kishorgonj 1

১০ মাস পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন

 

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :
হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দাফনের ১০ মাস পর ভৈরবে নূরুল হক নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ আদালতের আদেশে মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রি খিসা এবং সহকারী পুলিশ সুপার রেজোয়ান আহমেদ দীপুর উপস্থিতিতে ভৈরবের নবীপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে মরদেহটি তোলা হয়।

পরে পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জে পাঠায়। নিহত নূরুল হকের বাবার নাম মো. গোলাপ মিয়া। তার বাড়ি ভৈরব উপজেলার নবীপুর গ্রামে।

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানার মধ্যে প্রতিপক্ষরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। ১০ দিন পর গত বছরের ৭ এপ্রিল আহত নূরুল হক বাজিতপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবারের সদস্যরা বিনা ময়নাতদন্তে তার মরদেহ দাফন করেন।

মৃত্যুর আট মাস পর নূরুল হকের মা রেহেনা বেগম বাদী হয়ে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর কুলিয়ারচর থানায় সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। আসামিরা হলেন- কুলিয়ারচরের মস্তোফা, ফারুক মিয়া, আল আমিন, দুলাল মিয়া, নিকলির সিংপুরের কিবরিয়া, ভৈরব শহরের জগনাথপুরের তাছলিমা বেগম, তুলাকান্দি গ্রামের গুলজাহান বেগম।

মামলার পর কুলিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা তাজমুন করিম কিশোরগঞ্জের আদালতে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেন। গত ৩০ জানুয়ারি শুনানি শেষে আদালত মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মরদেহটি কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

মামলার বাদী নিহতের মা রেহেনা বেগম অভিযোগে বলেন, তার ছেলে প্রতিপক্ষ মোস্তাফাসহ কয়েকজনের কাছে ৩৫ লাখ টাকা পেত। পাওনা টাকা না দেয়ায় নূরুল হক আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চেকের মামলা করে। এ কারণে চক্রান্ত করে তার ছেলেকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে সে মারা যায়। কয়েক মাস পর বিষয়টি জানার পর মামলা করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক তাজমুন করিম জানান, ছেলে হত্যার ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে মরদেহের ময়নাতদন্ত জরুরি। এ কারণে আদালতের আদেশ অনুযায়ী মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

208 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন