শত বছরের পুরনো কবরে অক্ষত লাশ!

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের অভিরামপুর (হাজিপাড়া) গ্রামে সেই কবরগাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে একটি পুরনো কবরে অক্ষত লাশ দেখতে পাওয়া গেছে। লাশে জড়ানো কাফনের কাপড়টিও অক্ষত রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা বলছেন, কবরটি শত বছরের পুরনো হতে পারে। কবরটি যেখানে অবস্থিত তার কাছাকাছি এলাকায় ৫০ বছর আগে জনবসতি গড়ে ওঠে। তবে বর্তমান বাসিন্দারা কেউ এ কবরের বিষয়ে জানেন না। এই লাশ কার, তাও কেউ বলতে পারছেন না। জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, খনিজ বা রাসায়নিক কারণে দীর্ঘদিনেও লাশে পচন না ধরতে পারে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের অভিরামপুর (হাজিপাড়া) গ্রামে সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে মাটি কাটার সময় তিন-চার ফুট গভীরে শ্রমিকরা কবর ও অক্ষত লাশটি দেখতে পান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত উৎসুক মানুষ গত দুইদিন ধরে কবর দেখতে সেখানে ভিড় করছেন।

gif maker

হাজিপাড়ার প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল মালেক জানান, ‘ওই স্থানে একটি উঁচু ঢিবি ছিল। জমির মালিক ঢিবির মাটি অন্যত্র বিক্রি করায় শ্রমিকরা মাটি কাটতে শুরু করেন। কিন্তু তিন-চার ফুট মাটি কাটার পরেই কবর ও লাশটি দেখতে পান তারা।’

দরবস্ত ইউপি সদস্য আবদুল গফুর বলেন, ‘লাশের মুখমণ্ডল এবং কাফনের কাপড়টি অক্ষত আছে। পরে কবর চত্বরে মুসল্লিদের নিয়ে জানাজা পড়া হয়।’

দরবস্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জজ বলেন, ‘শ্রমিকরা মাটি খোঁড়ার সময় লাশের মাথা ও মুখ দেখতে পায়। পরে কবরের মাটি আর সরানো হয়নি। পুরো কবরটি মাটি দিয়ে ভালো করে ঢেকে রাখা হয়। একইসঙ্গে স্থানীয় মুসল্লিরা জানাজা আদায় করেন। বর্তমানে কবরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। কবরটির ইট দিয়ে চারপাশ পাকা করার পরিকল্পনা নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘কবরটি পুরনো হওয়ায় এটি কার লাশ তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কবরটি কত পুরনো তাও কেউ বলতে পারছেন না। ধারণা করা হচ্ছে এটি শত বছরের পুরনো। ওই কবরের আশপাশে ৫০-৬০ বছর আগে কোনও বসতি ছিল না। এরপরও এলাকার প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে লাশের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।’

স্থানীয় হাজিপাড়ার শতবর্ষী হাজী আবদুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমি যখন ছোট তখন এলাকাটি ফাঁকা ও কিছু কিছু জায়গা ঝোপ-জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। খুব বসতি ছিল না। দেশ স্বাধীনের আগে পরে লোকজন বাড়িঘর তৈরি করেন। এরপর থেকে গ্রামটি হাজিপাড়া নামেই পরিচিত হয়। তবে ওই কবরটি কার তা জানি না।’

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। এলাকার কেউই লাশের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। মানুষ ভিড় করায় নিরাপত্তার জন্য গ্রাম পুলিশ কবরের পাশে আছে। পুলিশ টহলও জোরদার করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হানিফ বলেন, ‘মৃত্যুর পর দাফন করা হলে কিছু দিনের মধ্যেই মানুষের দেহের সব টিস্যু ও অঙ্গ পচে যাবে এটাই স্বাভাবিক। আবার খনিজ বা রাসায়নিকসহ নানা কারণেই লাশ পচতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তবে এটি নির্ভর করে তাপমাত্রা, আদ্রতা, কীটপতঙ্গের উপস্থিতি, বাতাসের উপস্থিতি, মাটির অম্লতা ইত্যাদির ওপর। দীর্ঘদিনেও লাশ পচনে যদি কোনও ব্যত্যয় ঘটে তাহলে কবরের মাটি, পরিবেশ এবং মৃতদেহের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই লাশ না পচার সঠিক কারণ জানা যাবে।’

প্রকাশিত : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার :

চাঁদপুর রিপোর্ট : এমআরআর

323 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়