faridgong logo

ফরিদগঞ্জে ২১ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন বন্ধ: ক্ষুব্ধ কৃষক

আনিছুর রহমান সুজন, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর:

চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ ধান আর মাছ উৎপাদনে চট্রগ্রাম বিভাগের মধ্যে এই উপজেলা ৪র্থ স্থান অর্জন করেছে। বর্তমান সরকারের ধানের ক্ষেতে মাছ চাষে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে এই উপজেলার কৃষকরা।সুফল ফেয়েছে উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক।

মাছ চাষ লাভ জনক হওয়ায় এ বছর ৯টি ধানের চাষ হওয়া চরে প্রায় ৩শ” ৫০ একর জমিতে ধান চাষ করা বন্ধ করে দিয়েছে মৎস চাষীরা। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে ও কোন সুফল পাচ্ছে না কৃষকরা।

বোরো ধানের বিপুল ফলন হয় এই সব জমিনে এ জন্য প্রতি একরে ষাট থেকে আশি মোন ধান হয়। কৃষকদেরকে শতক প্রতি নামমাত্র ১শত ৫০ টাকা করে দার্য করে দেওয়া হয়েছে।

কন্তিু কৃষক বলছে ধান উৎপাদন হলে প্রতি শতকে কৃষক ৭ থেকে ৮ শত টাকা করে পাওয়া যেত। ধান উৎপাদন বন্ধ হওয়া চরগুলো হলো,কলেজের চর , নোয়া চর , চর গুদাড়া , কাতান চর , গাজীপুর/ধানুয়া চর , চরগুদারা উত্তর, গুদাড়া দক্ষিন, কুমিরা মথুরার,পূর্বধানুয়ার চরে প্রায় ৩শ ৫০ একর জমি রয়েছে ঐ সব জমিতে প্রতি বছর ছয় মাস ধান আর বাকি সময় মাছ চাষ করা হয়।

কৃষক আতাউর রহমান বলেন, প্রতি বছরের ধান চাষের মাজা মাজিতে চর ইজাড়া দেওয়া হয়ে থাকে কিন্তু এ বছর একটি চক্র ধানের চারা লাগাতে বাঁধাদেয় গরীব নিরীহ কৃষক তাদের সাথে পেরে উঠতে পারেনি তাই উপজেলা কৃষি অফিসে মৌখিক অভিযোগ করেও কোন সুফল পায়নি।

কৃষক মাহাবুব,আলমগীর, সুমন, সোহাগ, বলেন আমাদের জমিতে ধান উৎপাধন হলে আমরা যেমন লঅভবান হতাম তেমনি গবাদি পশুর খাদ্য উৎপাদন হতো পাশা পাশি কৃষির উপর নির্ভরশীল লোকদের কর্ম সংস্থান সৃষ্ঠি হতো।

ভূসিহীন কৃষক শওকত উল্যা সকু বলেন ,ছয় সন্তান. মা পরিবার নিয়ে আমি এই কৃষির উপর নির্ভরশীল, এবার আমাগো কি হইবো।

উজাড়াদার কয়েক জনের মধ্যে আলমগীর হোসেন স্বপন বলেন গেল বছর মাছচাষে লোকসান হওয়ায় কৃষকদের ভর্তূকী দিয়ে আগাম মাছ চাষ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এবং কৃষকে শতক প্রতি একটা টাকা ধার্য করে পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন,সিআপি বেড়ি বাঁধের ভেতরে ডাকাতিয়া নদী থেকে সময় মতো পানি নিষ্কাশন না করার কারনে মৎসচাষিরা যেমন বিপাকে পড়েছে তেমনি কৃষকের বীজতলা তৈরী করতে দেরী হয়েছে লোকসানের জন্য তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তাদের দায়ী করলেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরে আলম বলেন, যদি সাড়ে ৩শ একর জমিতে ধান উৎপাদন হলে ২১ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হতো যার বাজার মূল্য সরকার ধার্য করা দামে, ২ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও গবাদি পশুর খাদ্যের মূল্য ৩০ লাখ টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্ত আশিক জামিল মাহমুদ বলেন, কৃষকরা মৌখিক অভিযোগ করেছে লিখিত অভিযোগ ফেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ কার হবে। অভিজ্ঞ কৃষকরা বলেন ২১ হাজার টন ধান উৎপাদন না হওয়ায় জাতীয় কৃষিতে এ প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন।

241 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন