সীমা দাস কেন সুমাইয়া, সাগর এখন কোথায়?

0
39

রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি :

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি : সীমা দাস কেন সুমাইয়া, সাগর এখন কোথায়?

সুমাইয়া ওরফে সীমা দাস। তার কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে খোয়া যাওয়া ইসির ল্যাপটপ

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেয়ার রহস্য উৎঘাটনের পথে দুটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌন সমস্যার (যৌন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহবাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্যপাত, মেহ-প্রমেহ) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন :
হাকীম মিজানুর রহমান
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) 01762240650, 01834880825
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করতে পারলে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। এর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির প্রজেক্ট থেকে চাকরিচ্যুত সাগর (৩৭) এই জালিয়াত চক্রের মাস্টারমাইন্ড। তদন্ত শুরুর পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। এ চক্রের আরেক সদস্য সত্য সুন্দর দেকে (৩৬) খুঁজছে পুলিশ।’

ওসি আরও বলেন, ‘এ চক্রের নারী সদস্য সুমাইয়া ওরফে সীমা দাস। এই সীমা দাসের কাছ থেকেই নির্বাচন কমিশনের লাইসেন্স করা ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়েছে। তাই এই সীমা ওরফে সুমাইয়ার প্রকৃত পরিচয় বের করা প্রয়োজন।’

সীমা দাস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জেনেছি, সীমা দাস হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছেন। তবে আমরা তার এই পরিচয়ের সত্যতা যাচাই-বাছাই করছি।’

এদিকে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেয়ার ঘটনায় একইদিন রাতে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মচারীসহ পাঁচজনকে আসামি করে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। নগরের ডাবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা বাদী মামলাটি করেন।

মামলায় জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেয়া, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করাসহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিরা হচ্ছে-চট্টগ্রাম নগরের ডাবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক মো. জয়নাল আবেদীন (৩৫), তার সহযোগী পটিয়া উপজেলার মৃত হারাধন দাসের ছেলে গাড়িচালক বিজয় দাস (২৬) ও তার বোন সীমা দাস (২৪) ওরফে সুমাইয়া। এর মধ্যে সীমা চট্টগ্রাম সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আয়া পদে কর্মরত রয়েছেন। বাকি দুই আসামিরা হলেন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির প্রজেক্ট থেকে চাকরিচ্যুত সাগর (৩৭) ও সত্য সুন্দর দে (৩৬)।

লাকি আক্তার ও তার স্বামী। লাকি আক্তারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনআইডি জালিয়াতির ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে

এর আগে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জয়নাল আবেদীন (৩৫), বিজয় দাস (২৬) ও তার বোন সীমা দাসকে (২৪) আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনির হোসাইন।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান জানান, হাটহাজারী থেকে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে আসা রোহিঙ্গা নারী লাকি আক্তারকে শনাক্তের পর জানা যায়, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত আছে। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে গত তিন দিনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ডাবলমুরিং থানার অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীনকে আটক করা হয়েছে। পরে তার সহায়তায় বিজয় দাস ও তার বোন সীমা দাসকেও আটক করা হয়। এ সময় জয়নাল আবেদীনের হেফাজতে থাকা নির্বাচন কমিশনের লাইসেন্স করা একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

২০১৫ সালে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ইনপুট করার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ একটি ল্যাপটপ (আইপি নম্বর ৪৩৯১) চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে গায়েব হয়। ভোটার তালিকা তৈরির জন্য ব্যবহৃত ওই ল্যাপটপটি দিয়েই রোহিঙ্গাদের এনআইডি কার্ড তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনির হোসাইন খান।

তিনি বলেন, ‘জয়নাল আবেদীনের হেফাজতে থাকা নির্বাচন কমিশনের লাইসেন্স করা ল্যাপটপটি ব্যবহার করে ওয়েবক্যাম দিয়ে ছবি তোলাসহ জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজই করা যায়। জাতীয় তথ্যভান্ডারে এন্ট্রিও দেয়া যায়। এই ল্যাপটপটি ব্যবহার করেই তারা এনআইডি জালিয়াতি করেছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কর্মচারী জড়িত থাকার তথ্য আছে। তাদেরও পর্যায়ক্রমে তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে।

এদিকে ল্যাপটপ খোয়া যাওয়া এবং রোহিঙ্গাদের ভোটার করার পেছনে নির্বাচন কার্যালয়ের কারও যোগসাজশ থাকতে পারে বলে সন্দেহ পোষণ করছে দুদক। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে দুদকের একটি দল রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানের পরে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরিফ উদ্দিন এ কথা জানান।

তিনি জানান, ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম নির্বাচন অফিসে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ (আইপি নম্বর ৪৩৯১) হারিয়ে যায়। কিন্তু এটা হারিয়ে যাওয়ার পর ইসির কর্মকর্তারা এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। এমনকি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। এ বিষয়ে জেলা কর্মকর্তা কিংবা আঞ্চলিক কর্মকর্তা কোনো তথ্য জানেন না। আমাদের ধারণা, ওই ল্যাপটপে বাঁশখালীর একটি অংশের বেশ কিছু রোহিঙ্গা ভোটারের তথ্য রয়েছে। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস থেকে এনআইডি পেয়েছেন এমন ১৫৪ জন রোহিঙ্গার তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর/

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
79 জন পড়েছেন