যুবলীগে যোগ দিয়ে ভাগ্য ফেরানো ‘ওরা ১১ জন’

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বা ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণে যোগ দিলেই ভাগ্যের পরিবর্তন! গাড়ি-বাড়ি, কাড়ি-কাড়ি টাকা, নারীসঙ্গ! আরো যা প্রয়োজন, সবই আসতো হাতের মুঠোয়।

আওয়ামী লীগের এই অঙ্গসংগঠনে যোগ দিয়ে ভাগ্য খুলেছেন এমন ১১ জনই এখন বেশি আলোচনায়। এরা সম্পূর্ণ ‘জিরো থেকে হিরো’ হয়েছেন। তাদের অর্জিত অর্থের সন্ধানে নেমে স্তম্ভিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সাধারণ মানুষও এসব নেতার বিত্ত-বৈভবের খবরে হতবাক। এ-ও কি সম্ভব? হ্যাঁ, সব সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র যুবলীগে যোগ দিয়ে। স্বল্প সময়ে পরিবর্তন করে ফেলেছেন নিজেদের ভাগ্য। এসব বেরিয়ে আসছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশজুড়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে।

Night King Sex Update
নারী-পুরুষের যে কোনোা যৌ*ন সমস্যার (যৌ*ন দুর্বলতা, সন্তান না হওয়া, সহ*বাসে ব্যর্থতা, দ্রুত বীর্য*পাত, মেহ-প্রমেহ) সমাধানে ‘নাইট কিং’ ও ‘নাইট কিং গোল্ড’ কার্যকরী। বাংলাদেশের যে কোনো জেলা বা উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ‘নাইট কিং’ পেতে যোগাযোগ করুন :
হাকীম মিজানুর রহমান
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার, যোগাযোগ করুন : (সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮ টা (নামাজের সময় ব্যতীত) 01762240650, 01834880825
এছাড়াও শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, অশ্ব (গেজ, পাইলস, ফিস্টুলা), ব্লকেজ, শ্বেতপ্রদর, রক্তপ্রদর ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

যুবলীগ কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে শামীম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেফতারের পর তাদেরসহ যুবলীগের বর্তমান ও সাবেক আরো ১১ নেতার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। তবে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর থেকে সবাই রাজধানী থেকে হওয়া! গা-ঢাকা দিয়েছেন। আর এদের গ্রেফতারে হন্যে হয়ে খুঁজছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

যুবলীগের আলোচিত ১১ জনের অন্যতম জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ ব্রাদার্স ক্লাবের সভাপতি যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হোসেন ওরফে নাইরা জাহিদ, দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ, দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সরোয়ার হোসেন বাবু, সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইকবাল সান্টু, যুবলীগ উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ও যুবলীগ কেন্দ্রীয় সাবেক নেতা ও বর্তমান ২০ নং (দক্ষিণ) ওয়ার্ড নেতা ফরিদ উদ্দিন রতন।

সূত্র আরও জানায়, মহিউদ্দিন মহির বিরুদ্ধে গণপূর্ত, বিদ্যুৎ ভবন, শিক্ষা ভবন, খাদ্য ভবনসহ বিভিন্ন এলাকায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের তথ্য উঠে এসেছে। যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার রয়েছে ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট।ঢাকা-বরিশাল রুটে আলিশান লঞ্চ রয়েল ক্রুজ-২ এর মালিক তিনি। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে কয়েকশ কোটি টাকা বানিয়ে আরও একাধিক লঞ্চের মালিক তিনি।

গাজী সরোয়ার বাবু যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক এবং হাসপাতালের ক্রয় কমিটির চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- এ হাসপাতালে একটি ডিম ১৪০ টাকা ও কলা ১৭০ টাকা নেয়া হয়। চার বছর ধরে তিনি রোগীদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সদরঘাটের গেটওয়াল মার্কেটের সভাপতিও গাজী সরোয়ার হোসেন বাবু। ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪০টি দোকান দখলে নেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, রাজউকসহ বিভিন্ন ভবনের ঠিকাদারি তার নিয়ন্ত্রণে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি আনোয়ার ইকবাল সান্টুকেও খুঁজছে বিভিন্ন সংস্থা। তার বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন, গণপূর্ত, ওয়াসা, রাজউক, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ ভবনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। জি কে শামীম ও তার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব ভবনে ঠিকাদারি করে কয়েক বছরেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন সান্টু। তার মূল শক্তি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান ভূঁইয়া বলে জানা গেছে।

২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে বিদ্যুৎ ভবনে বড় বড় কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত এই রতন সিটি কর্পোরেশনের কাজও নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের তথ্য সংগ্রহ করবে দুদক

লন্ডন প্রবাসী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের অর্থপাচার ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করে তা যাচাই-বাছাই করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি জানান দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত্। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে দুর্নীতি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যই কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। এ বিষয়েও কমিশন যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, লন্ডনে চারটি কোম্পানি খুলে ব্যবসা করছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। এসব প্রতিষ্ঠানে শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। ক্যাসিনোসহ ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের অনেকের সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে।

বিনিয়োগকারী ভিসায় গিয়ে নাজমুল এখন বিলেতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। অনুসন্ধানে নাজমুলের নামে ব্রিটেনের কোম্পানি হাউজে আবাসন, গাড়ির অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেইম ম্যানেজমেন্ট, পণ্যের পাইকারি ব্যবসা, বিজ্ঞাপন, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান, সেবা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের ৬টি কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি কোম্পানির পরিচালক পদে তার নাম নেই। বাকি ৪টি কোম্পানির মধ্যে একটির একক পরিচালক এবং তিনটি কোম্পানির যৌথ পরিচালক হিসেবে আছেন নাজমুল।

২০১১ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হন এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক হন সিদ্দিকী নাজমুল আলম। জানা গেছে, বর্তমানে নাজমুল আলম বিনিয়োগকারী ভিসায় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। ব্রিটিশ সরকারের আইন অনুযায়ী, এই ভিসা পেতে ন্যূনতম ২ লাখ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় ২ কোটির বেশি টাকা) বিনিয়োগ করতে হয়। ফ্লেক্সফগ লিমিটেড, এলিট সিটি লিমিটেড, নাজ ইউকেবিডি প্রোপার্টিজ লিমিটেড, এসএনবি অটোস লিমিটেড, এসএনআর ইউকে বিডি লিমিটেড ও কার মিউজিয়াম লিমিটেড নামে ৬টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নাজমুল যুক্ত আছেন। এর মধ্যে ইস্ট লন্ডনের কেনন স্ট্রিট রোডে নাজ ইউকেবিডি প্রোপার্টিজ নামের আবাসন ব্যবসার একক পরিচালক তিনি। যার মূলধন দেখানো হয়েছে সাড়ে ৮ লাখ পাউন্ড, বাংলাদেশি টাকায় যা ১০ কোটির সমান। কোম্পানিটি ২০১৮ সালের ১০ জুলাই নিবন্ধিত হয়। টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন রোডের পাশে পান্ডারসন গার্ডেনে রয়েছে ফ্লেক্সফগ লিমিটেড নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যেটি ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি কোম্পানি নিবন্ধন করা হয়। ব্যবসার ধরন দেখানো হয়েছে নন-স্পেশালাইজড হোলসেল ট্রেড, অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সি এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সেবা।

তৃতীয় কোম্পানি এলিট সিটি লিমিটেড। এটি সেন্ট্রাল লন্ডনের বসওয়েল স্ট্রিটে অবস্থিত। এই কোম্পানি ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট নিবন্ধিত হয়।

চতুর্থ কোম্পানি এসএনবি অটোস লিমিটেড বেথনাল গ্রিনের ২৫ পান্ডারসন গার্ডেনে অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত হয়। এই কোম্পানির ব্যবসার ধরন হিসেবে বলা হয়েছে- রেন্টিং অ্যান্ড লিজিং অব কারস অ্যান্ড লাইট মোটর ভেহিক্যাল। শুরু থেকে এই প্রতিষ্ঠানেরও পরিচালক হিসেবে আছেন নাজমুল আলম ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

এছাড়া, এসএনআর ইউকে বিডি লিমিটেডে ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর নাজমুল পরিচালক হিসেবে যোগ দিলেও ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি তিনি পদত্যাগ করেন। একইভাবে কার মিউজিয়াম লিমিটেডে ২০১৬ সালের ২৮ জুন পরিচালক পদে যোগ দিয়ে তিন দিনের মাথায় ২০১৬ সালের ১ জুলাই পদত্যাগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে সিদ্দিকী নাজমুল আলম ফেসবুকে দেয়া একটি স্ট্যাটাসে লন্ডনে তার কোনো কোম্পানি নেই বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন। স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘লন্ডনে একটা কোম্পানি খুলতে খরচ হয় ১২ পাউন্ড। চারটি কোম্পানি খুলতে খরচ হয়েছে ৪৮ পাউন্ড, বাংলা টাকায় প্রায় ৪৯০০ টাকা, যা সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স খোলার চাইতেও কম। আর অপরিশোধিত মূলধন হিসেবে চাইলে আপনি যা ইচ্ছা দেখাতে পারবেন। তার পরেও আমার কোনো কোম্পানির অপরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৫/৭ হাজার পাউন্ডের বেশি নয়; অথচ কি কাল্পনিক নিউজ?’

তিনি বলেন, ‘চাইলে যে কেউ যুক্তরাজ্যে কোম্পানি খুলতে পারে, জাস্ট ২০ মিনিট সময় লাগে অনলাইনে। আমার কোম্পানিগুলোর নাম তো সবাই পেলেন এখন Companyhouse.gov.uk-এ গিয়ে দেখলেই বুঝবেন, সংবাদের সত্যতা কতটুকু।’

প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর/

271 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন