ফিরোজপুর জনকল্যাণ উবির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্ত শুরু হচ্ছে

স্টাফ  রিপোর্টার :

ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফিরোজপুর জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শাহজাহানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হচ্ছে। আগামী ২২ জানুয়ারী বুধবার এই তদন্ত শুরু হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

জানা গেছে, ফিরোজপুর জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ৪জন অভিভাবক সদস্য নূরুল আমিন গাজী, লিটন আখন, হারুন খাঁন, রাশেদা বেগম প্রধান শিক্ষক মো: শাহজাহানের বিরুদ্ধে ১৪টি অনিয়মের অভিযোগ এনে ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। যার অনুলিপি দুদক ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসককে দেয়া হয়।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘ফেব্রæয়ারী ৩ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এস.এস.সি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়োম বর্হিভূত ভাবে ৫/১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া।

পাবলিক পরীক্ষার নামে ছাত্র/ছাত্রীদেরকে তার কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য বাধ্য করা। নিষিদ্ধ গাইড কোম্পানীর সাথে গোপনে চুক্তি করে শিক্ষার্থীদের গাইড কিনতে বাধ্য করা ।

বিদ্যালয়ে না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা। বিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষক থাকা সত্বেও তাদের দিয়ে প্রশ্ন তৈরী না করে বিভিন্ন প্রকাশনীর সাথে গোপনে প্রশ্ন কিনে এনে পরীক্ষা নেয়া।

জে.এস.সি পরীক্ষায় বোর্ডে নির্ধারিত ফি এর বাহিরে জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সনদ পত্র বিতরনে অর্থ হাতিয়ে নেয়া।
বর্তমান কমিটির ১৬ মাসের মধ্যেও কোন সদস্যের সিদ্ধান্ত নিয়ম অনুযায়ী না করা। কমিটির কোন সভা ছাড়াই রেজুলেশান তৈরী করে গোপনে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা। সরকারের বিনা মূল্যে পাঠ্য বই বিতরনে অর্থ হাতিয়ে নেয়া।’

অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। সেই আলোকে তদন্ত শুরু হচ্ছে।

এব্যাপারে বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নূরুল আমিন গাজী বলেন, আমাদের অভিযোগ গুলো সত্য । তদন্ত হলে তা প্রমাণ হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ আলী রেজা আশরাফি জানান, ফিরোজপুর জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ আগামী ২২ জানুয়ারী থেকে শুরু হবে। সেদিন আমরা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তদন্ত শুরু করবো।

অন্যদিকে আনিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন দাবী করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শাহজাহান জানান, আমি একনিষ্ঠ ভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করছি।

ফলে বিদ্যালয়টি দিনদিন এগিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগকারীরা সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তদন্ত এলেই তা প্রমাণ হবে।

তাছাড়া রাজনৈতিক বিষয়তো রয়েছেই।

212 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন