Chandpur report chandpur 2

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চাঁদপুর স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যাপক প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিনিধি :

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের আশংকায় ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে চাঁদপুর স্বাস্থ্য বিভাগ। এই ভাইরাস আক্রান্তের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

 জানাযায়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তর আশংকাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে  বাংলাদেশকে রিস্ক ঘোষনা করা হয়েছে।  তারই প্রেক্ষিতে ভাইরাসে প্রতিরোধ ও তার সুরক্ষা রক্ষায়  সরকারের নির্দেশনায় সাড়া দেশের সাথে চাঁদপুরেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়। জেলা ও উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি  বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে ১ টি করে আইসোলেশন ওয়ার্ড রাখার নির্দেশ দিয়েছে চাঁদপুর স্বাস্থাসেবা বিভাগ।

এছাড়াও যদি কোন লোক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন তাদেরকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীর পরিবার ও তাদের আশে পাশের লোকজনদেরকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় দেয়া হবে। যাতে করে তারাও ভাইরাসে আক্রান্ত না হন। করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সচেনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার প্রচারনা করতে বেশ, কয়েকবার আলোচনা, বৈঠক করেছে চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় কর্তৃপক্ষ।

http://picasion.com/

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্ল্যাহ জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রত্যেকটা উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে ৩ টি করে করোনা ভাইরাস  সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ আইসোলেশন ওয়ার্ড রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সাথে সেপ্টি মার্স্ক ও হ্যান্ড ক্লাপস রাখা হবে। এ

ছাড়া জেলা এবং প্রত্যেকটি উপজেলায় ১টি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলার কমিটিতে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে জেলা প্রশাসক ও সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন সিভিল সার্জন। আর বিভিন্ন উপজেলার কমিটিতে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন এবং সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন নিজ নিজ উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা।

এসব কিমিটি গুলোর উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন নিজ নিজ এলাকার এমপিগন। শুধু চাঁদপুর সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষই নয়,   এই ভয়ানক ভাইরাস প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিয়েছেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।

হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে হাসপাতালের আওতাধীন পার্শ্ববর্তী তৃতীয় তলার ভবনের নিচ তলায় ৬ টি বেডের একটি  আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। সেখানেও ৬ জন রোগীকে একসাথে সেবা দেয়া যাবে। একই সাথে থাকছে সেপ্টি মার্স্ক, হ্যান্ড ক্লাপস সহ নানা চিকিৎসা সামগ্রী। তবে এ ভাইরাস প্রতিরোধে তেমন বিশেষ কিছু শেখার না থাকায় কোন প্রকার প্রশিক্ষন গ্রহন করা হয়নি। যদি কেউ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তাহলে তাদের চিকিৎসা সেবার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপতালে করোনা ভাইরাস  সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তত রয়েছে।

একই সাথে চাঁদপুরের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতেও ১টি থেকে ২টি করে বেড রাখার নির্দেশনা দিয়েছে চাঁদপুর সিভিল সার্জন। প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোর মধ্যে বলা হয়েছে যেসব হাসপাতাল গুলো ১০টি বেডের তারা ১টি করে বেড রাখার এবং যেসব হসপাতাল ২০টি বেডের তারা ২টি করে আইসোলেশন বেড রাখার জন্য।

খবর নিয়ে জনা গেছে ইতি মধ্যে চাঁদপুর সেন্ট্রাল প্রাইভেট হাসপাতাল ও কর্ণফুলি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিভিল সার্জনের নির্দেশনা অনুযায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করে রেখেছেন। সেন্ট্রল, কর্ণফুলি ও বারাকা হাসপাতাল সহ হাতেগনা ৩/৪টি হাসপতাল এছাড়া অন্যান্য প্রাইভেট গুলো এখনো তেমন কোন প্রস্তুতি গ্রহন করেনি।

চাঁদপুর সিভিল সর্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্ল্যাহ জনান, বাংলাদেশে এখনও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও এ ভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই জন্য চাঁদপুরে যদি কোন ব্যাক্তি করোনা ভইরসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন তাদের চিকিৎসা সেবার জন্য সিভিল সার্জন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন। তিনি জানন, করোনা ভাইরাসটি মহামারি তেমন কিছুই না। এটি সর্দি কাশির মতোই। তবে এই ভাইরাসে বিদেশে বেশির ভাগ বয়স্ক লোকই আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের শরীরের পেশার, ডায়বেটিক, শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগ থাকে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম থাকে তারাই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তবে এর থেকে মুক্ত থাকতে হলে সবইকে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।

করোনা ভাইরাস থেকে বচাঁর উপায়ের পরামর্শ দিয়ে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এমও) ডাঃ এ এইচ এম সুজাউদৌলা রুবেল বলেন, ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ক্ষনে, ক্ষনে হাত ধোঁয়া, জন সমাগম থেকে ধুরে থাকতে হবে। এবং যারা বিদেশ থেকে দেশে আসেন তাদের অন্তত ১৪ দিন বাহিরে বের না হয়ে ঘরে থাকতে হবে। একই সাথে দেশ থেকে বিদেশে যাওয়া এবং আসা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবেই এই করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কম থাকবে।

116 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন