চাঁদপুরে মৃত স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালালেন স্বামী

0
535

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :
চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেছ এলাকার বিউটিশিয়ান তানজিনা বেগমকে (২৫) গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী জুয়েল খানের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এ তথ্য জানান চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিম উদ্দিন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

তিনি জানান, তানজিনাকে গলা টিপে হত্যার পর মরদেহ সদর হাসপাতালের নিচে রেখে পালিয়েছেন এক ব্যক্তি। তার স্বামী জুয়েল খানই গলা টিপে তাকে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মৃত নারীর ছোট ভাই মেহেদী হাসান জানান, বছর পাঁচেক আগে প্রেমের সম্পর্কে জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর মুন্সীর বাড়ির মুন্নাফ মুন্সীর কন্যা তানজিনা আক্তিারের সাথে চাঁদপুর সদর উপজেলার তরফুরচন্ডি তফাদার বাড়ির নুরু খানের ছেলে জুয়েল খানের সাথে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়।

কিন্তু দু’জনের সম্পর্কে তেমন মিল না থাকায় সংসারে হারহামেশা ঝগড়া লেগেই থাকতো। সে সূত্রে প্রায়ই তানজিনাকে মারধর করতো জুয়েল এমনটি দাবি ছোট ভাই মেহেদীর। ২০১৮ সালে শেষের দিকে জুয়েলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করে তানজিনার পরির্বা মামলাটি এখনো চলমান এবং এর তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদ।

জুয়েল চাঁদপুর টেকনিক্যাল স্কুল এলাকায় তার মালিকানাধীন মায়ের দোয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামে একটি দোকানে গাড়ি সার্ভিসিংয়ের কাজ করতো।

এ বিষয়ে কথা বলতে জুয়েলের মুঠোফোনে ০১৮১১৫৮৬৫০১ একাধিকবার চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায়, অজ্ঞাত এক যুবক তার স্ত্রীকে মৃতাবস্থায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে, হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সৈয়দ আহমেদ কাজল তাকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেন। সবশেষে তিনি তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসিজি পরীক্ষা করেন। পরে তিনি ওই অজ্ঞাত গৃহবধূকে মৃত ঘোষনা করেন। ইসিজি করার সুযোগে মৃত নারীর স্বামী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। তাই ওই মৃত নারী এবং তার স্বামীর কোন নাম পরিচয় জানার সুযোগ হয়নি।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সৈয়দ আহমেদ কাজল জানান, নিহতের স্বামী মৃতাবস্থায়ই ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার ইসিজি পরীক্ষার ফাঁকে তার স্বামী পালিয়ে যায়। আমরা প্রায় একঘন্টা অপেক্ষা করার পরেও তার স্বামী আর ফিরে না আসায় আমরা এটিকে অপমৃত্যু হিসেবে চাঁদপুর মডেল থানাকে অবগত করি। তবে কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা ময়না তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা যাবে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, জুয়েল প্রায়ই যৌতুকের টাকার জন্য তানজিনাকে মারধর করতেন। জুয়েলের বিরুদ্ধে একটি যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় জুয়েল তার স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার কমিউনিটি পুলিশিং ইন্সপেক্টর আবদুর রব বলেন, আমরা তানজিনা হত্যার খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তানজিনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কে ভর্তি করলেন, তার নাম হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কর্তৃপক্ষ না লিখে উদাসিনতা দেখিয়েছেন। তবে আমরা তদন্তের স্বার্থে হাসপাতালের ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেখান থেকেই জানতে পারব যে তানজিনাকে কে বা কারা হাসপাতালে রেখে গিয়েছিলেন।

জানা গেছে, ওয়্যারলেছ বাজারের টিঅ্যান্ডটি অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারিছ বেপারির চার তলা ভবনের নিচ তলা ভাড়া নিয়ে নিজের নামে বিউটি পার্লারের ব্যবসা শুরু করেন তানজিনা।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. আসাদুজ্জামান জানান, তানজিনা হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর/

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
204 জন পড়েছেন