chandpur report balakhal

বলাখাল জেএন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কারিগরি কলেজের দাবিকৃত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন করাকালে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে রাখে। অবরোধ তুলে নিতে শিক্ষার্থীদের বারবার অনুরোধ করার পর যখন শিক্ষার্থীদেরকে টলানো সম্ভব হয়ে উঠেনি ঠিক তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরকে প্রতিশ্রুতি দেন পরবর্তী ৩ দিনের মধ্যে বিদ্যালয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

ইউএনওর কথাকে বিশ্বাস করে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়। প্রতিশ্রুতির ঠিক প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উচ্ছেদের মাধ্যমে সরিয়ে দেয়া হলো বলাখাল জেএন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কারিগরি কলেজের অবৈধ স্থাপনা।

মঙ্গলবার সকালে এ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া। এ সময় সড়ক ও জনপথ, ভূমি অফিসসহ থানা পুলিশের কর্তকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, বলাখাল জেএন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কারিগরি কলেজের এক পাশে দোহা ট্রেডার্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে দোকান ভাড়া দেয়া হয়।

বিদ্যালয়ে ভবন করার প্রয়োজনে সম্প্রতি সেই ভাড়াটিয়াকে নোটিস করে দোকানঘর ছেড়ে দেয়ার জন্যে। কিন্ত ভাড়াটিয়া তার দখলীয় কিছু অংশ ছেড়ে দিয়ে সড়ক বিভাগের জমিতে অপর অংশ রয়েছে বলে পুরোপুরি দখল ছাড়েননি।

এর প্রেক্ষিতে গত রোববার সকালে বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করার পূর্ব মুহূর্তে বিদ্যালয় মাঠে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে বিল্লাল হোসেন নামের এক যুবক।

এরপরেই মানববন্ধন না করে শিক্ষক লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কে অবরোধ দেয়। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা অবরোধশেষে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন ও অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন।

এ সময় প্রশাসনের এ সকল কর্মকর্তার সহায়তায় বারবার স্থানীয়দের বোঝানো হয়, সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার জন্যে। কিন্তু কেউ কারো কথা রাখার জন্যে এগিয়ে আসেনি।

শেষ পর্যন্ত ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া পরবর্তী ৩ দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ সরিয়ে নেয় এবং তারপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এরপর ওইদিনেই দোকানঘরটি সিলগালা করে দেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার সেই স্থাপনাসহ পাশের আরেকটি টং দোকান সরিয়ে দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো লোকমান হোসেন, পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মহাদেব, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সার্ভেয়ার মারুফ আহমেদ, কার্য-সহকারী আব্দুস সালাম, থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাধন চন্দ্র নাথ, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাজিম উদ্দিন, জিয়াউল হক ও মোজাম্মেল হক, স্কুল গভর্নিংবডির সদস্য ফারুক হোসেন, পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া বলেন, সরকারি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষীয় ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) আদেশ ১৯৭০-এর আওতায় জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

 37 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন