Tania

চাঁদপুরের গাইনী ডাক্তার তানিয়ার দায়িত্ব পালনে ব্যাপক অনিয়মে মানুষ অতিষ্ঠ

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে গাইনী ডাক্তার শামসুন্নাহার তানিয়ার দায়িত্ব পালনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ডাক্তার তার কক্ষে বসে রোগী দেখার কথা থাকলেও গাইনি ডাক্তার শামসুন্নাহার তানিয়া হাসপাতালে না বসে আশেপাশের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসে প্রতিদিন রোগী দেখছেন বলে অভিযোগ উঠে।

মঙ্গলবার ১৭ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় গাইনি ডাক্তার তানিয়া হাসপাতালে হাজিরা দিয়েই এসে প্রাইভেট ভাবে রোগী দেখার জন্য পাশের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রবেশ করেন। এসময় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিচতলায় ১০৯ নম্বর কক্ষে গাইনি ডাক্তার শামসুন্নাহার তানিয়ার কাজ থেকে সেবা নেওয়ার জন্য প্রায় শতাধিক রোগী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সরকারি হাসপাতালে রোগী রেখে শামসুন্নাহার তানিয়া নিজের স্বার্থ হাসিল করতে প্রাইভেট ভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ৫শ’ টাকা ভিজিট নিয়ে রোগী দেখছেন বলে অভিযোগ করেন রোগীরা।

এসময় সংবাদকর্মীরা সরকারি হাসপাতালের সম্মুখে মসজিদের পিছনে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় শামসুন্নাহার তানিয়া প্রাইভেট ভাবে রোগী দেখছেন।

সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে গাইনি ডাক্তার তানিয়া তার কক্ষ থেকে দ্রুত বের হয়ে হাসপাতালের দিকে দৌড় দিতে থাকেন।

পরে হাসপাতালে ১০৯ নম্বর কক্ষে গিয়ে বসার পর দায়িত্ব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতলে রোগী হাসপাতালেই দেখেছি, নিজের ব্যক্তিগত কাজে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছি, মূলত টয়লেট করার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলাম। সরকারি জেনারেল হাসপাতালে অনেক ডাক্তারই প্রাইভেট ভাবে রোগী দেখেন তাতে দোষের কি।

এসময় সদর হাসপাতালের সেবা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগী জানায়, হাসপাতাল চলাকালীন সময়ে কোনদিনই গাইনি ডাক্তার শামসুন্নাহার তানিয়াকে তার কক্ষে বসতে দেখিনি। তিনি আসলে হাজিরা দিয়েই হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে প্রাইভেট ভাবে দেখেন।

এছাড়াও এই গাইনী ডাক্তার তানিয়া হাসপাতালে রোগী চিকিৎসা না দিয়ে নাভানা হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিন। নরমাল ডেলিভারি না করিয়ে সিজার করে হাজার হাজার টাকা প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে। মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি শহরের নাজিরপাড়া ৭তলা ভবন নির্মাণ করে মালিক হয়েছেন। এছাড়া তার ভুল চিকিৎসায় ও অবহেলায় অনেক নবজাতক শিশু ও মায়ের করুণ মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ও সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পক্ষ হাসপাতালে এসে সাংবাদিকদের সাথে সমঝোতা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

বিষয়টি নিয়ে অনেকেই গতকাল ফেইসবুকে নানা সমালোচনা করেন। বিষয়টি আমরা পাঠকের জন্যে বিস্তারিত ‍তুলে ধরলাম।

Md. Shahadat Hossain নামে একজন মন্তব্য করেন, “ আমিও এই #বদমায়েশের_বাচ্চার হয়রানীর শিকার।
যদিও আল্লাহ্‌র রহমতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ গিয়ে বিপদের হাত থেকে বেঁচেছি। ওকে লাথি মেরে চাঁদপুর ছাড়া করা হোক ”

কবির খান নামের একজন মন্তব্য করেন, আমাদের মধ্যে মানবতা নাই। এরা মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্য করে। ডাক্তার নামের কলঙ্ক।

Sufiyan Dewan নামের একজন মন্তব্য করেন, “ এত বিদ্যা আর এত টাকা দিয়ে কি হবে??
যে বিদ্যা নিয়ে ডাক্তার হয়ে মানুষের উপকারে আশে না, শুধু নিজের ধান্দা নিয়ে ব্যস্ত এমন শিক্ষা আর অমানুষ ডাক্তারদের জুতাপিটা করতে পারলে মনে শান্তি লাগতো…”

Afia Jafran নামের একজন মন্তব্য করেন, “পুলিশে দিন। এরা ডাক্তার নামের কলংক। সমাজের, দেশের এবং জাতির কাঁধে বিরাট বোঝা। এমন ডাক্তারদের ধ্বিক্কার জানাই।”

Siddikur Rahman Jahid নামের একজন মন্তব্য করেন, এই ডাক্তার কিছুদিন আগে আমার বোনের ভুল সিজার করে। বোনকে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দেয়। তারপর অনেক টাকা খরচ করে ১ মাস ৩ দিন হাসতালে রেখে তার চিকিৎসা করি। 

Siddikur Rahman Jahid আরো বলেন, সবাই মানবতার স্বার্থে শেয়ার করুন। প্লিজ প্লিজ প্লিজ। এই অযোগ্য ডাক্তারকে বয়কট করুন। আজ আমার, তো কাল আপনার।

Mainuddin Pathan একজন বলেন, এই স্বাথপর ডাক্তারেরর কারনে অনেক গর্ভবতী মায়ের কোল খালি হয়েছে ভুল চিকিৎসার কারণে। তাকে বয়কট করুন?

প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার :

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

 

3,140 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন