no 1

২৯ এপ্রিলের মধ্যেই চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন : জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা

চাঁদপুর রিপোর্ট ডেস্ক :

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন খান বলেছেন, আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যেই চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের বিধিমালায় তাই উল্লেখ রয়েছে।

কারণ ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসেই চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনের উপযোগী হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাযাবে নির্বাচন কমিশন থেকে।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি চাঁদপুরের জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা-এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তারিখ ঘোষণা করবে। আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচন গ্রহণ করার জন্য আমাদের সব ধরণের প্রস্তুতিও রয়েছে। আমার জানামতে এখন যত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সকল নির্বাচনেই ইভিএম এর মাধ্যমে হবে।

সেই হিসেবে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন ইভিএমে হবে। ইতোমধ্যে আমরা চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো হাইমচর উপজেলা নির্বাচন ইভিএম এর মধ্যে সম্পন্ন করেছি।

এদিকে দেশের জাতীয় সংসদের শূন্য আসনের মধ্যে কয়েকটি আসন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয় বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি)।

নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে সিটি ও শূন্য আসনে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ হলেও চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন বিষয়ে ওই বৈঠকে কোন আলোচনা হয়নি।

নির্বাচন কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন খান বলেন, চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচনের জন্য ভোটার হাল নাগাদ রয়েছে। এরপরেও এ বছর জানুয়ারী পর্যন্ত যাদের ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে তারাও নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে।

ইভিএমে ভোট গ্রহনে ভোটারের ফিঙ্গারিং সমস্যা এবং ইভিএম ভোটিং সম্পর্কে এখনো অনেকে সঠিক ধারণা না থাকায় জটিলতা সৃষ্টি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যেহেতু এই পদ্ধতি নতুন তাতে সমস্যা হতে পারে। এসব সমস্যাগুলো যাতে করে পরবর্তীতে না হয় আমরা সেই ব্যবস্থা করছি।

প্রিজাইডিং অফিসার ইভিএম এর মাষ্টার ফিঙ্গারিং এর অনুমতি রয়েছে এবং তিনি যে কোন ব্যাক্তির ফিঙ্গার কাজ না করলে ওপেন করতে পারেন এই বিষয়টি প্রশ্নবোধক।

এই বিষয়ে আপনাদের চিন্তা ভাবনা কি? এই প্রসঙ্গে হেলাল উদ্দিন খান বলেন, এই বিষয়টি আমরাও জানি। এই বিষয়টি নিয়েও আমরা চিন্তা ভাবনা করছি কি করা যায়।

হাইমচর উপজেলা নির্বাচনে এই ধরণের সমস্যা হয়েছে ৫% ভোটারের। এরপরে ঢাকা সিটির নির্বাচনে এই ধরণের সমস্যা হয়েছে ১%।

অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে সঠিকভাবে নিবার্চন করা। সেই জায়গা থেকে আমরা সঠিকভাবে কাজ করছি।

আমাদের নির্বাচনের কাজে যেসব কর্মকর্তারা কাজ করেন তাদেরকে সেইভাবে প্রশিক্ষণ এবং নির্দেশনা দেয়া হয়। একটি নির্বাচনে সকল পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকলে ভাল নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাগেছে, চাঁদপুর পৌরসভায় হালনাগাদ পর্যন্ত ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ১২২জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৯ হাজার ১৬১ জন এবং মহিলা ভোটার ৫৬ হাজার ৯৬১জন। তবে নির্বাচন পর্যন্ত এই সংখ্যা হালনাগাদের কারণে আরো বৃদ্ধি হতে পারে।

এর আগে ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মোট ১শ’ ২৩জন প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র পদে ২জন, সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৯৪জন এবং সংরক্ষিত ৫টি ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে ২৭ জন।

নির্বাচনে মোবাইল প্রতীক নিয়ে নাছির উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন সর্বমোট ভোট ৪৭ হাজার ১শ’ ৮ ভোট পানির জগ প্রতীক নিয়ে তার অপর প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান ভূঁইয়া পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৭ ভোট।

২০১৫ সালে নির্বাচনের সময় পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের মোট ভোটার ছিলো ১ লাখ ১হাজার ১শ ২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিলো ৫১ হাজার ৩শ ৪০ ও নারী ভোটার ৪৯হাজার ৭শ ৮২ জন। ১৫টি ওয়ার্ডের জন্য মোট ভোট কেন্দ্র ছিলো ৪৯টি আর ভোট বুথ (কক্ষ) ৩শ ৪৫টি।

প্রকাশিত :০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার :

চাঁদপুর রিপোর্ট : এস এস

151 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন