কচুয়ায় মৃত স্বামীর কবরস্থানের সম্পত্তি বিক্রি করেও চলে গেলেন ২য় স্ত্রী রাবেয়া বেগম

0
175

 

ওমর ফারুক সাইম, কচুয়া
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোহট দক্ষিন ইউনিয়নের খাজুরিয়া লক্ষিপুর গ্রামের মৃত হাজী মোঃ ছেফায়েত উল্যাহ’র ২য় স্ত্রী রাবেয়া বেগম স্বামীর কবরস্থানসহ ৭৫শতাংশ সম্পত্তি বিক্রি করে চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন, প্রথম স্ত্রীর বড় পুত্র মোঃ সিরাজুল হক। তিনি জানান, আমার পিতা ২০১৩ সালে মৃত্যুর পূর্বে দু’ সংসারের সকল সদস্যকে সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়েছেন। সেই হিসাব মতে আমার পিতার ২য় স্ত্রীর ঘরে ৩ নাবালক সন্তান যথাক্রমে মোঃ রাকিব উল্যাহ’র নামে ২২শতক ও মোহাম্মদ উল্যাহ এবং আহম্মদ উল্যাহ’র নামে ৪৪ শতাংশের পরিবর্তে বে-খেয়াল বসত কবর স্থানের ৩ শতক ভূমিসহ ৪৭ শতাংশ সম্পত্তির হেবা দলিলপত্র করে দেয়া হয়।

http://picasion.com/

কবরস্থানের এ ৩ শতক ভূমি নাবালক সন্তানদের নামে হেবা দলিলের পরিপেক্ষিতে রেজিষ্ট্রি করে ফিরিয়ে আনার বিধান না থাকায় পিতার মৃত্যূর পূর্বে এলাকার গন্যমান্যদের উপস্থিতিতে রাবেয়া বেগম তার নাবালক ছেলেদের পক্ষে একটি অঙ্গিকার নামায় স্বাক্ষর করে। স্বাক্ষরিত এ অঙ্গিকার নামায় উল্লেখ থাকে যে, আমার পুত্রগন সাবালক হলে দু’সংসারের ৭ পুত্রের নামে ওই কবর স্থানের ৩শতক সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করে ফিরিয়ে দেয়া হবে। ইহাতে আমার এবং আমার পুত্রগনের কোনো দাবী দাওয়া রইলনা। আর দাবী করিলেও সর্ব-আদালতে অগ্রাহ্য বা বাতিল বলিয়া গন্য করা হবে।

অথচ রাবেয়া বেগম তার নাবালক ছেলেদের নামে ওই কবরস্থানের ৩ শতকসহ হেবা দলিলের পুরো সম্পত্তি আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে তার নামে রায় নিয়ে নেয়। পরবর্তিতে রাবেয়া বেগম কবরস্থানের অংশ এবং স্বামীর ঘর ভিটার ভূমিসহ ৭৫শতাংশ সম্পত্তি বিক্রি করে তার সন্তানদের নিয়ে একই উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের বেছারবাগ বাড়ী অর্থাৎ নিজ পিত্রালয় চলে গিয়ে বসবাস করছে। তার পিতার নাম আব্দুল মুনাফ। সিরাজুল হক আরো জানান, রাবেয়া বেগম কবরস্থান বিক্রিত অংশের লক্ষিপুর মৌজার সাবেক ২৮০ হালে ২৬৩ ও ২৬৪ দাগের সম্পত্তি একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মফিজুল ইসলামের নিকট বিক্রি করে।

মোঃ মফিজুল ইসলাম জানান, আমি রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে ওই মৌজার সাবেক ২৮০ হালে ২৬৩ দাগে দেড়শতক ও ২৬৪ দাগে এক শতক এবং অন্যান্য দাগেরসহ মোট ২৩ শতাংশ ভূমির সাব-কবলা রেজিষ্ট্রি দলিলমূলে ক্রয় করে। যাহার দলিল নং-৭৮৮০/১৭।

অভিযোগকারী সিরাজুল হক চোখের জল ফেলে অত্যান্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মফিজুল ইসলাম একজন সচেতন এবং সম্মানি ব্যক্তিত্ব, সম্পর্কেও তিনি আমার শ্রদ্ধেয় চাচাতো ভাই লাগে। কিন্তু তিনি কি করে আমার পিতা-মাতাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের চির-বিদায়ীত কবর বাসীদের ভূমি ক্রয় করলো? তার প্রশ্ন।

রাবেয়া বেগম ওই অঙ্গিকারের স্বাক্ষরটি স্বিকার করে বলেন, আমার বে-খেয়াল বসত মফিজুল ইসলামের কাছে বিক্রির দলিলে কবরস্থানের ৩ শতক ভূমির মধ্যে আড়াই শতক সম্পত্তির দাগ নং লিপিবদ্ধ হয়। আমি মফিজুল ইসলামের কাছে বিক্রিত কবরস্থানের এ আড়াই শতক ভূমি ফিরিয়ে এনে অঙ্গিকারের সর্ত অনুয়ায়ী দু’সংসারের ৭ছেলের নামে লিপিবদ্ধ করার জন্য স্থানীয় ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করবো।

সর্বশেষ সিরাজুল হক জানান, ওই সকল সম্পত্তির প্রতি আমার কোনো স্বার্থ নেই। আমার স্বার্থ একটাই পিতা-মাতাসহ পরিবারের অন্যান্য যারা চির-বিদায় নিয়ে শুয়ে রয়েছে এবং এখানে আমাকেও একদিন শুতে হবে। অতএব আমার পিতার অসিয়তকৃত কবরস্থান ভূমির অঙ্গিকারনামা রাবেয়া বেগম মহামান্য আদালতে দাখিল না করে তার নামে নিয়ে বিক্রি করার বিষয়টি এলাকার সচেতন মহলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যায় বিচার প্রার্থনার দাবী জানিয়েছেন।

 

ফেসবুকে মন্তব্য করুন
358 জন পড়েছেন
http://picasion.com/