রহমান

হাজীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি প্রার্থী হচ্ছেন আ.রহমান

জহিরুল ইসলাম জয় :
হাজীগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট সমাজ সেবক , এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের নির্যাতিত ছাত্রনেতা ও বর্তমান বর্ষীয়ান নেতা হাজী আব্দুর রহমান চৌধুরী। যিনি কিশোর বয়স থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শতাব্দির বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এক সময়ের তুখর ছাত্রনেতা জীবনের তাগিদে দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনে অতিবাহিত করেন। সৌদি আরব আওয়ামী লীগের রাজনৈতিতে জড়িত থেকে শেখ হাসিনার আগমনে নেতৃত্বে দিয়ে একাধিক বার বরন করেন এ বর্ষীয়ান নেতা। সৌদি আরব মদিনা বঙ্গবন্ধু পরিষদের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়েও দেশের তথা হাজীগঞ্জের রাজনৈতিক কর্মসৃচিতে আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন।

দেশে এসেও যেন বসে থাকতে দেখা যায়নি এ বর্ষীয়ান নেতাকে। গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টার দায়িত্বসহ গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিন ইউনিয়নের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

gif maker

গত হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বেশ আলোচনায় ছিলেন হাজী আব্দুর রহমান চৌধুরী। সে সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ-আলোচনার পাশাপাশি তৃনমূল নেতাকর্মীদের দৃষ্টি কাড়েন প্রবীন এ নেতা। পরবর্তীতে শেখ হাসিনার মনোনিত নৌকার প্রার্থী গাজী মো. মাঈনুদ্দিনকে সম্মান জানিয়ে নিজ প্রার্থীতা প্রত্যাক্ষান করেন।

তিনি মূলত চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের সু-যোগ্য কন্যা, গনমানুষের প্রানপ্রিয় জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গড়ে উঠা উন্নত বাংলাদেশের রুপকার, যার সু-চিন্তিত পরিকল্পনা এবং ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের কথা শুনে তিনি আসন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে লড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

হাজী আ. রহমান চৌধুরী হাজীগঞ্জ উপজেলার ১০নং গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিন ইউনিয়নের পাচৈই চৌধুরী বাড়ীর মৃত চলেমান মিয়ার ছেলে। তার বাবা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সংগ্রাম কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এইচ এস সি পাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের ব্যবস্থাপনা কমিটির আহবায়ক হিসাবে রাজনৈতিতে জড়িয়ে পড়ায় আর বেশী পড়াশুনা সম্পন্ন করতে পারেনি। ১৯৮৫ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে ছাত্রনেতা হিসাবে নেতৃত্বে দিয়ে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে টানা ১৭ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এছাড়াও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের তান্ডবে ৫ ঘন্টা পানির নিচে লুকিয়ে ছিলেন এবং তার ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ততকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরীর হাত ধরে জেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে আওয়ামী লীগকে গতিশীল করার লক্ষে কাজ করেন।

এক সময় জীবনের তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানেও আওয়ামীলীগের রাজনৈতিতে নিজেকে শামিল করে রেখেছেন। উপজেলা ও নিজ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসৃচিতে একজন ডোনার হিসাবে অর্থ ব্যয় করেন। বর্তমানে ব্যক্তি জীবনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সেবাদানে নিয়োজিত রয়েছেন। স্কুল, মাদ্রাসার গভনিং বোর্ডের সভাপতি, সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনসহ আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজেকে শামিল রাখতে চান।

আসন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তৃনমূল নেতাকর্মীদের আগ্রহ ও নৈতিক সমর্থন আসাবাদ ব্যক্ত করে তিনি সভাপতি পদে অবশেষে লড়ছেন। এ জন্য তিনি তিনমূল আওয়ামী লীগ পরিবারের কাছে দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার :

সময় : ০৯:৫৭ এএম

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর/

285 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন