি এলজি, ১টি থ্রি কোয়াটার, ১৮ রাউন্ড গুলি, ২০ রাউন্ড খালি খোসাসহ গুলিবিদ্ধ নূর মোহাম্মদকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক নূর মোহাম্মদকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান,মোস্ট ওয়ান্টেড একাধিক মামলার পলাতক আসামি ও যুবলীগ নেতা ওমর হত্যা মামলার আসামি নূর মোহাম্মদকে নিয়ে আস্তানায় অভিযানে গেলে তার বাহিনীর গুলিতে থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) সহ ৩জন আহত হয়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থল হতে উপরোক্ত অস্ত্রাদি ও গুলিবিদ্ধ নূর মোহাম্মদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মৃতদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে,কুখ্যাত সন্ত্রাসী, মাদক কারবারী ও রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বঘোষিত নেতা বন্দুকযুদ্ধের মারা যান এমন খবরে এলাকাবাসী স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছে। অনেকে মিষ্টি বিতরণ করেছে বলে জানা যায়।

প্রকাশিত : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, রোববার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর/

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
154 জন পড়েছেন