পঞ্চগড়ে কাঁচা চা পাতার মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

0
8

এন এ রবিউল হাসান লিটন, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ
পঞ্চগড়ে কাঁচা চা পাতার মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে পঞ্চগড়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রান্তিক চা চাষিরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের শের-ই-বাংলা পার্কের মুক্ত মঞ্চে বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন ওনার্স এসোসিয়েশন এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। সবাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি আব্দুল লথিব তারিন, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, পৌর কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম, নাগরিক কমিটির সভাপতি বশিরুল আলম, চা চাষী ও জেলা শিল্প কলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াবুর রহমান, সাংবাদিক ও চা চাষি মোহাম্মদ শাহাজালাল, চা চাষি এবিএম আক্তারুজ্জামান শাহাজাহান, চা চাষি শাহাজাহান খান প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন পঞ্চগড়ের চা শিল্প আজ হুমকির মুখে। কাঁচা পাতার মূল্য না বাড়ালে চা চাষিদেও পথে বসতে হবে। ইতোমধ্যে অনেক চা চাষি চা পাতা কেটে ফেলে দিচ্ছেন। বর্তমানে এক কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ১২ টাকা। এতে হতাশ হয়ে চা চাষে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছেন হাজারো ক্ষুদ্র চাষি। অনেকে কষ্ট করে জমিতে লাগিয়ে ছিলেন অর্থকরী ফসল চা। কিন্তু বিগত কয়েক মাস যাবত চলা কাঁচা চা পাতার দামে যেন মন ভরছে চাষিদের। চা পাতা সঠিক সময়ে দিতে না পারায় কেটে ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় চা চাষিরা। এতে করে চা বাগানের যতœ নিতে অনীহা দেখা দিয়েছে।
এ সময় বলা হয় কাঁচা চা পাতার মূল্য বৃদ্ধির জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চা পাতার মূল্য বৃদ্ধি না করলে চা চাষিরা পঞ্চগড় কে অচল করে দেবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিক্ষোভটি শেষ হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ৬টি দাবি লিখিত স্মারক লিপি জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের হাতে তুলে দেয়া হয়। এর আগে ৬টি দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পাঠ করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যন আনোয়ার সাদাত সম্রাট।
দাবি গুলো হল- ১। চা আমদানী বন্ধ এবং সীমান্ত দিয়ে চা প্রবেশ বন্ধ করা, ২। পঞ্চগড়ে সরকারি চা কারখানা স্থাপন, ৩। কাঁচা চা পাতার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, ৪। চা চাষি ও কারখানায় ভতুর্কি প্রদান, ৫। পঞ্চগড়ে তৃতীয় নিলাম কেন্দ্র স্থাপন, ৬। আঞ্চলিক টি বোর্ডে কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন জনবল নিয়োগ।

প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

চাঁদপুর রিপোর্ট-এমকেজেড

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
53 জন পড়েছেন