3

হাইমচরে বুলবুলের ভয়াবহ তান্ডবে ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

সাহেদ হোসেন দিপু, হাইমচর করেসপন্ডেন্ট :
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ভয়াবহ তান্ডবে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৪শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ঘর বাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৩ টায় ঘূর্নিঝড় বুলবুল প্রচন্ড ঝড়ো বাতাস নিয়ে হাইমচরে আঘাত হানে। ঘূর্নিঝড়ের আঘাতে গাছ পালা পড়ে বিভিন্ন সড়কে যাতায়াত বন্ধ ছিল দীর্ঘক্ষন। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ জিএম আমির হোসেনের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য বৃন্দ রাস্তা ঘাট পরিস্কার করণ সহ উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

হাইমচর ইউনিয়নের ৩৫ নং মধ্যচরকোড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমজেএস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় উড়ে গেছে। এছাড়া আলগী উত্তর ইউনিয়নের ছোটলক্ষীপুর গ্রামের লালু মিয়া সরদারের ছেলে নুরুল ইসলাম ও শুক্কুর সরদারের ছেলে শাহিন সরদারের বসত ঘরে গাছ পড়ে ঘর দুটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

gif maker
হাইমচর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত সরকার জানান, আমার ইউনিয়নে ঘূর্নিঝড় বুলবুলের আঘাতে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ২শতাধিক বসত ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গুচ্চ গ্রামের ২৫ টি ঘরের ছাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ঘূর্নিঝড়ের ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোন মানুষজনের হতাহতের সংবাদ আমি এখনও পাই না।

নীলকমল ইউনিয়ন চেয়ারম্যন সালাউদ্দিন সরদার জানান, আমার এখানে ঘূর্নিঝড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টি ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছ পালাসহ ফসলের অসংখ্য ক্ষতি হয়েছে যা বলার মত না। লোকজন হতাহত হওয়ার সংবাদ এখনো পাইনি।

গাজিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গাজী জানান, আমার এলাকায় মৎস্য আড়তসহ ৫০টি বসত ঘরের ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের ফসলে ব্য্পাক ক্ষতি হয়েছে। কোন লোকজন আহত হওয়ার সংবাদ পাই নি।

চরভৈরবী ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ আলি মাষ্টার জানান, চরভৈরবীতে ২/৪টি ঘর বিধ্বস্ত হওয়া ছাড়া তোমন কোন ক্ষতি হয়নি। তবে কিছু কিছু এলকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হতাহতের কোন সংবাদ পাইনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুর রশিদ বলেন, হাইমচরে ঘূর্নিঝড় বুলবুলের তান্ডব লিলায় প্রায় ৪ শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ক্ষতিপুরন দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। ফসলের ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে তবে তার পরিমান এখনো নির্নয় করা হয়নি।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী বলেন, হাইমচরের নদীর ওপাড়ের গাজিপুর, নীলকমল ও হাইমচর ইউনিয়নে প্রায় ৩শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া নদীর এ পাড়ের আলগী দক্ষিন, আলগী উত্তর ও চরভৈরবী ইউনিয়নে গাছ পালা পড়ে ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে হাইমচরে ৪ শ এর উপরে ঘর বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে গতকাল থেকেই আশ্রিত লোকদের শুকনো খাবার প্রদানসহ ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থেকে সকল ধরনের সাহায্য সহযোগীতা করে আসছি। আমরা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে অবগত করেছি এবং ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে শীঘ্রই জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাবো। আশা করি খুব দ্রæতই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলো সাহায্য সহযোগীতা পাবেন।

প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার :

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর/

388 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন