শোভন ও রাব্বানী প্রসঙ্গে : জয় হোক দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের

0
37

মিজানুর রহমান রানা :

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

খুব মর্মাহত হয়ে লিখছি বিষয়টি। যা না বললেই নয়। চারপাশে প্রতিদিন হাজার অন্যায়-অবিচার, জুলুম নির্যাতন দেখতে দেখতে বিষয়টি আমাদের গা-সওয়া হয়ে গেছে বলে আমরা অনেক কিছুতেই অভ্যস্ত। কারণ বাংলাদেশ জম্মের পূর্ব থেকেই এসব অন্যায়-অবিচার, জলুম-নির্যাতন ছিলো বলেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে হাজারও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে বাঙালির ওপর জলুম নির্যাতন রোধে এ দেশের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর থেকে নানাবিধ ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু পরিবারসহ গোট জাতি। জাতিকে দীর্ঘদিন যাবত এর মাশুল গুণতে হয়।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আরোহন করার পর থেকেই যে কোনো সময় যে কোনো পরিস্থিতিতে এসব অনাচার অবিচার, জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করেন। যদি স্বয়ং কোনো মন্ত্রীও অন্যায় করেন, দুর্নীতি করেন তবে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিলো। এর মধ্যে সুরঞ্জিত সেন, কাদের সিদ্দিকী সহ আরো অনেক উদাহরণ বর্তমান।

অনেক আশা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সুযোগ্য নেতাদেরকে প্রধানতম দুটি পদে নিজের বাছাই করা দু’জন ছাত্রনেতাকে বসিয়েছিলেন। এর মধ্যে শোভন ও রাব্বানী অন্যতম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই এরা জড়িয়ে পড়ে দুর্নীতি, অন্যায়-অবিচারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই দু’জনের নামেও বিস্তর অভিযোগ জমা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা বলেন এবং গোয়েন্দা রিপোর্টসহ বিভিন্নভাবে তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পান।

তিনি তখন দেশের স্বার্থে এসব বিষয়ে কঠোর হয়ে যান এবং নির্দেশ দান করেন দু’জনের পদত্যাগের জন্য। তাঁরা দু’জন এ বিষয়ে কথা বলার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনমনীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সাথে কোনো কথা বলেননি।

পরিশেষে দু’জনকেই পদত্যাগ করতে হয়।

এই কমিটির কাছে তার প্রত্যাশা ছিল বেশি, তাই ক্ষোভটাও হয়েছে বেশি। অবশ্য সম্মেলনের এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিতর্কে জড়ায় ছাত্রলীগের পদচ্যুত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

পদবঞ্চিত নেতারা আন্দোলন, বিক্ষোভ, অনশন করে। তাদের অভিযোগ অর্থের বিনিময়ে অছাত্র, বিবাহিত, অনুপ্রবেশকারী, মাদকাসক্তদের কমিটিতে ঠাঁই দেয়া হয়েছে। তারা এ ধরনের নেতাদের তালিকাও দেন। আওয়ামী লীগ নেতারাও বিক্ষুব্ধদের সাথে কথা বলেন। আন্দোলনের মুখে ছাত্রলীগ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করা হলেও তা আর পূরণ করা হয়নি। এখনও ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের হাহাকার ভেসে বেড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। তাই তো শোভন-রাব্বানীর পদচ্যুতির খবরে ক্যাম্পাসে উল্লাস করে বঞ্চিতরা। তবে যত দিন যাচ্ছিল, ততই বেপরোয়া হয়ে ওঠে ছাত্রলীগ, শেখ হাসিনা যাদেরকে অভিহিত করেছেন ‘মনস্টার’ হিসেবে।

অর্থের বিনিময়ে কমিটি দেয়া, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মাদক পাওয়া, দুপুর পর্যন্ত ঘুমানো এসব অভিযোগও যায় শেখ হাসিনার কানে। সিনিয়র নেতাদের দাওয়াত দিয়ে অনুষ্ঠানে দেরি করে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগই শেখ হাসিনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। তিনি অতিদ্রুতই তাদেরকে পদ থেকে সরিয়ে দেন। দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই প্রায় ছাত্র সংগঠনটি।

বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে জননেত্রী মাঝে মাঝে কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এ সিদ্ধান্তে খুশি হন সাধারণ মানুষ।

জয় শেখ হাসিনার জয়। জয় বাংলাদেশের জয়।

জয় হোক শেখ হাসিনার। জয় হোক দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের।

লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, চাঁদপুর জেলা শাখা।

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
100 জন পড়েছেন