Phone

এবার সাংবাদিক রিগ্যানকে ফোন করে যা বললেন সেই ডিসি (অডিও)

নিউজ ডেস্ক :
ক্ষমতার অপব্যবহার করে মধ্যরাতে দরজা ভেঙে সাংবাদিককে ঘর থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, জামিনে কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে ফোন করেন সুলতানা পারভীন। তিনি নিজেকে রক্ষা করতে মিডিয়ার সঙ্গে কথা না বলতে অনুরোধ করেন আরিফকে।

ইতিমধ্যে আরিফের সঙ্গে কথোপকোথনের একটি অডিও সময় টিভির সৌজন্যে এসেছে।

অডিওটিতে সুলতানা পারভীনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘এখন মিডিয়াকে অ্যাভয়েড (এড়ানো) করে থাকো। মিডিয়াতে কথা বলো না। দেখা যাক আল্লাহ ভরসা। তোমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আপাতত চিন্তা করার দরকার নাই। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তা করার কিছু নাই। আমরা তোমার পাশে থাকবো। তোমার মামলা প্রত্যাহার করে নেবো। একটু সময় দিও। একটু পজিটিভলি দেখতে হবে।’

সুলতানা পারভীন আরিফকে ফোনালাপে বলেন, ‘যাই হোক একটি ঘটনা ঘটে গেছে। তুমি একটু রেস্ট নাও। যাও। একটু নিরিবিলি থাকো।’ এ কথোপকথনে তিনি যে পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া যায়। কথোপকথনে এনকাউন্টারে দেওয়ার হুমকি পাওয়ার মতো অপরাধ করেছেন কিনা সাংবাদিক আরিফ তা জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এনকাউন্টারের মানসিকতা আসলে আমাদের ছিল না। ওইভাবে ছিল না।’

gif maker

কথোপকথনের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সুলতানা পারভীনকে পাওয়া যায়নি।

রোববার দুপুরে ‘জেলা প্রশাসক সুলাতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে’−জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন। সোমবার কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন এবং জেলা প্রশাসনের তিন কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু কান্তি দাশ ও এস এম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

আরিফুল ইসলামকে চুপচাপ থাকার প্রস্তাব সংক্রান্ত ওই অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, ডিসি সুলতানা পারভীন আরিফের কাছে প্রথমে তার অবস্থা জানতে চান। আরিফ তখন তাকে বেধড়ক মারধর কেন করা হয়েছে তা জানতে চান। একইসঙ্গে তার কাছ থেকে চোখ বাঁধা অবস্থায় স্বাক্ষর নেওয়া চারটি কাগজ ফেরত চান। প্রত্যুত্তরে ডিসি সুলতানা পারভীন বলেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে, আমি তোমাকে ফেরত দেবো…কথা বলে নিজে আমি তোমাকে ফেরত দেবো…যদি নিয়ে থাকে ওরা। কোন কাগজে সই নিয়েছে। তোমার মোবাইল কোর্টের ইয়াতে সই ছিল, বুঝছো।’ আরিফ এসময় বলেন, ‘আমার চোখ বাঁধা অবস্থায় চারটা সই নিয়েছে।’ প্রত্যুত্তরে ডিসি বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের আদেশে তোমার সই নিয়েছে। ওটা মোবাইল কোর্টের ইয়াতেই। আচ্ছা, যাই হোক এখন ঘটনা যেভাবে ঘটে গেছে, যা ঘটেছে তুমিও ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেইখো। আমি নিজেও আসলে অনুতপ্ত। তুমি একটু রেস্ট নাও। যাও। থাকো। নিরিবিলি একটু থাকো, ঠিক আছে।’

http://picasion.com/ আরিফুল ইসলাম রিগান এসময় এনকাউন্টার দেওয়ার মতো অপরাধ করেছেন কিনা তা ডিসির কাছে জানতে চান। প্রত্যুত্তরে ডিসি সুলতানা পারভীন বলেন, ‘এনকাউন্টারের মানসিকতা আসলে আমাদের ছিল না। ওইভাবে ছিল না।’ আরিফ ডিসিকে বলেন, আপনি আমাকে একদিন ডাকতে পারতেন, আমি কি আসতাম না? এর উত্তরে ডিসি বলেন, ‘না, সেটা আসতা। এখনও আসবা, সমস্যা নাই। এখন ধরো যে, কষ্ট তো তুমিও পাচ্ছো, কষ্ট আমিও…হয়ে গেছে যেটা, এটা এদিকে দেখতে হবে একটু পজিটিভলি। এটাই বলার জন্য…।’

ডিসি আরিফের কাছে কী ইচ্ছা জানতে চাইলে আরিফ এসময় ডিসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তারা কী উদ্দেশ্যে এই কাজটি করলেন এটা আমার জানা বাঞ্ছনীয়। এবং তারা আমার চারটি কাগজে সই নিয়েছে, কেন নিয়েছে এটা আমার দেখতে হবে। আমার দুই নামেই সই নিয়েছে তারা। এবং আমি আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত।’ প্রত্যুত্তরে ডিসি বলেন, ‘তোমার ভবিষ্যৎ নিয়ে এতটা চিন্তিত হওয়ার কিছু নাই। চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে, ভালো থাকবা ইনশাল্লাহ।’

মিডিয়ায় ডাকতে পারে জানালে ডিসি বলেন, ‘এখন কি করতে চাচ্ছো? আমি যেটা বলবো যে এখন মিডিয়াকে অ্যাভয়েড করে থাকো। যাও। দেখা যাক আল্লাহ ভরসা। আমরাও তোমার পাশে আছি আর কী।’

আরিফ এসময় আবার চোখবাঁধা অবস্থায় স্বাক্ষর করা কাগজের প্রসঙ্গ তুললে ডিসি বলেন, ‘ঠিক আছে আমি খোঁজ নিয়ে দেখি। এটাতো মোবাইল কোর্টের নির্দেশনাতেই ছিল। অন্য কিছুতে নেয়নি। আর তোমার বিষয়ে অত ইয়া তো আমাদের…যাই হোক…ঘটনাটা ঘটেছিল।’

মামলা প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, ‘তোমার মামলা প্রত্যাহার করে দেবো, সমস্যা নাই। একটু সময় দিও। একটা দুইটা শুনানির সময় লাগবে। তোমার চাকরির ব্যাপারেও আমি দেখবো। চাকরির ব্যাপারে কোনও টেনশন করো না।

সূত্র : সময় টিভির সৌজন্যে

372 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন