3

ফরিদগঞ্জে হামলায় আহত বৃদ্ধা পালিয়ে বেড়াচ্ছে : আতংকে দিন কাটছে

নিজস্ব প্রতিনিধি :
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১১নং চরদুঃখিয়া পুর্ব ইউনিয়নের পুর্ব আলোনিয়া গ্রামের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ইউপি সদস্যের পরিবার বর্তমানে আংতকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিজেদের করা দেয়াল প্রতিপক্ষরা দলবলে এসে ভেঙ্গে দেয়ার সময় বাঁধা দিতে গেলে তাদের হামলায় জীবনের নেছা নামে এক বৃদ্ধাসহ দুইজন গুরুতর আহত হন।

এব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানায় তারা মামলা দায়েরের পর প্রতিপক্ষও পাল্টা মামলা দায়ের করেছে। প্রতিপক্ষ সরকারি দলের নেতা হওয়ার কারণে তারা পুনঃ হামলাসহ নানা আতংকের মধ্যে রয়েছে।

হামলারর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী জীবনের নেছা জানান, গত ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে উভয় পরিবারের সাথে জমি সংক্রান্ত ঝামেলা নিয়ে বিরোধ চলছে। আদালতে ও থানায় মামলা রয়েছে। তারপরও ঝামেলা এড়াতে বারবার শালিশ বৈঠকের মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নি:ষ্পত্তির জন্য প্রতিপক্ষকে ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের মাধ্যমে অনুরোধ করা হলেও তারা তাতে কর্ণপাত করছে না। বরং ক্ষমতাসীন দলের দোহাই দিয়ে একের পর এক নির্মমতা চালাচ্ছে। বিপরীত রাজনৈতিক দলের সমর্থক হওয়ার কারণে অসহায় পড়েছে। সর্বশেষ নির্মাণ করা একটি দেয়াল সদলবলে ভাঙ্গার সময় বাঁধা দিলে তাদের হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছেন। একই সাথে তার পুত্রবধূও তাদের হামলায় হয়েছেন আহত। অথচ জীবনের নেছার স্বামী আলী আহাম্মদ ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য।

gif maker
জীবনের নেছা জানান, জমি নিয়ে এভাবে বিরোধ নিয়ে বসবাস করা কষ্টকর। গত ১৯ অক্টোবর শনিবার বেলা ১২টার দিকে যখন তিনি হামলার শিকার হন। তখন তাদের বাড়িতে তিনি এবং তার পুত্রবধূ রোজিনা ছাড়া কেউই উপস্থিত ছিলেন না। তার স্বামী ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আহাম্মদ ওই সময়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি কাজে অবস্থান করছিলেন। ওই তার মেয়ে পারুল বেগম তার স্বামীর পাশের একটি বাড়িতে মুড়ি ভাজছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষর আমির হোসেন গং তাদের দুইজনকে মামলার আসামী করে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন। তারা নিজেরা দলবলসহ অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে এসে নির্মাণ করা দেয়াল গুড়িয়ে দিলেও উল্টো মামলা সাজানোর নাটক করছেন। যদিও তারাও মামলা দিয়েছেন।
আলী আহাম্মদের পুত্রবধূ রোজিনা বেগম জানান, ‘গত ১৯ অক্টোবর তাদের বাড়ির পাশের ইতিপুর্বে একটি নির্মাণ করার দেয়াল হঠাৎ করেই আমির হোসেনসহ অন্তত ১০/১২জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে ভাঙ্গতে শুরু করে। আমি তা দেখতে পেয়ে তাদের ভাঙ্গতে নিষেধ করতে গেলে তারা আমাকে মারধর শুরু করে। আমার চিৎকার শুনে আমার শাশুড়ি জীবনের নেছা এগিয়ে গেলে তাদের বেগম মারধর করাসহ মারাত্মক আহত করে। পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু আমাদের উপর হামলার পর তারা নিজেরাই আহত হওয়ার নাটক সাজিয়ে উল্টো হয়রানি করার জন্য থানায় মামলা দায়ের করে। পরে আমার শাশুড়ি কিছুটা সুস্থ হলেও আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করি। বর্তমানে আমরা আতংকগ্রস্থ রয়েছি। আমির হোসেন গং সরকারি দলের নেতা হওয়ায় আমাদের নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।

ইউপি সদস্য আলী আহাম্মদ জানান, তিনি ঘটনার সময় থানায় থাকলেও তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। বর্তমানে আমি মামলা ও আমির হোসেনদের হুমকির ভয়ে এলাকায় থাকতে পারছি না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাছির আহাম্মদ জানান, এই ঘটনার পুর্বে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ সমাধানে আমি বহুবার মিমাংসার জন্য বৈঠকে বসানোর জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমির হোসেনরা বৈঠকে বসতে রাজী না হওয়ায় তা ভেস্তে যায়।

এব্যাপারে আমির হোসেন জানান, তাদের জমির উপর করা একটি ঘর গুড়িয়ে দিয়ে সেখানের জায়গা দখল করার জন্য দেয়াল নির্মাণ করে আলী আহাম্মদ। আমরা পরবর্তীতে জেনে তা ভেঙ্গে দিতে গেলে তাদের হামলায় আমার ভাইসহ অন্যরা আহত হয়। এব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করেছি। তাছাড়া জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে ও উচ্চ আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব জানান, পূর্ব আলোনিয়া গ্রামের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে। উভয় মামলার তদন্ত চলছে।

প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার :

সময় : ০৬:০৯ পিএম

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর/

466 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন