থানায় বিয়ে দেয়া গৃহবধূকে আ.লীগ নেতার অফিসে গণধর্ষণ করা হয়েছিল

0
225

 

জেলা প্রতিনিধি পাবনা

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

থানায় ডেকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া সেই গৃহবধূ স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার অফিসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার টেবুনিয়া খাদ্যগুদাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ঘন্টু দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার অফিসেই ওই গৃহবধূকে চারদিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়েছিল জানিয়েছে পুলিশ।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত, মেহ-প্রমেহ) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন :
হাকীম মিজানুর রহমান
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) +88 01762240650, +88 01777988889
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান বলেন, সদর উপজেলার টেবুনিয়া খাদ্যগুদামের পেছনে আওয়ামী লীগ নেতা ঘন্টুর অফিস। ওই অফিসে গৃহবধূকে চারদিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বুধবার দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতা ঘন্টুকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে আওয়ামী লীগ নেতা ঘন্টুর ওই অফিসে কী ধরনের কাজ হয় সে বিষয়ে কিছু জানাতে না পারলেও সেখানে তার বৈধ কোনো ব্যবসা নেই বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ঘন্টুর বিরুদ্ধে এলাকায় মাদকের ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ আছে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি ইবনে মিজান।

এরই মধ্যে সোমবার গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ে দেয়ার ঘটনায় পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হককে শোকজ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ে দেয়ার ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। থানায় মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওসি ওবাইদুল হককে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের সাহাপুর যশোদল গ্রামে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন ওই গৃহবধূ। ২৯ আগস্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ চার সহযোগীকে নিয়ে ওই গৃহবধূকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে সদর উপজেলার টেবুনিয়া খাদ্যগুদামের পেছনে আওয়ামী লীগ নেতা ঘন্টুর অফিসে চারদিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পাঁচজন।

সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানালে গত বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) গৃহবধূকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গৃহবধূ বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে রাসেলকে আটক করে পুলিশ। তবে বিষয়টি মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত না করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যস্থতায় স্বামীকে তালাক দিয়ে ধর্ষক রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে ঘটনার নিষ্পত্তির করেন ওসি ওবাইদুল হক।

এরই মধ্যে ডাক্তারি পরীক্ষায় গৃহবধূকে গণধর্ষণের আলামত মিলেছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় ওসি ওবাইদুল হককে কারণ দর্শাতে বলেছে। মঙ্গলবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গৃহবধূর মামলা নেয়া হয়েছে।

এদিকে, গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে থানার ভেতরে এক ধর্ষকের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়ার ঘটনা হাইকোর্টের নজরে এনেছেন এক আইনজীবী।

এ বিষয়ে আদালত বলেছেন, আজ টিভিতে দেখলাম মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন। ওসিকেও শোকজ করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। আগে দেখি, প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়।

প্রকাশিত: ০৫:৪২ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
111 জন পড়েছেন