৫ মাসেও ফরিদগঞ্জের আলোচিত মিশু হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়নি

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

প্রথমে প্রেম, পরে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফরিদগঞ্জে পত্রিকার হকার সেলিম মিয়ার একমাত্র মেয়ে আলোচিত মিশু হত্যার চার্জশীট দেয়া হলেও বিচার শুরু হয়নি।

মিশু হত্যার সাড়ে ৫ মাস পর সুজনের বিচার চেয়ে তদন্তকারী পুলিশ অফিসার উনুমং মারমা গত সোমবার আদালতে অভিযোগ (চার্জশীট) দাখিল করেছেন।

তিনি গতকাল মঙ্গলবার এ প্রতিনিধিকে বলেন, মিশুর হত্যাকারী সুজন বর্তমানে চাঁদপুরের জেল হাজতে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চরমুঘুয়া গ্রামের মাদ্রাসা ছাত্রী মিশুর সাথে প্রথমে সুজনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সুজনও মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

মিশুর মামাতো ভাই ফারুকের সাথে মিশুর প্রেমের সম্পর্কটি মেনে নিতে না পেরে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে মিশুকে একাই হত্যা করেছে বলে চার্জশীটে উল্লেখ রয়েছে।

আদালতে দাখিল করা চার্জশীট ও নিহত মিশুর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার পত্রিকা বিলিকারক মোঃ সেলিম মিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। মরণব্যাধি ওই রোগে আক্রান্ত হয়েই তিনি মিশুকে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের পশ্চিম সন্তোষপুর গ্রামের ছেলামত উল্লার ছেলে সোহেল বেপারীর সাথে বিয়ে দেন।

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে মিশুর সাথে তার প্রবাসী স্বামীর সাথে বিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে মিশু চলে আসে বাপের বাড়িতে। বাড়িতে আসার পর মিশুকে প্রথমে প্রেম ও পরে বিয়ের প্রস্তাব দেয় পার্শ্ববর্তী বাড়ির আবুল বাশারের ছেলে সুজন।

এ দুজনের মধ্যে কয়দিন প্রেমের সম্পর্ক চলার পর এক পর্যায়ে মিশু সুজনকে এড়িয়ে তারই মামাতো ভাই ফারুকের সাথে গোপনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

মামাতো ভাই ফারুকের সাথে মিশুর প্রেমের সম্পর্ক টের পেয়ে সুজন আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মিশুর বিরুদ্ধে।

এক পর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৯ জুলাই ভোরে মিশুকে তার বসতঘরে একা পেয়ে ধারালো ছেনা দিয়ে মাথা, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

মিশুকে হত্যার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর সুজন পালিয়ে যাওয়ার সময় ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটকের পর সুজন তার প্রেমিকা মিশুকে হত্যার বিবরণ দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল।

এ ঘটনায় মিশুর মা ছালেহা বেগম বাদী হয়ে সুজনসহ মিশুর দুই দেবর সাদ্দাম হোসেন, জুয়েল হোসেন ও সুজনের ভাই সোহেল খানের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিল।

কিন্তু পুলিশ উক্ত ঘটনার তদন্তে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া একমাত্র সুজনের বিচার চেয়ে আদালতে চার্জশীট দিয়েছে। বাকি আসামীদেরকে উক্ত মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে মিশুর মা ছালেহা বেগম বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে মিশু হত্যাকারী সুজনের ফাঁসি দেখে যেন মরতে পারি। এই আশাতেই বুকে নিয়ে বেঁধে আছি। এ কথা বলেই মিশুর মা হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন।

মিশুর চাচা সাবেক ইউপি মেম্বার মোঃ সেকান্দার বলেন, পিতৃহীন আমার ভাতিজি মিশুর হত্যা মামলাটি দ্রুত ট্রাইবুনালে বিচারের জন্য আমরা দাবি তুলেছি।

মিশু হত্যা মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার ফরিদগঞ্জ থানার এসআই উনুমং মারমা এ প্রতিনিধিকে বলেন, সুজন একাই ধারালো ছেনা দিয়ে মিশুকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বিজ্ঞ আদালতে।

এছাড়াও আমার তদন্তে মিশুর সাথে প্রথমে সুজন ও পরে মিশুর মামাত ভাই ফারুকের প্রেমের সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেলেও ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া না যাওয়ায় এজাহারভুক্ত অন্য আসামীদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে।

প্রকাশিত :২৯ জানুয়ারি ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার :

চাঁদপুর রিপোর্ট : এস এস

106 জন পড়েছেন

Recommended For You

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়