কচুয়ায় প্রসূতির মৃত্যু : ২ লাখের বিনিময়ে ধামাচাপার চেষ্টা

0
79
কচুয়া কেয়ার হাসপাতাল। ইনসেটে ফাতেমার ফাইল ছবি ও তার কবর এবং মায়ের কবরের পাশে বসে থাকা অবুজ শিশু হাসিব
ওমর ফারুক সাইম, কচুয়া করেসপন্ডেন্ট :
চাঁদপুরের কচুয়া বিশ্বরোড কেয়ার ডিজিটাল হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় ফাতেমা আক্তার (৩৬) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রবিবার (৮ডিসেম্বর) সন্ধায় চিকিৎসকদের বিচার দাবি জানিয়ে ফাতেমার স্বজনরা বিক্ষোভ সৃষ্টি করলে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মৃত ফাতেমা উপজেলার ৭নং কচুয়া দক্ষিন ইউনিয়নের বাকৈয়া গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ির আবুল হাসানাতের স্ত্রী। রবিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকাস্থ যাত্রাবাড়ী আল করিম জেনারেল হসপিটালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাতেমার মৃত্যু হয়।
সোমবার (৯ডিসেম্বর) সরজমিনে গেলে মৃতের স্বামী হাসানাত জানান, (৬ডিসেম্বর) রাতে ফাতেমাকে কচুয়া কেয়ার ডিজিটাল হাসপাতালে আনা হলে হাসপাতালের মালিক কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স বাসুন্তী রানী ফাতেমাকে সিজার করতে হবে এ কথা আমাকে জানান। সিজারের জন্য আমার স্ত্রীকে অন্যত্রে নিয়ে যেতে চাইলে  বাসুন্তী রানী বলেন, সিজার আমাদের হাসপাতালে হয়। অন্য হাসপাতালে নেয়ার প্রয়োজন নেই।
আমি তার কথায় সিজার বাবদ ১২হাজার টাকার চুক্তি করি। সিজারে বাচ্চা হওয়ার পরপরই রোগীর রক্ত বন্ধ না হওয়ায় এবং রোগীর বেহাল দশার কারনে তাৎক্ষণিক ভাবে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানেও ফাতেমার অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত ডাক্তাররা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

gif maker

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ রোগীকে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে প্রথমে প্রসবের রক্ত বন্ধ করেন, পরে  ১১ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে ফাতেমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন এবং রোগীকে আইসিউতে রাখার জন্য বলেন।
কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিউতে সিট খালি না থাকায় ফাতেমার স্বামী হাসানাত ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে সায়েদাবাদ আল করিম জেনারেল হসপিটালের আইসিউতে ভর্তি করেন। অবশেষে ৮ডিসেম্বর বিকেল ওই হসপিটালে ফাতেমা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের মালিক বাসুন্তী রানীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, এ রোগীর ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। তবে অপারেশন করেছেন কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার
ডাঃ হামিমা ও ডাঃ সোহেল রানা।
ডাঃ হামিমা আক্তারকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খুঁজে না পেয়ে  তার  ০১৭২৬৯৬৯৪০২ মোবাইল ফোন নাম্বারে প্রথমে কল দিলে রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে লাইন কেটে দেয়। পরে ধপায় ধপায় কল দিয়েও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া যায় নি।
ডাঃ সোহেল রানা জানান, সিজারের সময় আমি ফাতেমাকে অজ্ঞান করার ডাক্তার ছিলাম। হাসপাতাল থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায়, ডাঃ সোহেল রানা যে সময়ে ফাতেমাকে চিকিৎসা করতে  হাসপাতালে যান, তখন তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক হিসেবে ছিলেন। ডিউটিরত অবস্থায় আপনি কেয়ার ডিজিটাল হাসপাতালে আসলেন কেন? এ প্রশ্নের জবাবে এ প্রতিবেদককে জানান, আমি ৩ ঘন্টার জন্য ডাঃ হামিমা আক্তারকে জরুরী বিভাগে দায়িত্ব দেই।
       এদিকে এই মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কেয়ার ডিজিটাল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ফাতেমার স্বামী হাসানাত ও তার পরিবারের লোকজনদের সাথে ২ লক্ষ টাকার চুক্তি করেন। এ অর্থের বিষয়ে স্বীকার করে ফাতেমার স্বামী হাসানাত জানান, ২ লক্ষ টাকা দিবে বলে আমি শুনেছি এবং দাফনের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ফাতেমার অকাল মৃত্যুতে মা হারা হয় ১৪ বছরের মেয়ে সানজিদা, ৬ বছরের ছেলে হাসিব ও নবজাতক সন্তান।

প্রকাশিত :০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার :

http://picasion.com/

চাঁদপুর রিপোর্ট : এস এস

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
2,113 জন পড়েছেন
http://picasion.com/